নড়াইল প্রতিনিধি::

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার এড়েন্দা গ্রামে অসুস্থ গাভী জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত কসাইদের বিরুদ্ধে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

গুঞ্জন উঠেছে, বুধবার দুপুর ১টার দিকে অভিযুক্তরা লোহাগড়া থানায় উপস্থিত হয়ে ওসি (তদন্ত) আমানুল্লাহ আল বারীকে ১৩ হাজার টাকায় মীমাংসা করেছেন। এ ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল বারী বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে বলেন, তারা থানায় উপস্থিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে গেছেন।

জানা যায়, গত ২৪ মার্চ দুপুরে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার এড়েন্দা গ্রামের আবু বক্কারের বাড়ির পাশে অসুস্থ গাভী জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টা করেন দুই কসাই। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কসাইদারসহ সংশিষ্টরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর বুধবার দুপুরে একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় কসাই দেলবার (৩৫) কসাই হিমায়েত ঠাকুরসহ (৫০) অসুস্থ গাভীর মালিক আবু বক্কার লোহাগড়া থানায় এসে ১৩ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, জনসাধারণের মাঝে বিক্রির জন্য মঙ্গলবার দুপুরে অসুুস্থ ওই গাভীটি জবাই করা হয়। প্রায় তিনমাস আগে বাচ্চা দেয়ার পর গাভীটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবুও জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টা চলছিল।

এ খবর পেয়ে লোহাগড়া থানার নবাগত ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জবাইকৃত গাভী ফেলে দুই কসাইদার পালিয়ে যায়। এরা হলো-পাশের পদ্মবিলা গ্রামের ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে কসাই দেলবার (৩৫) ও নিরু ঠাকুরের ছেলে কসাই হিমায়েত ঠাকুর (৫০)।

এ সময় কসাইদের সহযোগী জান্নাত মোল্যাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, এড়েন্দা গ্রামের আলহাজ¦ আবু বক্কারের কাছ থেকে গাভীটি কেনা হয়েছে। এদিকে স্থানীরা জানান, অসুস্থ গাভীটি মাত্র ১২ হাজার টাকায় কিনেছেন কসাইদাররা। এই গাভীটির শরীরে ঘাঁসহ বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছিল। এ অবস্থায় গাভীটি জবাই দেয়া হয়। এছাড়া তারা প্রায়ই অসুস্থ গাভী কিনে এড়েন্দা হাটসহ আশেপাশে জবাই করে মাংস বিক্রি করে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

অন্যদিকে, লোহাগড়া থানার ওসির উপস্থিতিতে আবু বক্কারের বাড়ির পাশে জবাইকৃত গাভীর মাথা, চামড়াসহ মাংস মাটিতে পুতে ফেলা হয়েছে। তবে বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।