বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক:: গ্রাহক ও রাজস্ব উভয় ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি সত্ত্বেও ২০১৭ সালে রবি কোনো মুনাফা করতে পারেনি। নেটওয়ার্ক উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগের পাশাপাশি বাজার, রেগুলেটরি ও পরিচালন সংক্রান্ত কয়েকটি কারণে ২০১৭ সালে রবি’র মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি টাকা। আজ বৃহস্পতিবার রবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডেটা ও ভয়েস সেবার মূল্য নিয়ে বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা ২০১৭ সালের ব্যবসায়িক ফলাফলে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করে রবি।

বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ মূল্য কাঠামোর কারণে পণ্য ও সেবার আগ্রাসী মূল্য নির্ধারণ এবং এক খাতের আয় দিয়ে অন্য খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে বাজারে। ফলে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা না থাকায় চলমান সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে রবির ব্যবসায়িক ফলাফল:

২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে গ্রাহক বৃদ্ধির হার ২৬ দশমকি ৮ শতাংশ বেশি। ৯১ লাখ নতুন গ্রাহক নিয়ে রবি’র বর্তমান গ্রাহকের সংখ্যা ৪ কোটি ২৯ লাখ, যা দেশের মোট মোবাইল ফোন গ্রাহকের ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ। উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা, কার্যকর দ্বৈত তরঙ্গ কৌশল এবং সেরা ডেটা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য গ্রাহক বৃদ্ধি করেছে রবি। এয়ারটেল’র সাথে সফলভাবে একীভূতকরণের ফলে ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে রাজস্ব ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা টাকার অঙ্কে ৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, ডেটা থেকে রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৯ দশমিক ১ শতাংশ। একীভূতকণের পর দেশব্যাপী সফলভাবে নেটওয়ার্কের সমন্বয় এবং উদ্ভাবনী ডেটা অফারের ফলে ডেটা খাতে এই রাজস্ব বৃদ্ধি হয়েছে। তারপরও লোকসান দেখিয়েছে দেশের অন্যতম এ মুঠোফোন অপারেটর। দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক উন্নয়নে ক্রমাগত মূলধনী বিনিয়োগ এবং উচ্চ পরিচালন ব্যয় ও খাতভিত্তিক করের কারণে পরিচালন ব্যয়ের ফলে ২০১৭ সালে কর পরবর্তী ক্ষতির পরিমাণ ২৮০ কোটি টাকা।

জানা গেছে, মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামোয় বিনিয়োগ গ্রাহকদের আরো মানসম্মত ভয়েস ও ডেটা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ফোরজি নেটওয়ার্ক তৈরি এবং দ্রুত ৩.৫জি নেটওয়ার্কর বিস্তারের জন্য ক্রমাগত বিনিয়োগ করে চলেছে রবি। ২০১৭ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের ১ হাজার ১২০ কোটি টাকাসহ কোম্পানির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে রবি’র মোট মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ ২০ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। ১০ হাজার ৬৫০’টির বেশি সাইট নিয়ে দেশের ৬৪টি জেলাতেই রয়েছে রবি’র নেটওয়ার্ক যার মধ্যে ৯ হাজার ২শ’টির বেশি ৩.৫জি সাইট।

রবি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশের সেরা নেটওয়ার্কে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে রবি। ফোরজি ও এমএনপি নিয়ে আলোচিত এই সময়ে আমাদের বিশ্বাস, আমরা আমাদের গ্রাহকদের আরো ডেটা স্পিড ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক প্রদান করতে পারব।’ ‘ইয়ুথ ব্র্যান্ড’ হিসেবে এয়ারটেল ও ‘ডিজিটাল’ ব্র্যান্ড হিসেবে রবি প্রতিষ্ঠা পাওয়ায় ২০১৭ সালে আমাদের গ্রাহক সংখ্যা ২৬ দশমকি ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্টেকহোল্ডারদের পরিশোধিত অর্থের বিবরণ:

২০১৭ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে রবি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে ৭৬০ কোটি টাকা। যা এ প্রান্তিকের মোট রাজস্বের ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ। ১৯৯৭ সালে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে রবি এ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে ২০ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, একই সময়ে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ হিসেবে প্রদান করেছে ২৯০ কোটি টাকা।