মো. সাদের হোসেন বুলু-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) থেকে॥ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বর্তমান সময়ে ব্যাপক উন্নয় কাজ চলমান রয়েছে। রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী এই উপজেলাটি সারাদেশে কৃষি ভিতিক প্রবাসী অঞ্চল হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করলেও, বিগত সময়ে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত ছিলো এই জনপদটি।

প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজারের ও অধিক ভোটার অধ্যুষিত গ্রামীণ জনপদ খ্যাত এই অঞ্চলে ২০০৯ সাল পযন্ত জনসাধারনের কল্যানে তেমন উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়ন কর্মকান্ড এই উপজেলা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৪ সাল পর্যন্ত সড়ক ও সেতু সংস্কারে মতো কিছু উন্নয়ন কর্মকান্ড চোখে পরলেও যা ছিলো খুব সামান্য বা আংশিক উন্নয়ন।ফলে বিগত দিনে যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই প্রত্যন্ত এলাকার অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগনের মাঝে রয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ।

উপজেলার অধিকাংশ মানুষের দাবী, স্বাধীনতার পরবর্তী ২০০৯ থেকে ১৪ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে মহানগর ঢাকা থেকে মাত্র ৩৫কি.মি দূরে অবস্থিত এই নবাবগঞ্জ উপজেলায়, নদীর ভাঙন প্রতিরোধ, সেতু, কালভার্ট নির্মান, শিক্ষার আধুনিকায়ন, গ্রামীণ গণযোগাযোগ বৃদ্ধিতে কাঁচা ও পাকা সড়কের সংস্কার, বিদ্যুতায়ন, শিল্পসহায়ক অবকাঠামো নির্মাণসহ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা ছিলো বিতর্কিত। ফলে স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও এই জনপদের বাসিন্দারা পার্শ্ববতী উপজেলার চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে আছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর উন্নয়ন অধিকার থেকে পিছিয়ে পরায় এই অঞ্চলের চিত্র ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে দ্বিতীয় বার ক্ষমতা গ্রহণের পর দীর্ঘ দিনের উন্নয়ন বঞ্চিত নবাবগঞ্জ উপজেলার মানচিত্রে যুক্তহয় নতুন নির্মিত সড়ক, সেতু, ভবনসহ গ্রামীণ অবকাঠামো। এই উপজেলার সাথে পার্শবর্তী জেলা ও উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে।
যা এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি বিরাট সাফল্য। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ী সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম ঢাকা-১ আসনের সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর তার নিজস্ব চিন্তা চেতনা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে দ্রুত গ্রাম পর্যায়ে বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন,উপজেলার গ্রাম পর্যায়ে অভ্যান্তরীণ সড়ক সংস্কার, ইছামতি ও কালিগঙ্গা নদীতে বেশ কয়েকটি সেতু নির্মানের কাজ দ্রুত সমাপ্ত হয়। ফলে এই জনপদের মানুষের বহুদিনের কাংক্ষিত স্বপ্ন পূরণের যাত্রা শুরু হয়। মাঝে উপজেলার দৌলতপুরে র্নিমিত হয় ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র যা নবাবগঞ্জবাসীর জন্য গৌরবের বিষয় বলে ধরে নেয়া হয়।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র মতে, ২০০৯-১৪ সাল পর্যন্ত নবাবগঞ্জ উপজেলায় মোট ১৫৭ প্রকল্পর উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হয় ৮৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যায় হয়। পরবর্তি ২০১৪ থেকে ১৭ সাল পর্যন্ত পল্লী সড়ক-কালভার্ট মেরামত কর্মসূচী(মড়নস), বৃহত্তর ঢাকা জেলার অবকঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২(এফঢ়-১১), অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প(ঁহৎ-মফঢ়), ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসন্থান নির্মান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মান, আরটিআইপি-২ প্রকল্প, শিল্পকলা একাডেমী প্রকল্প,দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, উপজেলা ও উনিয়ন সড়কে বড় ধরনের ব্রীজ নির্মান প্রকল্পের আওতায় গৃহীত প্রকল্প, উপজেলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প(জনগুরুত্বপূর্ণ গ্রামীন সড়ক ও হাট বাজার উন্নয়ন ও পূর্নবাসন-তয় পর্যায়ে) তৃতীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প(ঢ়বফঢ়-৩) মোট ১শ ১টি উন্নয়ন প্রকল্পে ১৩২ কোটি টাকা ব্যায় ধরা হয়েছে যা স্বাধীনতা পরবর্তী নবাবগঞ্জের উন্নয়নে সর্বচ্চ ব্যায়। গত ২০০৯-১৪ অর্থ বছরের চেয়ে ২০১৪-১৭ অর্থ বছরে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার ও অধিক এই উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন খ্যাতে ব্যায় হচ্ছে। যা বিগত ২০০৯ ও-১৪ সালের চেয়ে অনেক বেশী।

বর্তমানে এই অঞ্চলের উন্নয়ন ধারা অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনিক আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরী হওয়ায় তৃনমূল পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার লাভ করেছে। উপজেলার প্রতিটি গ্রামের ছেলে মেয়েরা এখন সমভাবে বিভিন্ন বিদ্যালরেয় পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় মেয়েরা শিক্ষা ও চাকুরিতে এগিয়ে আসছে উপজেলা সদরের বিভিন্ন ব্যাবসার সাথেও যুক্ত হচ্ছে তারা। প্রায় ৯৬ ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌছে গেছে যার ফলে গ্রাম্য এলাকাতে সাইবার ক্যাফে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শতকরা ৭৫% মানুষ এখন ইন্টারনেট ব্যাবহার করছে। সামাজিক যোগাযোগ খ্যাত ফেসবুক, ইউটিভ, টুইটার, হোয়াটস অ্যাপ ব্যাবহার করে দেশ বিদেশে স্বজনদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে অধিকাংশ ইউনিয়নের জনগন ই-সেবার আওতায় জন্ম সনদ. পাসপোর্টের ফরম পুরুণ, ভিসাচেকসহ বিভিন্ন অনলাইন সেবা গ্রহণ করছে। কিছু দিন আগেও ছিলো কল্পনার বাহিরে। অধিকাংশ কমিনিউটি ক্লিনিক গুলো প্রাথমিক চিকিৎসা সেবায় জনগনের মধ্যে কাজ করে চলেছে।

স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি ও বিভিন্ন কৃষি পণ্য বিভিন্ন পরিবহনে করে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিয়ে বিক্রি করছে। এছাড়া রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন কাঁচামালের আড়তে নিয়েও বিক্রি করতে পারছে। আবার মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরাও কৃষি পণ্য এলাকা থেকে ক্রয় করে দূর এলাকায় বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে। বিগত সময়ের তুলনায় এই অঞ্চলের সর্ব সাধারনের গড় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। নবাবগঞ্জ ও দোহারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ঢাকা-১ আসনের সাংসদ অ্যডভোকেট সালমা ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, কৃষি ও প্রবাসী অধ্যুষিত দোহার-নবাবগঞ্জ হচ্ছে একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। আগামী দিনে এই অঞ্চলের মানুষের সার্বিক সহোযোগিতা অব্যাহত থাকলে এই এলাকা হবে ঢাকা জেলার উন্নয়নের মডেল।