আন্তর্জাতিক ডেস্ক::

তাজিকিস্তান-উজবেকিস্তান সীমান্তে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজন তাজিকিস্তানের এবং বাকি ১৫ জন উজবেকিস্তানের হামলাকারী বলে কর্তৃপক্ষের বরাতে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

তাজিকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দুকধারীদের হামলায় তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক সদস্য এবং এক পুলিশ সদস্য নিহত হলে তারা পাল্টা প্রতিরোধে গুলি করা শুরু করে। এতে ১৫ জন হামলাকারী নিহত হয়। এছাড়া আরও পাঁচ হামলাকারীকে আটক করেছে তারা।

তাজিকিস্তান জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে মুখোশ পরিহিত একদল অস্ত্রধারী সীমান্তের তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায়। সীমান্তরক্ষী বাহিনী সেই হামলা প্রতিহত করেছে। তাতে ১৫ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে। তবে গোলাগুলিতে তাদের দুজন নিরাপত্তারক্ষীও নিহত হয়।

রুশ গণমাধ্যম তাস এক প্রতিবেদন অনুযায়ী তাজিকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাজধানী দুশানবে থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ঘটনাটি ঘটেছে। তল্লাশি চৌকিতে হামলাকারী মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্য। তারা আফগানিস্তানের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মধ্য এশিয়ার তাজিকিস্তান রুশ ফেডারেশনের সবচেয়ে গরীব দেশ। প্রতিবেশী আফগানিস্তানে আইএসের নিয়মিত হামলার কারণে দেশটিও বেশ ঝুঁকিতে রয়েছে। গত বছর দেশটিতে ভ্রমণে গিয়ে চার জন পশ্চিমা পর্যটক হত্যার শিকার হন।

এছাড়া চলতি বছরের মে মাসে দেশটির এক কারাগারে দাঙ্গায় ৩২ জন কয়েদি নিহত হয়। যার মধ্যে ২৪ জন জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের সদস্য। কারাগারের ওই দাঙ্গায় প্রথমে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পরে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে।