তুহিন আহামেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের গোহাইলবাড়ি আদর্শ গ্রামের (গুচ্ছাগ্রাম) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় রয়েছে জামি’আ ইসলামীয়া নামের মাদ্রাসাটি। মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন ইসলামী এনজিও এবং স্থানীয়ভাবে অনুদান আসলেও তা এখন দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে বলে জানান ওই মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষকসহ এলাকাবাসি। ফলে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছে ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকগণ।

সরেজমিনে ওই মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা যায়, গোহাইলবাড়ি আদর্শগ্রাম (গুচ্ছগ্রাম) নামের এই এলাকাটি প্রতিষ্ঠার পর এখানে কোন মসজিদ-মাদ্রাসা ছিলনা। এলাকাটি ধীরে ধীরে জনবহুল হয়ে উঠে। পরে সেখানে নামাজ পড়ার কোন ব্যবস্থা না থাকলেও আধা কিলোমিটার দূরে গোহাইলবাড়ি কেন্দ্রীয় মসজিদে গিয়ে নামাজ ও ছোট বাচ্চাদের মক্তবে যেতে হতো। একপর্যায়ে এ এলাকায় একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা জরুরী হয়ে উঠলে ১৯৯৩ সালে আল মারকাজুল ইসলাম নামের একটি ইসলামী এনজিও এর সহায়তায় একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেন।

এরপর থেকে এলাকাবাসি ওই মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় শুরু করেন। সেই সাথে ওই মসজিদের এলাকার শিশুরা সকালে মক্তবে যেত। এসময় মসজিদের খাদেম এর বেতন-ভাতা ওই ইসলামী এনজিও থেকে আসলেও একপর্যায়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে মসজিদের পাশেই গেল ৬ বছর আগে একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়। যেখানে ওই এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র পরিবারের ছেলেরা। মাদ্রাসাটি নির্মাণ করার পর থেকেই নানা সমস্যায় জর্জরিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বর্তমানে ওই মাদ্রাসায় তিনটি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। যার মধ্যে মক্তব, হেফজ ও কিতাব বিভাগ। তিনটি বিভাগে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৪৫ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন ৬জন। প্রত্যেকের বেতন বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। তবে এলাকাবাসি ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তায় মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মো. শহিদুল ইসলাম জানান, পুরনো জরাজীর্ণ কক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। মসজিদের ওযু’র স্থান ভাল থাকলেও মসজিদের ভিতরে তেমন কোন উন্নত পরিবেশ নেই। এছাড়া এতিম ও দরিদ্র শিশুদের থাকার জন্য যে ব্যবস্থা রয়েছে তাতে শিশুরা অসস্থিতেই রাত কাটায়। বলতে গেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাত্রি যাপন করে থাকে। এছাড়া টিনসেডের ছাপড়া ঘরের জানালায় গ্রিল থাকলেও জানালা বন্ধ করা দূরুহ ব্যাপার। আবার শিক্ষার্থীদের ঘুমাতে হয় মেঝেতে। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা থাকছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অপরদিকে বিভিন্ন ধরণের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রাদি ও মালামাল চুরি যাওয়ার ভয়ও রয়েছে। এক প্রকার ঝুঁকির মধ্যে বাধ্য হয়েই বসবাস করতে হচ্ছে এখানকার এতিম শিশু সহ শিক্ষক ও কর্মচারীদের।

তিনি আরো জানান, মাদ্রাসার আশপাশে রয়েছে জনবহুল এলাকা। মাদ্রাসার পাশ দিয়েই ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু এই ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখন বন্ধ। ময়লা আবর্জনা ও নানান ধরণের উচ্ছিষ্ট আবর্জনা এরই মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলেছে। ময়লা আটকে থাকায় ও নোংরা পানি প্রবাহিত হওয়ায় আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে পচাঁ গন্ধ। গোসল খানার পাশ দিয়ে ওই ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে মাদ্রাসায় যেমন বসবাস করার সুস্থ্য পরিবেশ নেই সেই সাথে ছেলেদের লেখাপড়া করতে নানান ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

এছাড়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায শৌচাগারের অবস্থা একদম লাজুক অবস্থায় রয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের অভাবে অনেক সময় রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে মাদ্রাসাসহ আশপাশের জনবসতিতে। ফলে অনেক সময় অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে অনেকে। এতিম শিশুদের জন্য রান্না-বান্না করার জন্য রান্না ঘর থাকা প্রয়োজন। মাদ্রাসাটিতে রান্না-ঘর রয়েছে তবে তা একেবারে জঘন্য অবস্থায় রয়েছে। টিনের তৈরি রান্না ঘরের বেশির ভাগ অংশেরই টিন পুরনো ও টিনের চালা ফুটো হয়ে গেছে। অনেক জায়গাতে আবার টিন ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে বাইরের ধূলোবালি রান্না করার খাবারে পড়ে খাবার অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ছে।

এদিকে, মাদ্রাসার আবাসিক ভবনে নেই বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা। আবার যাও দু’একটি রয়েছে তা নষ্ট হয়ে আছে। মাদ্রাসাটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসির দাবী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাতে মাদ্রাসাটির প্রতি সুনজর দেন। সেই সাথে মাদ্রাসাটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষকদের বেতন-ভাতাদি প্রদান করার ব্যবস্থা করেন।

জামি’আ ইসলামীয়া মাদ্রাসার সভাপতি ও স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য মো. শাহ আলম জানান, তিনি সভাপতি হওয়ার পর মসজিদের কিছুটা উন্নয়ন করা হয়েছে। সেই সাথে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম আজাহারুল ইসলাম সুরুজকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।