আবু সালেহ আকন:

ফুটপাথেও নিরাপদ নয় সাধারণ পথচারীরাও। এমনকি ফুটপাথে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষও পিষে মেরে ফেলছে বেপরোয়া চালকেরা। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চালকদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ না নেয়ায় এবং মানুষ হত্যার দায়ে তাদের নামেমাত্র সাজা হওয়ায় তারা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। একটি বেসরকারি সংস্থা সূত্রে জানা গেছে সড়ক দুর্ঘটনায় যারা নিহত হচ্ছেন তাদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ হচ্ছেন পথচারী।
গত রোববার দুপুর ১২টার দিকে হোটেল রেডিসনের সামনে গাড়িচাপায় নিহত হয়েছেন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল
অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী। গাড়ির জন্য তারা আরো অনেকের সাথে রাস্তার পাশে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস অপেক্ষমাণ লোকজনকে চাপা দিলে ওই দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। আহত হন আরো কয়েকজন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো কারণ ছাড়াই গাড়িটি ফুটপাথে অপেক্ষমাণ লোকজনের ওপর উঠে যায়। হতাহতদের কোনো দোষ ছিল না। এভাবে অনেক পথচারী প্রতিদিন হতাহত হচ্ছেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় যতসংখ্যক মানুষ হতাহত হচ্ছেন তার মধ্যে শতকরা ৪৮ ভাগই হলেন পথচারী। সাধারণ পথচারী নিহতের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে।
জিয়া নামের এক পথচারী বলেন, সম্প্রতি তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দুর্ঘটনার শিকার হন। সাভার থেকে জাহাঙ্গীরনগর যাচ্ছিলেন একটি বাসে। গন্তব্যে পৌঁছে বাস থেকে নামবেন এমন সময় গাড়িটি দ্রুত চলতে শুরু করে। পা পিছলে তিনি রাস্তার ওপর পড়ে যান। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন। জিয়া বলেন, বেপরোয়া চালকের কারণে তার এই পরিস্থিতি হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক বলেন, ফুটপাথে দাঁড়িয়ে থেকেও মানুষ এখন নিরাপদ নন। চালকেরা বেপরোয়া হওয়ার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, মহাসড়কের কোনো জায়গায় ফুটপাথ নেই। আন্ডারপাস বা ওভার পাস নেই। যে কারণে মানুষকে সড়কের ওপর দিয়েই চলতে হয়, রাস্তা পার হতে হয়। সেক্ষেত্রে মানুষের দোষ কোথায়? পথচারীদের সুযোগ নিশ্চিত না করে তাদের কোনো দোষ দেয়া যাবে না।
দুই বাস পাল্লা দিতে গিয়েও প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। গত রোববার মাওয়া থেকে স্বাধীন পরিবহনের একটি গাড়ি কেরানীগঞ্জ হয়ে ঢাকায় আসছিল। গাড়িটি হাইওয়ে থেকে কেরানীগঞ্জ শহরের দিকে ঢোকার মুহূর্তে পাল্লা দিতে গিয়ে একটি গর্তে পড়ে যায়। এতে বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
রোড সেইফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, চালকেরা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। এর প্রধান দু’টি কারণ। প্রথমত, চালকেরা জানেন গাড়িচাপায় মানুষ মেরে ফেললেও তাদের কোনো সাজা হবে না। তাদের সাজা দেয়ার চেষ্টা করা হলে ধর্মঘট করে, রাস্তা অবরোধ করে সব কিছু অচল করে দেবে। আর এ কারণেই তারা মানুষ মারতে দ্বিধা করে না। দ্বিতীয়ত, তাদের কোনো শিক্ষা নেই। নৈতিক শিক্ষাও নেই, গাড়ি চালানোর দক্ষতাও নেই। ফলে তারা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সাইদুর রহমান এজন্য গাড়ির মালিক ও সরকারকেও দুষলেন। তিনি বলেন, সরকার মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারছে না।
বিআরটিএ’র একটি বিভাগ রয়েছে ‘রোড সেইফটি’ বলে। সেই বিভাগটি পুরোপুরি অকার্যকর বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। গতকাল রোড সেইফটি বিভাগের পরিচালকের মোবাইল নম্বরে ফোন দেয়া হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে বিআরটিএ’র চেয়ারম্যানের মোবাইলে ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।