ফিচার ডেস্ক:: বিশ্বে এখন বছরে নতুন ২৮ হাজার পাইলট চাহিদা রয়েছে। এভিয়েশন সেক্টরে এখন বৈমানিক চাহিদা যা আছে তার সাথে নতুন যুক্ত হলো এই সংখ্যা। খবর : সিএনএন।

এয়ারক্র্যাফট বোইং ফোরকাস্ট হতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী এর সংখ্যা আরো স্পস্ট। সেখানে বলা হয়েছে, ৫৫৮,০০০ জন নতুন এয়ারলাইন্স (কমার্শিয়াল) পাইলট প্রয়োজন হয়ে পড়বে কেবল আগামী ২০ বছরে। যা বছরে ২৮ হাজার পাইলট চাহিদা পূরণে সক্ষম হতে হবে এভিয়েশন সেক্টরের ফ্লাইট স্কুলগুলোতে। একই সাথে বিমান কারিগরি ক্ষেত্রেও একই অনুপাতে চরম সংকট দেখা দেবে এই চাহিদা মেটাতে। এয়ারক্র্যাফট মেইনটেনেন্স ওয়ার্কার প্রয়োজন পড়বে ৬০৯,০০০ জন আগামী ২০৩৪ সাল পর্যন্ত। তথ্য: বোইং প্রজেক্ট।

বর্তমানে আইটি সেক্টরের মত চাকরি ক্ষেত্র সৃষ্টিতে এভিয়েশন সেক্টর এখন বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি ক্ষেত্র। চ্যালেঞ্জিং এ পেশায় পাইলট সংকট এখন আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি। তবে ইতিমধ্যেই সংকটের তীব্রতা শুরু হয়ে গেছে এশিয়ান এয়ারলাইন্সের মধ্য দিয়েই। আমেরিকা, মধ্যপাচ্যসহ সারা পৃথিবীতে এখন পাইলট সংকটে চলছে।

গ্লোবাল অর্থনীতি বৃদ্ধি বাড়িয়ে দিচ্ছে ট্রাভেল সম্ভাবনা। যা নতুন পাইলট ও এয়ারক্র্যাফট মেইনটেনেন্স ক্ষেত্রসহ পুরো এভিয়েশন সেক্টরকে এনে দেবে চাকরির নতুন দিগন্ত। তাছাড়া পাইলট স্কিল গ্যাপ পূরণে কেবল ২২৬,০০০ জন পাইলট প্রয়োজন হবে আগামী ২০৩৪ সাল পর্যন্ত। শুধুমাত্র আমেরিকা ও ইউরোপেই পাইলট চাহিদা এখন ৯৫,০০০। শুধু বোয়িং ৩২,৬০০টি এয়ারক্র্যাফট প্রয়োজন পড়বে আগামী ২০৩৪ সাল নাগাদ। খবর: এয়ারবাস রিসেন্ট ফোর্কাস্ট।

এই নতুন দিগন্তে অপার সম্ভাবনা ও বাস্তবতা তরুণদের হাতে তুলে দিতে বাংলাদেশেও সমানভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই প্রথম কোন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত আমেরিকান নাগরিক আমেরিকার ফ্লোরিডায় গড়ে তুলেছেন ‘অরেঞ্জ উইংস এভিয়েশন’ নামে কমার্শিয়াল পাইলট গড়ার কারখানা। গত ১৪ সেপ্টেম্বরে বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ শাখা উদ্ভোধন হলো। ভারতের নিউ দিল্লিতে রয়েছে এর অপর শাখা। দুবাই শাখা উদ্ভোধনের কাজ চলছে।

ঢাকায় বাড়ি নং-৬৭ (ফ্লাট ৩বি), রোড-১৭, ব্লক-সি, বনানীতে বাংলাদেশ শাখা হতে সরাসরি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী (পুরুষ ও মহিলা) আমেরিকায় ফ্লাইং একাডেমির জন্য ভর্তির সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ শাখার ০১৭০৬-৫৫২৭০৬, ০১৭০৬-৫৫২৮০৬ ও ০১৭০৬-৫৫২৮৬০ এ সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

অরেঞ্জ উইংস এভিয়েশন একাডেমি বাংলাদেশের পাইলট ট্রেইনারদের জন্য একটি ভিন্ন সুযোগ খুলে দিয়েছে। কারণ দেশীয় খরচের চেয়ে অনেক কম খরচে শেষ করতে পারবে কমার্শিয়াল পাইলট ট্রেনিং কোর্স। কেবল একাডেমিক খরচ ৩৫ হতে ৪০ লক্ষ টাকাসহ বাংলাদেশে ২ বছরেরও অধিক সময় নেয় এবং পূর্ণ কোর্সটি শেষ করতে ৫৫ হতে ৬০ লক্ষ টাকা লাগে। অথচ বাংলাদেশ হতে আগত ছাত্র-ছাত্রীদের এই খরচ দাঁড়াবে মাত্র ৪২ লক্ষ টাকা। যেখানে এই একই টাকার ভেতরেই একোমোডেসন, ট্রান্সপোর, বুকস, ফ্লাইং কিটস, ইউনিফর্ম ইত্যাদি সকল সুবিধা থাকবে। যা ইতোমধ্যেই আমেরিকার এভিয়েশন সেক্টরে সাড়া জাগানো প্রভাব ফেলেছে।

