তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:: দেশে ফোরজি ইন্টারনেট চালু হয়েছে। কিন্তু সবার কাছে এখনও তা না পৌঁছলেও আইএসপিগুলোর ব্রডব্যান্ড (উচ্চগতি) ইন্টারনেট সেবার সুফল পেতে শুরু করেছেন এর ব্যবহারকারীরা। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো (আইএসপি) এরই মধ্যে গ্রাহকদের ব্যান্ডউইথ প্রায় চারগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে গ্রাহকের খরচ বাড়েনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইএসপিগুলো ইন্টারনেট প্যাকেজ রিডিফাইন্ড করেছে। প্যাকেজের স্লট বাড়ানোসহ গ্রাহকবান্ধব আরও অনেক উদ্যোগ নিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফোরজির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতেই আইএসপিগুলো এই উদ্যোগ নিয়েছে। আর এর ফল ভোগ করতে শুরু করেছেন গ্রাহকরা। তবে সমালোচকরা এ-ও বলছেন, আইএসপিগুলো চাইলে আরও আগেই গ্রাহকদের এই সুবিধা দিতে পারতো। কাজটি না করে বরং তারা পিছিয়ে পড়েছে। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির নেতাদের ভাষ্য— প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার স্বার্থেই এটা করা হয়েছে। আগে করলে বরং গ্রাহকই বুঝতে পারতো না ফোরজির সঙ্গে এর পার্থক্য।

জানা গেছে, এরই মধ্যে আম্বার আইটি, কুমিল্লা অনলাইন, লিংক থ্রি, ট্রায়াঙ্গেল, অপটিম্যাক্স সলিউশন্স ইত্যাদি আইএসপিগুলো প্যাকেজ রিডিফাইন্ড করেছে। দাম ঠিক রেখে গতি (ব্যান্ডউইথ) বাড়িয়েছে। হোম ইউজার তৈরি করতে কম দামে প্যাকেজ অফার করছে। এমনকি ১০০ এমবিপিএস গতিরও প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে, যা আগে ছিল না।

প্রসঙ্গত, দেশে থ্রিজি’র গড় গতি ৩ দশমিক ৭৫ এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড)। আর ফোরজি-তে এই গতি হতে পারে ৭-১০ এমবিপিএস। এদিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি ৫, ১০ থেকে শুরু করে ১০০ এমবিপিএস পর্যন্ত (দেশে ৫ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেটকেই ব্রডব্যান্ড বলা হয়ে থাকে)। ফলে ফোরজি তথা মোবাইল ব্রডব্যান্ডের চেয়ে আইএসপির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে গতি গ্রাহকরা বেশি পাবেন। এদিকে ফোরজি চালু হয়েছে বলেই আইএসপিগুলো চারগুণ গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। এই গতিকেই ‘ট্রুলি ব্রডব্যান্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

জানা গেছে, মোবাইলফোন অপারেটরগুলো ব্যান্ডইউথ কিনে ‘ডাটা ক্যাপ’ করে বিক্রি করে। আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ কখনও মোবাইলফোন অপারেটরগুলো দিতে পারে না। অন্যদিকে আইএসপিগুলো ব্যান্ডউইথ কিনে ব্যান্ডউইথই বিক্রি করে থাকে। এই কারণে আইএসপি ব্রডব্যান্ডের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র হিসাব অনুসারে দেশে বর্তমানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ছিল ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার। যদিও সম্প্রতি এই সংখ্যা অনেক বেড়েছে বলে জানা গেছে।

গ্রাহকদের বেশি অফার দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আম্বার আইটির প্রধান নির্বাহী আমিনুল হাকিম বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে প্যাকেজ রিডিফাইন্ড করেছি। আমাদের এবারের টার্গেট হোম ইউজার তথা বাসা-বাড়ির ব্যবহারকারী। বাসাবাড়ির জন্য আম্বার আইটি ১০ এমবিপিএস থেকে শুরু করে ১০০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট প্যাকেজ তৈরি করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগের দামেই যিনি আড়াই নিতেন তাকে ১০ এমবিপিএস করে দিয়েছি, যিনি ৩ নিতেন তাকে ১২ এমবিপিএস করে দিয়েছি।’

তিনি জানান, বাসাবাড়ির সংযোগে আমরা রিয়েল আইপিও দিচ্ছি। এক প্রশ্নের জবাবে আমিনুল হাকিম বলেন,‘ ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে গ্রাহকদের কম দামে ভালো সেবা ও বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট দিতে হবে। এখন আমরা সেসব দিয়ে বাজার ধরার চেষ্টা করবো।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অফিসে ইন্টারনেট দিয়ে দাফতরিক কাজ চললেও বাসাবাড়ির ইন্টারনেট দিয়ে ‘বাফারলেস’ ইউটিউবে বিনোদন অনুষ্ঠান দেখা, খেলাধুলা উপভোগ করা যাচ্ছে। এছাড়া ফ্রিল্যান্সার ও গ্রাফিকস ডিজাইনাররা তাদের কাজ দ্রুত পাঠাতে পারছেন। টেলিমেডিসিন সেবার সঙ্গে জড়িতরা আরও উন্নতমানের সেবা দিতে পারছেন। এগুলোর জন্য বেশি ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন হওয়ায় আইএসপি ব্রডব্যান্ডই সেখানে নির্ভরতার জায়গা তৈরি করতে পেরেছে।

জানতে চাইলে আইএসপি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন, ‘ফোরজি আসার পরে বরং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের জন্য ভালো হয়েছে। সবাই পার্থক্যটা বুঝতে সক্ষম হয়েছে।’ তিনি মনে করেন, ফোরজি হুমকি নয় বরং আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ‘‘আমাদেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা ব্যান্ডউইথ বেশি দিতে চাই কিন্তু পারি না। ঢাকার বাইরে সমস্যা হচ্ছে বেশি। আমরা তাই প্রতিযোগিতায় না গিয়ে বরং ‘সার্ভিস বেটার’ দেওয়ার চেষ্টা করছি। ফলে গ্রাহকদের জন্য ‘কোয়ালিটি অব সার্ভিস’ ভালো হচ্ছে।’’

আইএসপি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বললেন, ‘এরই মধ্যে আইএসপিগুলোর ব্রডব্যান্ডের ব্যবহার ২০-২৫ ভাগ বেড়েছে, গ্রাহকও বাড়ছে। আমরা এই গতি নিয়ে দেশের প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌঁছতে চাই।’