ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের তৎপরতা বরাবরই ইতিবাচক ছিল। শুরু থেকেই তারা এই ইস্যুটাকে খুব সিরিয়াসলি নিয়েছে। কিন্তু সমস্যাটি যে তিমিরে ছিল সেখান থেকে কোনো উত্তরণ নেই। জাতিসংঘ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের মতো, তারা পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু এনফোর্সমেন্ট করতে গেলে সংগঠনের স্থায়ী সদস্যদের সমর্থন ছাড়া সরাসরি ইম্প্রিমেন্ট করতে পারে না। সেক্ষেত্রে রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন-রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মীজানুর রহমান।

তিনি বলেন, এখানে অনেকগুলো ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। বিশেষ করে চীন-রাশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ। চীন-রাশিয়া যদি দেখে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান বাংলাদেশ যেভাবে চায় সেভাবে কাজ করলে তাদের পরিমাণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ফায়দা হবে বেশি সেটাই তারা করার চেষ্টা করবে। এবং সেটাই তারা করছে। বিশেষ করে চীন তার বিনিয়োগ এবং এ এলাকায় তাদের যে রাজনৈতিক প্রভাব তা অব্যাহত বা জোরাল করার জন্য মিয়ানমারকে মূল জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছে এবং বিনিয়োগ করছে। রাজনৈতিকভাবেও তারা মিয়ানমারকে সহযোগি হিসেবে পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা যথেষ্ট শক্তিশালী। কিন্তু তা ফলপ্রস্যু হচ্ছে না ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ মহাসচিবের যে তৎপরতা ও উদ্বেগ খুবই ইতিবাচক। কিন্তু সমাধান নির্ভর করছে চীনের উপর। চীনকে যদি সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলা যায়, তারা একটা ইফেক্টিভ রোল প্লে করে তাহলে সমস্যার সমাধান হবে।

ড. মীজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সারাবিশ্বই সোচ্চার। কয়েকটি দেশ ছাড়া সব দেশই রোহিঙ্গাদের পক্ষে। এখন এ সমস্যার সমাধান করছে না বলে তো আমরা চীন-মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধাতে পারি না। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে সেই নীতি নেই। তবে আরও অধিকতর আলোচনা, যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। যেহেতু চীন-রাশিয়া-ভারত এ সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বড় রোল প্লেলের ভূমিকা নিতে পারে, তাই এ তিন দেশের শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক হতে পারে। এ তিনটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বা জাতিসংঘের মহাসচিব লেভেলে ইস্যুটি আলোচনা হওয়া দরকার বলে মনে করি আমি। তবে কিছু অগ্রগতিও আছে। জাতিসংঘ, জাতিসংঘের ডেপুটি হাইকমিশন অথবা ইউএনডিপিকে আগে কোনোভাবে মিয়ানমার বরদাস্ত করতে পারত না। তবে কয়েকদিন ধরে মিয়ানমার বলছে যে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তারা জাতিসংঘ বা ইউএনডিপির সহায়তা তারা নেবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা আশির দশক থেকে। এটা একটা অনেক বড় ও পুরোনো সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে সময় লাগবে। দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে পড়ে গেছে বলব না, তবে তা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাড়াতাড়ি সমাধান করার মতো বিষয় নয় এটা। রোহিঙ্গাদের পাশে বাংলাদেশ যেভাবে দাঁড়িয়েছে তা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু সমস্যাটা আমাদের নয়, মিয়ানমারের। আমাদের উপর পড়েছে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটা আমরা দেখছি।