ফিচার ডেস্ক:: বলা হয় ইহজগতে মানুষের শেষ ঠিকানা হচ্ছে গোরস্থান। বিষয়টির সাথে যেমন মানুষের আবেগ জড়িত, ঠিক তেমনিভাবে এর সাথেই জড়িয়ে আছে ধর্মীয় সংস্কার। অথচ রাজধানীর রায়েরবাজারের সরকারি গোরস্থানকে পার্ক হিসেবে ব্যবহার করছে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। বেড়াবার উপযুক্ত জায়গা হিসেবে তারা বেছে নিচ্ছে এই গোরস্থানকেই। প্রায় প্রতিদিনই রায়েরবাজার গোরস্থানে দেখা যাচ্ছে দলবেধে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থীদের অবাধ আনাগোনা। আর এদিকে তাদের দেখেও নির্বাক ভূমিকায় নিরাপত্তারক্ষীরা।

রাজধানীর রায়েরবাজারে শহীদ বুদ্ধিজিবী স্মৃতিসৌধের পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে রায়েরবাজার গোরস্থান। দেশের অন্যান্য গোরস্থানের তুলনায় আকারে বেশ বড় এই গোরস্থানটি। চারদিকে যথেষ্ট খোলা জায়গা আছে এটা সত্যি। তাই বলে একে পার্কের বিকল্প ভাবার কোনো সুযোগ আদৌ আছে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। অথচ দেখা গেছে এই গোরস্থানকে অনেকেই ব্যবহার করছেন ঘোরা ফেরা এবং আড্ডার জায়গা হিসেবে। এ নিয়ে গোরস্থান কর্তৃপক্ষেরও খুব একটা মাথাব্যাথা রয়েছে বলে মনে হয়নি।

রায়েরবাজার গোরস্থানে প্রবেশ করতেই দেখা হয়ে গেলো একদল কলেজ শিক্ষার্থীর সাথে। সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলে রাজিতো হননিই, এসময় একজন মেয়ে শিক্ষার্থী ঢাকাটাইমসের সংবাদকর্মীর সাথে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলে এবং গোরস্থান থেকে তড়িঘড়ি করে বের হয়ে যায়।

গোরস্থানের কর্মচারীরা জানায় এই শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই মোহাম্মাদপুরের আলহাজ্ব মকবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী।

গোরস্থানের পাশেই অবস্থিত শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বাদাম বিক্রি করেন মো: মিলন। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, “কবরস্থানেতো হ্যারা প্রায়ই যায়। কত পোলাপান ভিতরে ঢোকে! ছবি তোলে, বিড়ি খায়। কলেজের পোলারা মাইয়ারা আহে, প্রেম করে। দেখার তো কেউ নাই।”

ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে, আলহাজ্ব মকবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, “গোরস্থান ঘুরতে যাওয়ার জায়গা না। কেন আমাদের শিক্ষার্থীরা ওখানে যাবে বিষয়টি অবশ্যই আমরা দেখবো। কলেজ ড্রেসে এবং কলেজ টাইমে তারা ঘুরতে যাবে এটা আমরা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেই না। সুতরাং এ বিষয়ে তাদের ডিপার্টমেন্ট হেডকে অবহিত করা হবে এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

গোরস্থানে শিক্ষার্থীদের কেন প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকাটাইমসের সংবাদকর্মীর উপর চটে যান পাহারারত আনসার সদস্যরা। এ সময় দুই আনসার সদস্য মোসাদ্দেক ও সবুজ এ সংবাদকর্মীকে বলেন, “কে ঢোকে কে বের হয় এটা দেখা আপনার কাজ না। আপনি আপনার কাজে যান। আমাদের কাজ আমরা বুঝি। আপনি যে ক্যামেরা নিয়া ঢুকছেন, আমরা কিছু বলছি? ব্যাস, আপনি যান। পারলে কিছু কইরেন।”

গোরস্থান সংক্রান্ত এসকল অনিয়মের বিষয়ে একেবারেই অবগত নয় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। এ যাবৎ পর্যন্ত কোনো প্রকার লিখিত অভিযোগ সিটি কর্পোরেশনে আসেনি বলে জানান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়নের অতিরিক্ত পরিচালক পারভীন মেহতাব। ঢাকাটাইমসকে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম! গোরস্থানে কিভাবে মানুষ ঘুরতে যায়? এই ভাবনা তাদের মাথায় কিভাবে আসে? এটা কি বোটানিক্যাল গার্ডেন যে ঘুরতে মন চাইলো চলে গেলাম। আমরা সিকিউরিটির বিষয়টা একটু দেখবো। যাতে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করা যায়।”