মাহবুবুল ইসলাম:: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাবির অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, শেয়ার বাজারকে অর্থমন্ত্রী কিছুই দেননি। এবার বাজেট শেয়ার বাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য হতাশা ছাড়া আর কিছু দেয় নি। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে আলাপকালে আমাদের অর্থনীতিকে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী শেয়ার বাজারকে গুরুত্বের সাথে দেখেন নি। একসময় বলেছিলেন শেয়ার বাজারকে মজবুত অবস্থায় প্রতিস্থাপন করবেন, এটার কেন্দ্রবিন্দু হবে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি আহরণের জন্য। আমরা আশা করেছিলাম কর্পোরেট ইনকাম ট্যাক্স কোন ক্ষেত্রে উনি কমিয়ে দিবেন, যাতে করে কোন ভালো কোম্পানি শেয়ার বাজারে আসার একটু উৎসাহ পায়। অথচ তেমন কিছুই আমি দেখছি না। বড় কোম্পানি গুলোর ক্ষেত্রে অন্তত আড়াই শতাংশ বা দুই শতাংশ ট্যাক্স কমিয়ে দিলে ভালো কোম্পানিগুলো ট্যাক্স সুবিধা নেওয়ার জন্য নিশ্চয়ই আসতো। গত কয়েক মাসে প্রায় ৬শ থেকে ৭শত পয়েন্ট মার্কেট হারিয়েছে। শেয়ার বাজার এখন যে খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, সেটাকে উনার একটা এডজাস্ট করা উচিত ছিল। এটাকে সঠিক জায়গায় কিভাবে স্থাপন করা যায়, এ ব্যাপারে কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা উচিত ছিল। তিনি আগে বলেছিলেন, কর্পোরেট ইনকাম ট্যাক্স বেশি। কিন্তু সে অনুযায়ী বাজেটে কোন প্রতিফলন আমি দেখলাম না। ব্যাংকি কোম্পানি গুলোকে আড়াই শতাংশ কমিয়েছেন, এখানে যারা শক্তিশালী লবিস্ট তারা হয়ত তাদের সুবিধা বুঝে নিয়েছেন। কিন্তু অন্য কোন কোম্পানি গুলোর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে শেয়ার বাজারে যেখানে হাজার হাজার মানুষের এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ জড়িত। সেদিকে কিন্তু উনি কোন সু-নজর দেন নি। এটার অবস্থা আগে যা ছিল তাই রয়ে গেছে। পুঁজিবাজারটা উনার উপেক্ষিতই থেকে গেল, এটা খুবই দুঃখজনক। আমি সবিনয়ে একটা প্রশ্ন অর্থমন্ত্রীকে করতে চাই। ট্যাক্স কনসেশন ছাড়া ভালো কোম্পানি শেয়ার বাজারে আনার উপায়টা কি, উনি কী তা কখনো চিন্তা করে দেখেছেন?

অধ্যাপক আবু আহমেদ আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে আড়াই শতাংশ কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোকে সাধুবাদ জানাই। তবে ব্যাংকিং সেক্টর ঋণ খেলাপিতে ডুবে গেছে। প্রভিশনিং করার যোগ্যতা তো তাদের এখন নাই। এখানে আড়াই শতাংশ ট্যাক্স সুবিধা নিয়ে প্রভিশনিং করার ক্ষমতা তাদের কিছুটা বাড়তে পারে, কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এতে কোন উপকার পাবে না। এখন মানুষ গতানুগতিক ভাবেই সঞ্চয়পত্রমুখী হবে। সরকার বিরাট আকারে সুদের বোঝা বহন করছে। এটা কোন ভালো অর্থনীতি ম্যানেজমেন্ট নয়। উচিত ছিল সঞ্চয়কারীদেরকে কীভাবে এদিকে আনা যায় সেই ব্যবস্থা করা। গত বছর সঞ্চয়পত্র কেনায় যেভাবে লাইন দিয়েছে, এবারও ঠিক সেভাবেই লাইন দিবে।