বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি::

বাঘা উপজেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি গমের আবাদ হয়েছে। মাঠ জুড়ে বাতাসে দোল খাচ্ছে গমের শীষ। এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর এলাকার কৃষকরা। তাদের চোখে মুখে বিজয়ের হাসি। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে না পড়লে উৎপাদিত গম তাদের নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করে আর্থিক লাভবান হতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা।

বাউসা ইউপির চকবাউসা গ্রামের কৃষক হাশেম আলী বলেন, এবার গমের আবাদ যথেষ্ট পরিমাণে হয়েছে। বিঘা প্রতি ১৬ থেকে ১৮ মন ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তুলনামূলকভাবে অন্যান্য খাদ্য শষ্যের চেয়ে গমের দাম বেশি হওয়ায় চাষীরা এখন গমের আবাদ বাড়িয়ে দিয়েছে। মণপ্রতি ১৪থেকে ১৫ শ’ টাকায় গম বিক্রি হয়। এবার তিনি রাজস্ব খাতের অর্থায়নে প্রদর্শনী বাস্তবায়নে .৩৩ শতাংশ জমিতে বারি-৩৩ জাতের গম আবাদ করেছেন।

জামাল নামের এক কৃষক বলেন, অন্যান্য খাদ্যশষ্যের তুলনায় গমের আবাদ তুলনামূলকভাবে অনেক লাভজনক। পাঁচ বিঘা গমের আবাদ করেছি। এ ফসলে পোকামাকড়ের উপদ্রবও অনেক কম।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সফিউল্লাহ সুলতান বলেন, এ বছর তাদের গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৬শ’ ৬০হেক্টর জমি। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গমের আবাদ হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কৃষকরা বেশি গমের আবাদ করায় তারা সন্তষ্ট। এ বছর গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। হেক্টর প্রতি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩দশমিক ৬৬ মেঃটন। তিনি আরো বলেন, এই উপজেলার চাষিরা গমের চাষে আগ্রহ হারিয়ে আবাদ কমিয়ে ফেলেছিলেন। বর্তমানে গমের দাম বেশী হওয়ায় আবাদের ক্ষেত্রে কৃষকদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়াতে ভালো কাজ হয়েছে।