শাহজাহান হেলাল, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি::

ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার হাসপাতাল রোডের পূর্বপাশে রেলের জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামচুদ্দিন মিয়া ঝুনু বিরুদ্ধে। জেল নং ১১৪ শিবপুর মৌজা, টিপি মাইল নং ২৭০ এর ৭ হইতে ২৭০ এর ৮ পর্যন্ত এ ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। জমির পরিমাণ এক একর। এ পর্যন্ত মোট ৬টি পজিশন বিক্রি করেছেন তিনি। প্রতিটি পজিশন ৪ লাখ টাকা করে বিক্রি করেছেন।

সরোজমিনে ঘুরে জানা যায়, কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া সেকশনের বোয়ালমারী ৮ নম্বর কেবি সেকশনের আওতাভুক্ত ওই এলাকা। অত্র রেল স্টেশন এলাকা সংলগ্ন বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পূর্ব পাশে রেলের জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে ডোয়া পাকা করে ঘর তোলেন তিনি। বর্তমানে ওই পজিশন বিক্রি করছেন। প্রতিটি ঘর আধা শতাংশ জমির উপর নির্মাণ করা হচ্ছে। ওই জমির উপরের ঘর পজিশন আকারে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। পাশের আরো ফাঁকা জমি বালু দিয়ে ভরাট করে ঘর উত্তোলন কাজ চলছে।

ইতিমধ্যেই যারা ওই পজিশন কিনেছেন তারা হলেন- ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা তিনটি, ডা. কাজী মশিউল আলম একটি, মো. রাজা মিয়া, রাজা ফার্মেসীর নামে একটি, লিটন মিনা দুইটি। ক্রয়কারীরা ওই জমির উপর আরসিসি পিলার দিয়ে পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। এমনকি রাতের আধারেও ওই সব ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু ১৯৮৬ সালের জুন মাসের পরিপত্র অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের রেলওয়ের স্থায়ী বন্দবস্ত নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বে ক্ষতিপূরণ লাইন্সের খাজনা নেওয়া ও দেওয়া বন্ধ রয়েছে। কারণ রেলওয়ে কোম্পানী অন্য একটা এক্সটেশন থাকতে রেলওয়ে কোম্পানী এখনও দায়িত্ব বুঝে নেইনি।

পজিশন ক্রয়কারী ডা. মশিউল আলম বলেন, আমি সামচুদ্দিন মিয়া ঝুনুর কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা দিয়ে একটি পজিশন কিনেছি। আমাকে ওই পজিশন লেখে দেওয়ার কথা কিন্তু দিচ্ছে না। যদি রেল কোম্পানী এখান থেকে সবার ঘর ভেঙ্গে দেয়। আমারটাও দেবে। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামচুদ্দিন মিয়া ঝুনু বলেন, ওই জমি রেলের কাছ থেকে বাণিজ্যিকের জন্য বন্দবস্ত নিয়েছি। বর্তমান হাল সন পর্যন্ত আমার বন্ধবস্ত নেওয়া আছে। পজিশন বিক্রির বিষয়টি সত্য না।

এ ব্যাপারে রাজবাড়ী রেলওয়ের ভূমি (কাননগো) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমরা সরেজমিনে লোক পাঠিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব। যদি রেলওয়ের জমির উপরে ভবন নির্মাণ করা হয়। তাহলে ওই ভবন ভেঙ্গে ফেলার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া রেলের জমি দখল করার অপরাধে মামলাও করা হবে।

রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের (কুষ্টিয়া) দায়িত্বে থাকা আইডব্লিউ মো. হাফিজুল রহমান বলেন, রেলওয়ের জায়গায় কোন পাকা ঘর নির্মাণ করা নিষিদ্ধ। যদি ওই জায়গা বানিজ্যিক ভাবে বন্দোবস্ত নেওয়া থাকে তাহলে সে অস্থায়ী ঘর তুলতে পারবেন। এ ব্যাপারে সরোজমিন তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।