ফজিত শেখ বাবুঃঃ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রেডিও অনুষ্ঠানের শ্রোতা রয়েছেন বাংলাদেশে। আধুনিক প্রযুক্তির যতই উন্নতি হোক রেডিও আজও একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। বাংলাদেশের রেডিও শ্রোতাদের ডি-এক্সিং ক্লাবের পক্ষ থেকে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে সম্বর্ধনা দেওয়া হয় লেখক, সাংবাদিক নাজমুন নেসা পিয়ারিকে। বাংলা একাডেমি গত বছর তাঁকে ‘সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ সাহিত্য পুরষ্কার’-এ ভূষিত করে। তিনি দীর্ঘদিন জার্মানিতে বসবাস করছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন ডয়েচে ভেলেতে বাংলা বিভাগ শুরু হয় তখন অনেক আবেদনকারীর সঙ্গে

প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে ডয়েচে ভেলেতে যোগ দেন। তারপর থেকে তিনি ডয়েচে ভেলের বাংলা বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, জার্মান বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় ‘গণসংযোগ ও মার্কেটিং’ বিভাগে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। উল্লেখ্য তাঁর আগে কোনো বিদেশি ঐ বিভাগে ঐ পদে কাজ করেনি। তিনি ঐ বিভাগে একজন স্থায়ী সম্পাদক হিসেবে একটানা এক যুগের বেশি সময় কাজ করেন। নাজমুন নেসা পিয়ারি জার্মানিতে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসারের জন্য সবসময়েই নিবেদিত। তিনি প্রথমে সাবেক পশ্চিম জার্মানির রাজধানী বনের পাশে কলোন, বনে ডয়েচে ভেলের দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। দুই জার্মানি একত্রিত হওয়ার পর বার্লিনে বসবাস করতে শুরু করেন রাজধানী বালিনে। সেখানে ‘ডাস কোর’ নামে একটি মিডিয়া সংস্থায় কালচারাল এটাচে হিসেবে কাজ করেন। পরে বেঙ্গল সেন্টার নামে একটি সংগঠন করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর আগে ডুসেলডর্ফে ‘কুম’ নামক একটি সংস্থার মাধ্যমেও বিভিন্ন কর্মকা- করেছেন। তার সঙ্গে ছিলেন জার্মান-ভারতীয় মহিলা মিসেস খান।

২০০৫ সালে তিনি সবাইকে চমকে দিয়ে তাঁর সাহিত্য কর্ম জার্মান নোবেল বিজয়ী লেখিকা এলফ্রিডে ইয়োলিনেকের ‘পিয়ানো টিচার’ নিয়ে উপস্থিত হন ঢাকার বাংলা একাডেমির বই মেলায়। প্রথম বই-ই বাজার মাৎ করেন। তাঁকে নিয়ে তখন জনকণ্ঠ কভার পেজ স্টোরি করে লিখেছিল, “সত্তরের দশকে ঢাকা মাতানো নাজমুন নেসা পিয়ারি নতুন রূপে এলেন।”

এরপর তিনি এ বছর আর একটি চমক দেন জার্মানিতে বসবাসকারী ছোট ছেলেমেয়েদের জন্য সৈয়দ শামসুল হকের “বঙ্গবন্ধুর বীরগাঁথা” বাংলা থেকে জার্মানে অনুবাদ করে। তিনি বলেন জার্মানিতে ওরা জার্মান স্কুলে পড়ালেখা করে জার্মান ভাষায়। দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে পড়ে ইংরেজি। বাংলা বই পড়ে বোঝার মত তেমন বাংলা তারা জানে না। তাদের পূর্বসরীর আত্মপরিচয় ও দেশ সম্পর্কে তারা যাতে ছোট বেলাতেই জানতে পারে তাই তাঁর এই প্রয়াস। তাদের কাছ থেকে অন্যান্য জার্মান ছোট ছেলেমেয়েরাও পড়বেÑ তাদের বাবা মাও পড়বেন। ইতিমধ্যে জার্মানিতে তিনি কয়েকটি জার্মান স্কুলে বইটির আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।
ডি-এক্সিং ক্লাবের এই সম্বার্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ওয়ার্ল্ড ইউনভার্সিটির উপাচার্য আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘আমি নাজমুন নেসা পিয়ারিকে দীর্ঘদিন থেকে চিনি। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি প্রসারের জন্য তিনি অক্লান্ত ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সে জন্য তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।” সভাপতি স্থপতি আব্দুস সালাম যিনি ডি-এক্সিং ক্লাবের উপদেষ্টা বলেন, “এই বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের একটি হলেই ডি-এক্সিং ক্লাব নাজমুন নেসা পিয়ারিকে “গোল্ডেন ভয়েস” সম্মাননা দিয়েছিল। সেদিনও আমি ছিলাম এ অনুষ্ঠানের সভাপতি ‘প্রফেসর আনিসুজ্জামান ছিলেন, প্রধান অতিথি। শ্রোতাদের প্রিয় এ নাজমুন নেসা পিয়ারির জন্য রইলো অনেক শুভেচ্ছা। তিনি আজ বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনেও বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছেন”। উপস্থিত ডি-এক্সিং ক্লাবের সদস্যরা এসেছিলেন শুধু ঢাকা থেকেই নয়। ঢাকার বাইরের শহর ও শহর উপকণ্ঠ থেকে। বক্তব্য রাখেন ঢাকা ডি-এক্সিং ক্লাবের সভাপতি বিপ্লব বাংলাদেশ ডি-এক্সিং ক্লাবের সহ-সভাপতি মাহবুব, খলিউল্লাহ, রুহুল মাহবুব, রাজিব, সোহেল, এরফান সাইয়াম আরো অনেকে। বাউল সঙ্গীত পরিবেশন করেন ঋষিজ সংগীত গৌষ্ঠীর শিল্পী নিলুফার ইয়াসমিন। শ্রোতারা তাদের প্রিয় উপস্থাপিকাকে পেয়ে আনন্দ, আবেগে উদ্বেলিত হয়ে উঠেছিল।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে নাজমুন নেসা পিয়ারির ওপর জয়-এর একটি ডকুমেন্টারি ছবি দিয়ে।