পাশাপাশি বাংলাদেশে দুই বছরের পরিবর্তে মাত্র এক তৃতীয়াংশ কম সময় (মাত্র ৮ মাস) নেবে পূর্ণ এ কোর্সটি শেষ করতে। অর্থাৎ ছাত্রজীবন হতে ১৬ মাসের অধিক সময় বেঁচে যাবে। গ্রাউন্ড ক্লাস ছাড়াও মোট ২৯০ ঘণ্টা ফ্লাইং আওয়ার্স থাকবে। যেখানে দেশে পূর্ণ কোর্সটি করতে মাত্র ১৫০ ঘণ্টা ফ্লাইং টাইম দিয়ে থাকে। এখানে বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে এইচএসসি (সাইন্স) জিপিএ ৩.৫/এ লেভেল/জিইডি।

এক হতে পাঁচ বছর সময়ের মালটিবল ভিসা প্রোগ্রাম কার্যকারী হবে এই পাইলট লাইসেন্স পেতে। যা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ সাউথ এশিয়ান ও ইউরোপ ছাড়াও বিশ্বের যে কোন দেশের পাইলট ট্রেইনারদের জন্য একটি স্বপ্নকে সহজলোভ করে তুলল।

বিশ্বের শীর্ষ অত্যাধুনিক এই দেশের প্রযুক্তিগত সর্বাধিক সুযোগ থাকছে এখানে। ফ্লোরিডাসহ পুরো আমেরিকায় অন্যতম অবস্থানে থেকে যাত্রা শুরু করছে অরেঞ্জ উইং এভিয়েশন একাডেমি। এই একাডেমি ফ্লোরিডায় অন্যতম ফ্লাগসিবল রেটিং ট্রেনিং প্রগ্রামে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনারদের সহজে ভিসা প্রসিডিউর প্রথায় স্টুডেন্ট রিক্রুট করবে। আইইএলটিএস স্কোর ৫.৫ হলেই চলবে। যদিও ভিসা প্রসিডিউরে এটি বাধ্যতামূলক নয়।

প্রসঙ্গত, যেখানে অ্যাম্বাসি, মেডিকেল, ইমিগ্রেশনসহ প্রতিটি স্টুডেন্টকে ভিসা প্রসিডিউর-এর সহযোগিতা করতে প্রিপাইলট কোর্স, জব অপার্চুনিটি ও অ্যাম্বাসি প্রিপারেশন কোর্স চালু থাকছে। যা একজন স্টুডেন্টকে পাইলট একসেন্স তৈরি করতে বিশেষ সহযোগিতা করবে।

এখানে কমার্শিয়াল পাইলট কোর্স ছাড়াও আরো ৫টি কোর্স থাকছে। যা হচ্ছে- প্রাইভেট পাইলট কোর্স, ইনস্ট্রুম্যান্টাল রেটিং, সার্টিফাইড ফ্লাইট ইনসট্রাক্টর, সার্টিফাইড ফ্লাইট ইন্সট্রুমেন্ট ইনসট্রাক্টর ও মাল্টি ইঞ্জিন ইনসট্রাক্টর।

প্রশিক্ষণের জন্য একাডেমিতে অন্তর্ভুক্ত থাকছে অত্যাধুনিক সাপোর্ট ফ্লাইং কিটসহ আধুনিক সব এয়ারক্র্যাফট।

একাডেমিতে প্রাথমিকভাবে চার ধরনের ট্রেইনিং এয়ারক্র্যাফট যুক্ত রয়েছে। যেমন: সেসনা-১৫২, সেসনা-১৭২, পাইপার পিএ-৩৪ সেসনা ও পাইপার এ্যারো। এছাড়াও আধুনিক ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রফেশনাল কমার্শিয়াল পাইলট পেশায় যুক্ত হতে প্রশিক্ষণে সিংগেল ও ডবল ইঞ্জিন এয়ারক্র্যাফট যুক্ত থাকছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন হতে পাইলট হবার প্রত্যাশিত ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের শিক্ষা শেষে কেবল মাত্র ল্যটিন আমেরিকা, রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় অর্ধ মিলিয়ন চাকরির সুবিধা পাবে। যা বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টরের পাইলট হওয়া প্রত্যাশিতদের জন্য একটি অপার সুযোগ।