বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক:: শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেটের প্রত্যয়ে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক মহাউৎসব। আগামী শুক্রবার ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও ফেসবুকের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো দিনব্যাপী এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকার অংশগ্রহণে শিশু-কিশোরদের উপযোগী ইন্টারনেট পণ্য নিয়ে বিশাল এক্সপো ও একইসঙ্গে কনফারেন্স, কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। ৫০টি দেশি-বিদেশি কোম্পানি এবং ১০০টি স্কুলের অংশগ্রহণে এই উৎসবে শিশুদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি, অভিভাবকদের জন্য ইন্টারনেটের পেরেন্টাল কন্ট্রোল টুল নিয়ে ধারণা প্রদানসহ নানা ধরনের সচেতনতামূলক আয়োজন থাকবে।

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একই দিন সমাপনী পর্বে বিকেল ৫টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। ক্রিকেট, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের জনপ্রিয় তারকারাও এই উৎসবে অংশ নেবেন। আর শিশুদের কাছে জনপ্রিয় সিসিমপুর পাপেট শো এবং মিনা কার্টুন তো থাকছেই। উৎসবে শিশুরা কিংবা তাদের বাবা-মাসহ অংশ নিতে পারবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

ইউনিসেফের গবেষণায় দেখা গেছে, সারাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একটা বড় অংশ ১৮ বছরের নিচে বা শিশু কিশোর। প্রতিদিন এক লাখ পঁচাত্তর হাজারের বেশি শিশু প্রথমবারের মতো অনলাইন ব্যবহার করছে। প্রতি আধা সেকেন্ডে একটি শিশু অনলাইন দুনিয়াতে প্রবেশ করছে। একদিকে, এই ডিজিটাল জগতে প্রবেশের সুবিধা যেমন শিশুদের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ তৈরি করছে, ঠিক তেমনি ঝুঁকিও বাড়ছে। ক্ষতিকর কনটেন্ট, যৌন হয়রানি, অপব্যবহার, সাইবার ঝগড়া এবং ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়গুলো চিহ্নিত করে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা জরুরি। পাশাপাশি সরাসরি অনলাইনের ক্ষতি সম্পর্কেও শিশুদের জানাতে হবে।

আয়োজকরা জানান, সর্ববৃহৎ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকদের জন্য ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহারে সচেতনতা প্রাধান্য পাবে। শিক্ষক শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকদের কাছে ইন্টারনেটে বহুল ব্যবহৃত দেশীয় আধেয়/ কনটেন্ট পরিচিত করা হবে।

প্রায় ১০ হাজার ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক, সংশ্লিষ্ট ইন্ডাস্ট্রি লিডারদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সেরা ইন্টারনেট পণ্য প্রদর্শনী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে মুখরিত ও প্রাণবন্ত করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিশু কিশোরদের জন্য ডিজিটাল দুনিয়ার এই বিশাল আয়োজনে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তৈরি শিশু কিশোরদের উপযোগী ইন্টারনেট প্রোডাক্ট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব চ্যানেল, টেলিভিশন চ্যানেল প্রদর্শিত হবে। এতে ইউনিসেফ, সেইফ দ্যা চিলড্রেন, কাইটস বাংলাদেশ, চ্যাম্পস-২১, মাইক্রোটেক ইন্টার‌্যাক্টিভ লি.-বাইনো, সূর্যমুখী, সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারী শিশু কিশোরদের জন্য ইউনিসেফ কর্তৃক সম্মাননা পুরস্কার ও আধুনিক প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিনোদনমূলক আয়োজন থাকবে। এছাড়া নভো থিয়েটারের নির্ধারিত প্রদর্শনীর ব্যবস্থা তো থাকছেই। সারাদিন ব্যাপী শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ আয়োজনগুলোতে অংশগ্রহণে পরিবারের শিশু কিশোরদের সঙ্গে আনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইউনিসেফ ও ফেসবুক।