নিজস্ব প্রতিবেদক::

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণে সব বোর্ডেই অসংখ্য ভুল ধরা পড়েছে। পরিবর্তন হয়েছে বহু পরীক্ষার্থীর ফল। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর এ চিত্র দেখা গেছে। গত পরশু ও গতকাল ঢাকা বোর্ডসহ ১০ বোর্ডে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা-২০১৯-এর খাতা পুনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে সব বোর্ড মিলে চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী। ফেল করার পর খাতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিটি বোর্ডেই পাস করেছে বহু শিক্ষার্থী। অন্যদের বিভিন্ন গ্রেডে ফল পরিবর্তন হয়েছে। ১০ বোর্ডের মধ্যে এবারো সবচেয়ে বেশি ফল পরিবর্তন হয়েছে ঢাকা বোর্ডে। এর কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ বোর্ডে পরীক্ষার্থী সবচেয়ে বেশি, তাই ভুলের হারও বেশি।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, জিপিএ ৫ পান ৪৭ হাজার ২৮৬ জন। পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল নিজ নিজ বোর্ডের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।

১০ বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে ১৪৫ পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছেন। ফেল থেকে পাস করেছেন ২৮৯ জন পরীক্ষার্থী। মোট ৫২ হাজার ৯৮৪ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এক হাজার ৫৮৬ জনের। চট্টগ্রাম বোর্ডে পুনঃনিরীক্ষায় ফল পরিবর্তন হয়েছে ৩৬৫ পরীক্ষার্থীর। ২৪ জন নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছেন। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৯৭ জনের। ফেল থেকে পাস করেছেন ৪৭ পরীক্ষার্থী। চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান বলেন, ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থী ৫৪ হাজার ২৭৫টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেছিলেন। অকৃতকার্যদের মধ্যে ২১ পরীক্ষার্থী নম্বর পরিবর্তন হলেও তারা উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

পুনঃনিরীক্ষণে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ৬৬ পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। ফল পুনঃনিরীক্ষণে নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪৪ জন শিক্ষার্থী। রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন ছয় হাজার ৭২৯। পুনঃনিরীক্ষণে সিলেট বোর্ডের ১৬ পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ছয়জন শিক্ষার্থী। বরিশাল বোর্ডে পুনঃনিরীক্ষণে আট পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন জিপিএ ৫ পেয়েছেন চারজন পরীক্ষার্থী। এ বোর্ডে পাঁচ হাজার ৩৯০ পরীক্ষার্থী ১৬ হাজার ৭৮৫টি পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন, যার মধ্যে ৪৮ জনের ফলাফলে পরিবর্তন হয়েছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করে ২৯ পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। পুনঃনিরীক্ষণে নতুন জিপিএ ৫ পেয়েছেন ছয়জন শিক্ষার্থী। এ বোর্ডে ১৩৬ পরীক্ষার্থীর ১৪৩টি খাতার নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল করা ২৯ শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছেন। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৬২ পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৬ শিক্ষার্থী। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায়ও ১৫ পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৯ জন পরীক্ষার্থী।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো: কামাল উদ্দিন জানান, পুনঃনিরীক্ষণ শেষে গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ৬৩ শিক্ষার্থীর। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছেন ১৫ জন, নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৯ এবং গ্রেড বেড়েছে ৩৩ পরীক্ষার্থীর। এ বছর আলিম পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তিন হাজার ২০৪ পরীক্ষার্থী সাত হাজার ৪০৫টি খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন।

বোর্ডগুলোর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের সাথে পুনঃনিরীক্ষণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা নয়া দিগন্তকে বলেন, পুনঃনিরীক্ষণে সাধারণত খাতার ওএমআর শিটের চারটি দিক দেখা হয়। এগুলো হলো উত্তরপত্রে সব প্রশ্নের সঠিকভাবে নম্বর দেয়া হয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক রয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বর ওএমআর শিটে ওঠানো হয়েছে কি না এবং প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটে বৃত্ত ভরাট ঠিক আছে কি না। এসব বিষয় পরীক্ষা করেই পুনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। তারা বলেন, পুরো উত্তরপত্র আবার মূল্যায়নের কোনো সুযোগ পুনঃনিরীক্ষণে নেই। এর জন্য এ-সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার সংশোধন করতে হবে। এটি নীতিনির্ধারকদের কাজ।