অস্ট্রেলিয়ায় একটি হত্যাকাণ্ডের সূত্র মিলেছে ঘড়িতে। অ্যাপেলের তৈরি ওই স্মার্ট ঘড়ি থেকে পাওয়া তথ্যপ্রমাণ আদালতে হাজির করেছে পুলিশ। ২০১৬ সালে যখন ৫৭ বছর বয়সী মিরানা নিলসন নামের একজন নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, তখন তিনি অ্যাপলের এই ঘড়িটি পড়া ছিলেন।

তার পুত্রবধূ ক্যারোলিন নিলসন দাবি করেন, তার শাশুড়ি বাইরে থেকে ফেরার সময় একদল লোক তার পেছনে আসে। তাদের সাথে তার কথা কাটাকাটিও হয়। এরপর সেই লোকগুলো বাড়িতে ঢুকে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে। তারাই তার শাশুড়ি মিরানাকে হত্যা করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

কিন্তু অ্যাপল ওয়াচ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যাচ্ছে, বাইরে থেকে ঘরে প্রবেশ করার সময় মিরানার ওপর হামলা করেন ক্যারোলিন নিজেই। তার দাবির সময়ের অনেক আগেই মিরানাকে হত্যা করা হয়।

অ্যাডেলেডের ভ্যালি ভিউর একটি বাড়ির একটি লন্ড্রি রুম থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

অ্যাপলের এই স্মার্ট ঘড়িতে একজন ব্যক্তির চলাফেরা, শারীরিক অবস্থা, হার্ট বিটের তথ্য সংরক্ষিত হয়ে থাকে। কোনো ব্যক্তি ঘুমিয়ে আছে নাকি অজ্ঞান হয়ে আছে, সেটাও এসব ঘড়ি বুঝতে পারে।

পুলিশ বলছে, ক্যারোলিন নিলসন যেসব দাবি করছেন, ঘড়ির তথ্যের সাথে সেগুলো মিলছে না। যে সময়ে বাইরে লোকজনের সাথে কথা কাটাকাটির দাবি করেছেন, তার কমপক্ষে তিন ঘণ্টা আগেই মিরানা নিলসনের মৃত্যু হয়েছে।

এসব তথ্যের ভিত্তিতে ক্যারোলিন নিলসনের জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত। জুন মাসে তার বিচার শুরু হবে।