মো. আলম হোসেন॥ দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় হলুদ সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য এখন চরমে। সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে ব্যবহার করে এক শ্রেণীর অপেশাদার অর্ধশিক্ষিত কর্মবিমুখ চাটুকারা। সাংবাদিক নামধারীদের দৌরাত্ম্য অফিসপাড়া থেকে প্রত্যান্ত গ্রামের সাধারণ মানুষের কর্মজীবনে সৃষ্টি করে চলেছে কান্ডজ্ঞানহীন বিড়ম্বনা।

দুই উপজেলায় মাদকাশক্ত, হকার, মাদক ব্যবসায়ী, ভুমি অফিসের দালাল, কিংবা কোনো দলের চিহ্নিত দাগী ব্যক্তিরাও এখন রীতিমতো সাংবাদিক বনে গেছেন! সাংবাদিক শব্দের সঙ্গে এদের কোনো পেশাদার সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও এরা রীতিমতো এলাকার মানুষগুলোর কাছে মিডিয়ার জাঁদরেল লোক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। এদের অসাধ্য নেই এমন কাজ তারা করতে পারে না বলে নিজেদের ক্ষমতা তুলেও ধরছেন। এরা বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের গন্ডিপার না করলেও প্রতারণার দিক থেকে দারুণ প্রতিভাময়ী। সংবাদপত্রে তাদের কোনো রিপোর্ট প্রকাশ না হলেও এদের পকেটে শোভা পায় মাল্টিকালারের নাম না জানা অখ্যাত বাংলা-ইংরেজী-অনলাইন পত্রিকার পরিচয়পত্র।

ইদানিং কিছু স্থানীয় সাপ্তাহিক পত্রিকায় নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময় সাংবাদিক নিয়োগ করেছেন। ঐসব পত্রিকায় সারাবছর ধরে সাংবাদিক নিয়োগ চলে। তারা নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থের জন্য এসব অপসাংবাদিক নিয়োগ করে তাদের দিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে। কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই সমাজের মর্যাদাশীলদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব সংবাদের প্রতিবাদ করতে গেলে সুচতুর ঐ সাংবাদিকেরা পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ছাপানোর কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সাংবাদিকতার নীতিমালা জানা তো দূরের কথা, একটি রিপোর্ট লেখার যোগ্যতাও নেই এদের। দুই উপজেলায় হঠাৎ গজিয়ে ওঠা এসব সাংবাদিকেরা রীতিমতো কোর্ট-প্যান্ট, টাই লাগিয়ে বাহারি হোন্ডা কিংবা সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে ছুটে বেড়ান উপজেলা সদর সহ অফিস পাড়া থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানে। উদ্দেশ্য একটাই-সহজ সরল মানুষকে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে টাকা ইনকাম করা।

সম্প্রতি একাধিক ব্যক্তি এসব অপসাংবাদিকদের হয়রানির শিকার হয়েছেন। সাংবাদিক পরিচয়দানকারীরা ইংরেজী তো দূরের কথা, বাংলাও লিখতে বা পড়তে পারে না। অথচ এরা পত্রিকার সাংবাদিক তাও আবার অনেকেই ক্রাইম রির্পোটার ও ইংরেজী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের অসাধু কর্তা-ব্যক্তিদের সাথে তাদের গভীর সখ্য। তারা এদেরকে কঠিন সমীহ করে। এদের কাজ সাংবাদিকের লেবেল লাগিয়ে কর্মক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি করা। এসব সাংবাদিক নামধারী কথিতরা কোনো সভা সেমিনারে যান, আয়োজকদের কাছে কিছু পয়সাপাতি হাতিয়ে নেয়ার জন্য। থানার দারোগা বাবুদের সাথে তাদের রয়েছে মধুর সর্ম্পক। মাঝে মধ্যেই তাদের গাড়ির পেছনে তাদের আসামী ধরতে পর্যন্ত যেতে দেখা যায়। এসব দারোগা বাবুদের সোর্স হিসেবেও তারা দারুণ পটু। বিভিন্ন ক্রাইম স্পটের খবরা খবর এরা দারোগা বাবুদের দিয়ে বখরাও পায়। বিভিন্ন যাত্রা জুয়ার প্যান্ডেলে এদের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। উদ্দেশ্য একটাই সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের আর্শিবাদপুষ্ট হয়ে দালালিপনার মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে সুসংহত করা। সংবাদপত্রকে বলা হয়, সমাজের দর্পণ আর সাংবাদিককে জাতির বিবেক কিন্তু এই সব হলুদ সাংবাদিকের জন্য যারা প্রকৃত সাংবাদিক তাদের মর্জাদা দিন দিন ক্ষুুন্ন হচ্ছে। অথচ এভাবে সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে ব্যবহার করে এরা নিত্য প্রতারণা চালিয়ে আসলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।