আন্তর্জাতিক ডেস্ক::

জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী পদে থেকে ২ হাজার ৮৮৭ দিন কার্যক্রম পরিচালনা করে এই ইতিহাস গড়ছেন তিনি। এর আগে এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন তারো কাৎসুরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

৬৫ বছর বয়সী শিনজো আবে ২০১২ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হন। নির্বাচন, আইন লঙ্ঘন ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হলেও এত বছর ধরে টিকে আছে আবের সরকার।

এর আগেও একবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন আবে। সেটি ২০০৬ সালে। কিন্তু বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারেননি তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর জনপ্রিয়তায় ব্যাপক হ্রাস, এর বিরূপ প্রভাবে সংসদের উচ্চকক্ষ নির্বাচনে দলের পরাজয়, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের দুর্নীতি, নিজের দুর্বল শরীর—সব মিলিয়ে মাত্র এক বছর পরই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। তবে ২০১২ সালে অন্য রকমভাবে ফিরে আসেন আবে। সংবিধানকে সংশোধন করার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী সামরিক ও পুনর্গঠিত অর্থনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে আবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আবে।

এক সাক্ষাৎকারে আবে বলেন, ‘নীতিগত সমস্যাগুলো আমি আমার হৃদয় ও আত্মা দিয়ে মোকাবিলা করতে চাই। পাতলা বরফের ওপর পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে চলার মতো অনুভূতি দিয়ে। আমি যে মন নিয়ে শুরু করেছিলাম তা ভুলে যাব না।’

এই দীর্ঘ মেয়াদের শাসনে কূটনৈতিক ক্ষেত্রেই বেশি সফল আবে। এ সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর উষ্ণ সম্পর্কের কারণে বাণিজ্য বিরোধের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়াতে পেরেছে দেশটি। তবে রাশিয়ার সঙ্গে আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে সামান্য অগ্রগতি আনতে পেরেছে তাঁর সরকার। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও কিছুটা শীতল সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

২০১২ সালে আবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে জাপানে খুব ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন হচ্ছিল। ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে আবেসহ সাতজন প্রধানমন্ত্রী পায় জাপান। আবে দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থিতাবস্থা আসে।

জাপানের গণমাধ্যমের করা জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ মানুষ আবের অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তবে ৪৪ শতাংশ সমর্থন সব সময়ই রয়েছে আবের।