বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক:: যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি স্ট্যার্টআপ প্রতিষ্ঠান এমন ধরনের ড্রোন তৈরি করেছে, যা রাইফেল ও গ্রেনেড লঞ্চার সহ বিভিন্ন সামরিক অস্ত্র বহন, এমনকি ব্যবহারেও সক্ষম! দূরবর্তী ভাবে চালিত ‘টিআইকেএডি’ নামক এই ড্রোন ২০১৫ সালে ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে পরীক্ষা করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি আরো উন্নত করা হয়েছে, যা লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত ভাবে ফায়ারিং করতে পারে।

এই ড্রোনের ফলে লড়াইয়ের পরিস্থিতিতে সৈন্যের ব্যবহার অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ইসরায়েলের সামরিক কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এই ড্রোন সরবরাহের আদেশ দিয়েছে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী আরো আগে থেকেই ব্যবহার করছে।

ডিউক রোবটিক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীতে ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাজিয়েল আতুয়ার ডিফেন্স ওয়ানকে বলেন, এই ড্রোন দূর থেকে পরিচালনা করা যায় এবং অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি এই ড্রোনের ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে এবং দূর থেকে লক্ষবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে। ‘টিআইকেএডি’ ড্রোন সমুদ্রেও শত্রুর জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

ডিউক রোবোটিক্সের একটি ভিডিওর তথ্যানুসারে, এই ড্রোন শত্রুকে চিহ্নিত করতে পারে এবং সেসব স্থানে কাজ করতে পারে, যেখানে সাধারণত সৈন্যরা পৌঁছাতে পারে না বা যেখানে পৌঁছানোটা সৈন্যদের জন্য বিপজ্জনক।

২০১৫ সালে ডিউক রোবটিক্সের সরবরাহকৃত একটি ড্রোনে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী যখন ৩০ পাউন্ডের রাইফেল পরীক্ষা করেছিল তখন এটি মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য বাতাসে থাকতে সক্ষম ছিল। কিন্তু সেটি অনুন্নত ড্রোন ছিল, বর্তমানের নতুন ডিজাইনকৃত ড্রোন আরো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন।

ডিউক রোবোটিক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাজিয়েল আতুয়ার বলেন, ইসরায়েলের রাস্তায় সংঘর্ষে তার সহকর্মীরা ও বেসামরিক লোক মারা যাওয়ার দৃশ্যের কারণে তিনি ড্রোনটি ডিজাইন করার জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।

২০১৬ সালে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স ‘টিআইকেএডি’ ড্রোনকে তাদের বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে ড্রোনটি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ায়। তবে এই প্রথম যে সামরিক বাহিনীর জন্য ড্রোনকে উন্নত করা হয়েছে তা কিন্তু নয়। এ বছরের জুলাই মাসে মার্কিন বাহিনী একটি পরীক্ষামূলক ড্রোন প্রকাশ করেছিল, যা এই ড্রোনের অনুরূপ।