নিজস্ব প্রতিবেদক::

নিরীক্ষা আপত্তির ‘পাওনা’ সংক্রান্ত জটিলতা আদালতে গড়িয়েছে। টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির দাবিকে ‘অযৌক্তিক ও ত্রুটিপূর্ণ’ দাবি করে এর বিরুদ্ধে মামলায় গিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেড। দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর রবিও সমস্যার সমাধানে একই পথ বেছে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি বিটিআরসির দাবির উপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে।

ঢাকার দেওয়ানি আদালতে গত ২৬ আগস্ট গ্রামীণফোন ওই মামলা দায়ের করে। একই আদালতে এর একদিন আগে মামলা করে রবি। প্রতিষ্ঠান দুটির কাছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা পায় বলে দাবি বিটিআরসির। বিটিআরসির দাবি অনুসারে, গ্রামীণফোনের কাছে তাদের ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব, দাবিকৃত অর্থ পরিশোধে বিলম্বের মাশুল ও সুদ আছে।

দফায় দফায় তাগাদা দেয়ার পরও কোম্পানি দুটি পাওনা পরিশোধ না করায় ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দেয়া এবং দ্বিতীয় ধাপে বিভিন্ন ধরনের সেবার অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র ইস্যু স্থগিত রাখার মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে বিটিআরসি। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠান দুটির কাছে বকেয়া টাকার জন্য কেন লাইসেন্স বাতিল করা হবে না সে মর্মে নোটিস পাঠানো হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠান দুটিতে প্রশাসক বসানোর কথা ভাবা হচ্ছে বলেও জানায় বিটিআরসি। এরই প্রেক্ষিতে আদালতে মামলার পথে যায় আলোচিত দুই অপারেটর।

মামলার বিষয়ে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়,‘যে অডিটের ভিত্তিতে বিটিআরসি অযৌক্তিক অর্থ দাবি করছে সেটার প্রক্রিয়া, কার্যপ্রণালী এবং ফলাফল নিয়ে আমরা বরাবরই আপত্তি জানিয়ে এসেছি। ত্রুটিপূর্ণ ওই অডিট ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থার নিরসনে আমরা বারবার সালিশী প্রক্রিয়াসহ স্বচ্ছ গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি।

কিন্তু তাতে সাড়া না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে গ্রামীণফোন জানায়,‘দুঃখজনকভাবে আমাদের সকল প্রচেষ্টা বিটিআরসি অগ্রাহ্য করেছে এবং এই অযোক্তিক অডিট দাবি আদায়ে অন্যয্যভাবে বল প্রয়োগ করেই যাচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৬ আগস্ট গ্রামীণফোন একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়েছে। বিষয়টি এখন মহামান্য আদালতে বিবেচনাধীন।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের পক্ষ থেকে বলা হয়,‘বিটিআরসির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উত্থাপিত প্রশ্নবিদ্ধ আপত্তিসমূহ আলাপ-আলোচনা এবং বিকল্প সালিশ নিষ্পত্তির (আরবিট্রেশন) মাধ্যমে সমাধানে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিটিআরসি আমাদের সে প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ নিরীক্ষা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দাবিকৃত অর্থ আদায়ে আইন বহির্ভূত পদক্ষেপ নিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আদালতে যাওয়া ছাড়া রবির বিকল্প ছিল না দাবি করে প্রতিষ্ঠানটির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং এ বিষয়ে এ মুহূর্তে আর কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলে আমরা মনে করছি।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের এক বিবৃতিতে বলা হয়,“যে অডিটের ভিত্তিতে বিটিআরসি অযৌক্তিক অর্থ দাবি করছে সেটার প্রক্রিয়া,কার্যপ্রনালী এবং ফলাফল নিয়ে আমরা বরাবরই আপত্তি জানিয়ে এসেছি। ত্রুটিপূর্ণ ওই অডিট ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থার নিরসনে আমরা বারবার সালিশী প্রক্রিয়াসহ স্বচ্ছ গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি।

কিন্তু তাতে সাড়া না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে গ্রামীণফোন বলেছে, “দুঃখজনকভাবে আমাদের সকল প্রচেষ্টা বিটিআরসি অগ্রাহ্য করেছে এবং এই অযোক্তিক অডিট দাবি আদায়ে অন্যয্যভাবে বল প্রয়োগ করেই যাচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৬ অগাস্ট গ্রামীণফোন একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়েছে। বিষয়টি এখন মহামান্য আদালতে বিবেচনাধীন।