ফরিদপুরে ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধি ও ক্লিনিক দালালদের দৌরাত্ম চরমে

শাহজাহন হেলাল,ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি::

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রো ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধি (রিপ্রেজেনটেটিভ) ও স্থানীয় ক্লিনিকের দালালদের দৌরাত্ম দিনদিন বেড়েই চলেছে। এই সব প্রতিনিধি ও দালালদের কারণে হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসা রোগিদের হতে হয় নাজেহাল। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই সব প্রতিনিধি ও দালালরা পুরো হাসপাতালটি দখল করে রাখেন। হাসপাতালের ভিতর সরকারী কোয়ার্টারে ডাক্তারদের চেম্বারে গিয়ে দেখা যায় রোগির চেয়ে ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা বেশি। কোনো রোগি ডাক্তার দেখিয়ে চেম্বার থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা তার প্রেসক্রিপশন নিয়ে টানাটানি করেন।

অপরদিকে কোন পরীক্ষা দেওয়া হলে তখন বিভিন্ন ক্লিনিকের দালালরা রোগিকে নিয়ে টানাটানি শুরু করেন। এতে পড়তে হয় রোগিদের নানা সমস্যায়। ডাক্তাররা ক্লিনিক থেকে পরীক্ষার জন্য কমিশন পাওয়ার কারণে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা দেন বলে রোগির অভিযোগ রয়েছে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিটি ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে বিলাস দ্রব্য পর্যন্ত দেন ওষুধ লেখার জন্য। মাস শেষে সম্মানী হিসেবে নগদ টাকাও দেন। স্যাম্পল হিসেবে ওষুধতো আছেই-যেগুলো মাস শেষে ফার্মেসীতে বিক্রি করেন। ডাক্তারদের মাঝে মধ্যে ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের মোটরসাইকেলের পিছনে বসে যেতে দেখা যায় বিভিন্ন জায়গায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ক্লিনিক ব্যবসায়ীর সাথে জড়িত ব্যক্তি বলেন, ডাক্তারদের শতকরা ৪০ থেকে ৬০ টাকা কমিশন দিতে হয় প্রতিটি পরীক্ষা থেকে। সেই কারণে ক্লিনিকগুলোকে বেশি টাকা নিতে হয় প্রতিটি টেস্টের জন্য। আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে ৪শ থেকে ৬শ টাকা নেওয়া হয়। কয়েকজন রোগি জানান, জ্বর নিয়ে এসেছিলাম আমাকে ৮টি পরীক্ষা দিয়েছে। এদিকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে রোগিকে সেবা দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অনেক আগে থেকেই।

এ ব্যাপারে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস বিশ্বাস বলেন, আমার অফিস চলাকালিন সময়ে ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধি ও ক্লিনিকের প্রতিনিধিরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে আসেনা। জরুরী বিভাগে চিকিৎসা সেবা দিয়ে কোন টাকা নেয়া হয় না। আমাদের হাসপাতালের নিজস্ব কোন গাড়ি না থাকায় বিভিন্ন সময়ে ওষুধ কোম্পানীর গাড়িতে আমাকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়।