বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
তপ্ত দুপুরে গ্রামের পথে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হলে গাছের ছায়ায় বসে জিরিয়ে নিয়েছেন অনেকেই। কাজ শেষে গাছের ছায়ায় বসে গল্প মেতে উঠেছেন গ্রামের কিশোর থেকে বৃদ্ধ। গ্রামের রাস্তার পাশেই সুবিশাল প্রাচীন বটগাছের নীচে এমন জটলার দৃশ্যও সবারই চেনা। প্রবল বর্ষনের আঘাতে মাটি ধসে উপড়ে পড়েছে উপজেলার আড়ানী-রুস্তমপুর সড়কের মোমিনপুর এলাকার প্রাচীন বটবৃক্ষটি।

হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও এলাকার নবীণ প্রবীন সবার মনকে গভীরভাবে নাড়া দিয়ে গেছে এই বৃক্ষ। অনেকেই গাছ উপড়ে যাবার কষ্ট সইতে না পেরে মর্মাহত হয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, এটি শুধু একটি গাছ নয়। এলাকার ঐতিহ্য। কয়েকদিনের অতিবৃষ্টির কারণে মুহূর্তের মধ্যে মুছে দিলো এলাকার কয়েকশ’ বছরের ইতিহাস। সেই সাথে বিস্তৃত বটগাছটির দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাখির কলরব, ছায়াঘেরা শীতল পরিবেশও থেমে গেলো। বয়স হলেও গাছটিতে পূর্ণ যৌবনের জৌলুস একটু হারিয়ে যায়নি। কালেরযাত্রা পথের নীরব স্বাক্ষী বৃক্ষটির সুশীতল ছায়ায় যুগ যুগ ধরে ক্লান্তি দূর করেছে অগণিত পথচারী, ভ্যান ও রিকশাচালক।

বহুদূর থেকে এলাকার চিহ্নিত করার মাধ্যম ছিলো বৃক্ষটি। তার চারপাশ ছিলো শাখা-প্রশাখায় ঘেরা। রাস্তার ধারে থাকা এ গাছটির ডালপালা পূর্ণ থাকত সবুজ পাতায়। গাছের নিচে রোদ-বৃষ্টি কিছুই পড়ত না। মাঘের শীতের রাতেও গাছতলায় আবহাওয়া অন্য রকম থাকত। গ্রীষ্মকালে গাছতলা থাকত ঠান্ডা। গাছের মনোরম স্থানে শুয়ে-বসে বিশ্রাম নিত বহু মানুষ। মোমিনপুর এলাকার প্রবীণদের কাছে এটি ছিলো বেশ পরিচিত। সেটি কোথায় এবং কে রোপণ করেন তার সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও অধিকাংশ বাসিন্দার মতে, এটির বয়স আড়াই’শ থেকে তিন’শ বছর।

গত শনিবার (৩০-৯-১৭) রাতে গাছটি উপড়ে যাওয়ার পর অনেকেই এক নজর দেখার জন্য ছুটে যান সেখানে। এলাকার অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, গাছটিকে ঘিরে যেমনি ছিলো কয়েকশ’ বছরের ঐতিহ্য তেমনি আছে কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি বিজড়িত। গাছে যখন ছোট ছোট গোটা আসতো তখন চারপাশ পাখির কলকাকলীতে মুখর হয়ে যেতো। আর গরমের সময় গাছের ছায়া ছিলো পরম প্রশান্তির এক জায়গা। বন বিভাগের অফিসার সত্যনাথ বাবু বলেন,গাছের গোড়ার মাটি কেটে নেওয়ার কারণে অতিবৃষ্টিতে মাটি ধসে গিয়ে গাছের ভার সইতে না পেরে উপড়ে পড়েছে। সোমবার (০২-১০-১৭) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,পথচারিদের দুর্ভোগ এড়াতে রাস্তার উপরের ডাল-পালা কেটে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কাউন্সিলর লিটন আহমেদ জানান, গাছটি রাস্তার উপর উপড়ে পড়ায়, আড়ানি পৌর মেয়রের নের্তৃত্বে ডাল-পালা কেটে দেওয়া হয়েছে। তবে কার অনুমতিতে কাজটি করা হয়েছে, তা তিনি বলতে পারেননি। আড়ানি পৌর মেয়র মুক্তার হোসেনের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বাঘায় সদ্য যোগদানকারি উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো. শাহিন রেজা বলেন, প্রকৃতির বৈরি আবহাওয়ার কারণে গাছটি উপড়ে পড়লেও বিষয়টি কেউ তাকে জানাইনি। তবে উপড়ে পড়া গাছটি নিলাম ডাকের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে বলে জানান তিনি।