স্পোর্টস ডেস্ক::

চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩৯৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হারের শঙ্কায় রয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে স্বাগতিকদের টেস্টে সফলভাবে রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটা ২১৫ রানের। সেখানে একমাত্র টেস্টে চতুর্থ দিন ১৩৬ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিন শেষ সেশনের আগে ৪ উইকেটের পতন হলেও একপ্রান্ত আগলে খেলছিলেন ওপেনার সাদমান। যোগ্য সঙ্গী খুঁজে পাননি তিনি। দুই সেশন প্রতিরোধ দিয়ে খেলে তৃতীয় সেশনে আর থিতু হতে পারলেন না। চা পানের বিরতির পর ৪১ রানে বিদায় নিয়েছেন। নতুন নামা মাহমুদউল্লাহ কিছুক্ষণ পর ফিরলে এই টেস্টের পরিণতিটা ফুটে উঠে আরও স্পষ্ট হয়ে। দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৩৬ রান। ডানবাম কম্বিনেশন মেলাতে গিয়ে সৌম্য নেমেছেন নিচের দিকে। ক্রিজে আছেন শূন্য রানে। সাকিব ব্যাট করছেন ৩৯ রানে। বৃষ্টির কারণে আজকেও আগে শেষ হয়েছে নির্ধারিত সময়ের খেলা। তাই কাল খেলা শুরু হবে সকাল সাড়ে ৯টায়।

পাহাড়সম লক্ষ্যে খেলতে নামলেও শুরু থেকে আফগানদের স্পিনে ধুঁকেছে বাংলাদেশ। প্রথম সেশন কাটানো গেলেও দ্বিতীয় সেশনে ৭২ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। চা পানের বিরতির পর ফিরে শেষ টেস্ট খেলতে নামা নবীর বলে আউট হয়েছেন সাদমান। বাকিদের মতো লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন ৪১ রানে। নতুন নামা মাহমুদউল্লাহ রশিদ খানের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন শর্ট লেগে। তিনি ফেরেন মাত্র ৭ রানে।

দিনের শুরুতেই হানা দিয়েছিল বৃষ্টি। তাতে দুই ঘণ্টার বেশি বন্ধ ছিল খেলা। প্রথম সেশনের পরে ফের বৃষ্টি নামলে দেরি করে শুরু হয় দ্বিতীয় সেশনের খেলাও। এরপরেই দৃশ্য পাল্টাতে থাকে স্বাগতিকদের। সেশনের দ্বিতীয় ওভারে জহির খানের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন লিটন দাস। বড় ইনিংস উপহার না দিয়ে ৯ রানে ফেরেন তিনি। অবশ্য আগের বলেই রিভিউ নিয়ে বেঁচেছিলেন। আম্পায়ার আফগানদের কট বিহাইন্ডের আবেদনে সাড়া দিলে রিভিউ নেন লিটন। তাতে সফল ছিলেন তিনি।

ওপেনিংয়ের মতো ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন এনে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। বামহাতি-ডানহাতি কম্বিনেশন মেলাতে লিটন দাসকে নামানোর পর নামেন মোসাদ্দেক। সাদমানের সঙ্গী হন তিনি। সেই কৌশলও কাজে দেয়নি। চায়নাম্যান স্পিনার জহির খানের বলে উড়িয়ে মেরে উইকেট বিলিয়ে দেন মোসাদ্দেক। ফিরে যান ১২ রানে।

ডানহাতি কম্বিনেশন বজায় থাকে এরপরেও। তবে কম্বিনেশন পাল্টেও আফগান স্পিনারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়া যায়নি। একপ্রান্তে রশিদ খান অপরপ্রান্তে জহির খান ঘূর্ণিজাল ফেলে বিপদে ফেলছেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের। সেই জালে ধরাশায়ী হন মুশফিকও। রশিদ খানের গুগলি গিয়ে লাগে তার প্যাডে। লেগ বিফোর হয়ে অভিজ্ঞ এই তারকা বিদায় নেন ২৩ রানে। মুশফিক রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি।

আগের ম্যাচে মুমিনুল ফিফটি করেছিলেন। বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল তার কাছ থেকে। সেই মুমিনুলও ধরাশায়ী হয়েছেন রশিদ খানের স্পিনে। তাকে বিদায় নিতে হয়েছে ৩ রানে। সাকিব ক্রিজে থাকলেও অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন তিনি। ৩২তম ওভারে রশিদ খানের বলে ফিরতি ক্যাচের সুযোগ দিয়েছিলেন। রশিদ খান তালুবন্দী করতে পারেননি সেই ক্যাচ।

তার আগে সকালে ৮ উইকেটে ২৩৭ রানে দিনের খেলা শুরু করলেও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি আফগানদের দ্বিতীয় ইনিংস। তড়িঘড়ি রান তুলতে গিয়ে সফরকারীরা গুটিয়ে যায় ২৬০ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিব ৫৮ রানে তিনটি উইকেট নিয়েছেন। দুটি করে নিয়েছেন মেহেদী মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। অপর দিকে রশিদ খান ৩টি উইকেট নিয়েছেন দ্বিতীয় ইনিংসে, দুটি নিয়েছেন জহির খান। একটি নিয়েছেন মোহাম্মদ নবী।

এই টেস্ট জিততে অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি এখন বাংলাদেশ। রান তাড়া করে জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হবে স্বাগতিকদের। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে তাদের। তাই এই টেস্ট জিততে হলে নতুন রেকর্ড গড়তে হবে।

আবার সার্বিকভাবে টেস্টে এত বিশাল রান তাড়া করে জেতার নজিরও খুব বিরল। সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০০২-০৩ সালে। ১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪০৪ রান তাড়া করে এই রেকর্ডের তালিকায় পরেই আছে অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় অবস্থানে ভারত। তারা ১৯৭৫-৭৬ সালে ৪০৩ রান তাড়া করে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।