ফিচার ডেস্ক:: ‘সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে/ সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।’ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদ আজো কাছে টানে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষদের। সেই চিরচেনা কপোতাক্ষ আজ আর নেই।

মৃতপ্রায় কপোতাক্ষ আজো আকর্ষণ করে হাজারো মানুষের মন। একসময়ের খরস্রোতা কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্ভরশীল ছিলো তীরবর্তী লাখ লাখ মানুষ। তবে নদের নাব্যতা হ্রাস পাওয়ার ফলে ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছেন অনেকেই। কেউ কেউ আজো আকড়ে ধরে আছেন কপোতাক্ষকে, জীবন-জীবিকার মাধ্যম হিসেবে।

কপোতাক্ষের সেই জোয়ার-ভাটা এখন আর নেই, নেই কোন স্রোত আর বড় বড় মাছের আনাগোনা। তবে সন্ধ্যায় কপোতাক্ষ তীরে বসে সূর্যাস্ত দেখার জন্য ভিড় করে প্রকৃতিপ্রেমীরা। আকাশে বাহারি রঙের ঘনঘটা। গোধূলি লগ্নে সূর্যাস্ত মন কাড়ে প্রকৃতিপ্রেমীর।

কপোতাক্ষের তীরে ঘুরতে আসা খুলনা আজম খান কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী আনিফা প্রথা বলেন, ‘গোধূলি লগ্নে নদীর ওপর সূর্যটাকে খুব সুন্দর লাগে। আকাশটা আরো বেশি আকর্ষণ করে। সব মিলিয়ে প্রকৃতিটা এসময় আরো বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে। গোধূলি লগ্নে বার বার কপোতাক্ষ তীরে যেতে চায় মন।’

তালার গোপালপুর এলাকার সুকুমার দাশ বলেন, ‘কপোতাক্ষের সেই যৌবন নেই। নেই জোয়ার-ভাটা। জেলে সম্প্রদায় এখন ভিন্ন ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছেন। তাছাড়া কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তীরবর্তী বহু মানুষ।’

তিনি আরো বলেন, ‘নদের নাব্যতা না থাকলেও বিকেলে শত শত প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ নদের পাড়ে ভিড় জমায়। কপোতাক্ষের বুকে সূর্যাস্ত উপভোগ করেন তারা। আকাশে মেঘের আনাগোনা না থাকলে আকাশ যেন সৌন্দর্যময় হয়ে ওঠে।’