বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি::

রাজশাহীর বাঘায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল খনন প্রকল্পের মর্শিদপুর নদী হতে নওটিকা খালে মাটি কাটার সময় মালিকানা গাছপালা ও ফসলি জমি কাটার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়াই জোড়পূর্বক গাছপালা ও ফসলি জমি কাটার প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন জমির মালিকদের মাটিচাপা দেয়ার হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। অন্যদিকে খালের নকশা অনুসরণ না করে মাটি কাটার সময় রেকর্ডিয় মালিকানা বাগান ও ফসলি জমি কেটে নিচ্ছেন জোরপূর্বক। নষ্ট করছে মূল্যবান গাছ ও কৃষকের কষ্টার্জিত ফসলি জমি।

সরেজমিনে ও অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়ন ও বাঘা পৌরসভা এলাকায় রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড এর আওতায় জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেচ সুবিধায় খাল খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বরেন্দ্র বহমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এ প্রকল্পে মাটি কাটার কাজে শ্রমিকের পরিবর্তে ব্যবহার করছে ভেকু।

এদিকে রেকর্ডিয় জমির মালিকরা বাগান ও ফসলি জমি কাটার প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন জমির মালিকদের মাটিচাপা দেয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা। জমির মালিক একরামুল,আশসাদুল,ঝর্না,জ্যোস্না জানান, প্রকল্পে খালের নকশা অনুসরণ না করে মাটি কাটার সময় রেকর্ডিয় মালিকানা গাছপালা ও ফসলি জমি কেটে নিচ্ছেন জোরপূর্বক। জমি অধিগ্রহন না করেই নষ্ট করছে জমির মূল্যবান গাছ ও ফসলি জমি। এ বিষয়ে তারা বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোন সমাধান পাইনি। অসহায় বিধবা রহিমা বেওয়া (৬৫) বলেন, ঠিকাদারীতে পার্টনারের লোকেরা আমার একমাত্র সম্পদ ১৮ শতাংশ জমির আমগাছসহ অন্যান্য গাছপালা খাল কাটার নামে কেটে নিয়েছে, কোন ক্ষতিপূরণ পাইনি। জমির মালিক মাজদার রহমান (৫৫) বলেন, পূণঃখননের কথা বলা হলেও আবাদি জমি কাটা হচ্ছে। প্রতিকার না পেয়ে সব মালিক একযোগে খনন কাজ বন্ধ রাখার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নিষেধ করেছেন। অভিযোগে তারা আরো জানান, সরকার কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কোন শ্রমিককে কাজে না লাগিয়ে খনন কাজে ব্যবহার করছেন ভেকু।

এ বিষযে জানতে চাইলে বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপসহকারি প্রকৌশলী খান জাফরুল্লাহ মাহমুদ মেহেদী বলেন, ৮.২ মিটারের খাল পুনঃখনন কাজ করছে ৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে কত টাকার কাজ চলছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,অফিসে এসে জানতে হবে। তবে জমি অধিগ্রহণ করার কোন বরাদ্ধ নেই বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ঠিকাদারি কাজের পার্টনার লিটনের ম্যানেজার আলমগীর বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজাইন অনুযায়ী কাজ চলছে। মালিকানা কিছু জমি নষ্ট হচ্ছে স্বীকার করেন তিনি। এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, খাল খননে বাঁধা দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একদিনের জন্য কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে জমির মালিকানার কাগজপত্র ও আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার প্রমানাদি দেখাতে বলা হয়েছে।