একুশের কণ্ঠ অনলাইন:: ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু সর্বমোট ১১০৪ কিলোমিটার সড়কপথের মধ্যে আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে। প্রথমবারের মতো ঢাকা থেকে ‘শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস’-এর বাস ছাড়বে নেপালের উদ্দেশে।

মোটর ভেহিকল এগ্রিমেন্ট (এমভিএ) চুক্তির আওতায় ভারত-বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে দুইটি বাস চালু হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। ঢাকা থেকে বাস দুই’টি ছাড়বে। পরদিন ২৪ তারিখ সীমান্ত পেরিয়ে সেই বাস এসে পৌঁছবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে। বাস দুইটিকে স্বাগত জানাতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার

বিআরটিসি সূত্র জানায়, ২৩ এপ্রিলের পর সরাসরি যে বাস সার্ভিস চালু হবে তাতে সাধারণ যাত্রীরা খুব সহজেই নেপাল যেতে পারবেন। স্বাভাবিকভাবে ভারতের মাল্টিপল ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা নিয়ে যেতে হবে। তবে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হতে পারে। এক্ষেত্রে শুধু পাসপোর্ট দিয়ে অন-অ্যারাইভাল ভিসার মতো একটি পদ্ধতিতে এ ভ্রমণ হতে পারে। ২৩ এপ্রিল সকাল ৯টায় ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস-এর দুটি বাস যাত্রা শুরু করবে। হুন্দাই কোম্পানির প্রতিটি বাসে ২৮ সিট রয়েছে। এরপর ২৩ এপ্রিল রাতে রংপুরে রাত্রিযাপন করা হবে। ২৪ এপ্রিল সকালে বাংলাবান্ধা বর্ডার দিয়ে শিলিগুড়িতে ঢুকবে বাস। পরদিন ২৫ এপ্রিল সকাল ৮টা নাগাদ শিলিগুড়ি থেকে বাস দুইটি যাত্রা শুরু করে ভারত (পানিট্যাঙ্কি)-নেপাল (কাঁকরভিটা) সীমান্ত পেরবো এবং নেপালের ডামাক হয়ে ২৬ এপ্রিল বাস দুইটি পৌঁছবে কাঠমান্ডুতে।

সূত্র আরও জানায়, বাস দুইটিতে ২৩ বাংলাদেশি, ১১ জন নেপালি ও ৮ জন ভারতীয় যাত্রী থাকবে, এই যাত্রীদের মধ্যে তিন দেশেরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও থাকবেন। যাত্রী হিসাবে থাকবেন এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এডিবি)-এর কয়েকজন সদস্যও। কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর পরই সরকারি কর্মকর্তারা সড়কসহ যাত্রীদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা নিয়েও আলোচনা করবেন। সূত্রে খবর ট্রায়াল রানের পরই বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া-নেপাল তিন দেশ নিজেদের মধ্যে নিয়মিত বাস চলাচলের ব্যাপারে কাঠমান্ডুতে প্যাসেঞ্জার প্রোটোকল সম্পর্কিত একটি চুক্তি হতে পারে

বর্তমানে ঢাকার লালমনিরহাট-বুড়িমারি-চ্যাংরাবান্ধা-শিলিগুড়ি হয়ে কাঠমান্ডুতে যেতে হয়। কিন্তু নতুন এই যাত্রাপথ হবে রংপুর-বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি-শিলিগুড়ি-পানিট্যাঙ্কি-কাঁকরভিটা-কাঠমান্ডু। এতে প্রায় ১০০ কিলোমিটার যাত্রাপথ কমে যাবে। নিয়মিতভাবে বাস চলাচল শুরু হয়ে গেলে গোটা পথ অতিক্রম করতে আনুমানিক ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে

বণিকসভা কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাট্রিজ (সিআইআই)’এর বেঙ্গল চ্যাপ্টারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কমল কুমার মিত্তাল জানান, নতুন এই যাত্রাপথের শুরু হলে দার্জিলিং’এর পর্যটন শিল্প আরও চাঙ্গা হবে। কারণ বাংলাদেশের মানুষের কাছে দার্জিলিং বরাবরই আকর্ষণের জায়গা। তাছাড়া এই বাস চলাচলের সঙ্গে এই দেশগুলির অর্থনৈতিক সম্পর্কও জড়িয়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের জুনে থিম্পুতে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপালের মধ্যে গাড়ী চলাচলের বিষয়ে চুক্তি হয়। বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল এই চুক্তিতে সমর্থন জানালেও ভুটান সংসদের উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠের আপত্তির মুখে চুক্তিটির রেটিফিকেশন প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। ভুটানের ধারনা এ এধরনের আঞ্চলিক সড়কের ফলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হলেও পরিবেশগত ঝুঁকি থেকে যায়। এরপর আপাতত ভুটানকে বাদ দিয়েই বাকি তিন দেশ নিজেদের মধ্যে পরীক্ষামূলক ভাবে গাড়ি চলাচলের বিষয়ে সম্মত হয়।