নিজস্ব প্রতিবেদক::

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মেন্টডু নদী। সাড়ি গোয়াইন নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে সিলেটের লালাখাল দিয়ে। এ নদীর দুই তীরে ভারতীয় অংশে প্রতিনিয়ত চলে কয়লা আহরণ। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে সিলেটের অন্যতম গোয়াইন নদীতে। সারা বছরই গোয়াইন নদীতে মিলছে কয়লার বর্জ্য, ক্রোমিয়াম, কপারসহ ভারী ধাতু। পাহাড়ি ঢল নামলেই ভেসে উঠছে মৃত মাছ। পানি ব্যবহারেও হচ্ছে নানা সমস্যা। যমুনা টিভি

গবেষকরা বলছেন, ভারতে খোলা আকাশের নিচে কয়লা আহরণের ফলেই দুষিত হচ্ছে গোয়াইন নদী। নদীর পানিতে বিষক্রিয়া থাকায় ক্যান্সার জাতীয় বিভিন্ন রকম অসুখে আক্রান্ত হতে পারে স্থানীয়া। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জলজ সম্পদ বিভাগের অধ্যাপক, ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ডু বলেন, যখনি পাহাড়ি ঢল নামে তখন এ কয়লার দোয়ানীগুলো কিন্তু নদীতে মিশে যায়। এটার বিষক্রিয়া আছে তাই তাৎক্ষণিকভাবে মাছগুলো মারা যাচ্ছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাক আহমেদ বলেন, নদীর পানিতে বা তলদেশে ক্রমিয়াম, কপার, নিকেল, এলোমিনিয়াম আমরা পেয়েছি। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, যখন দেখা যায় যে মাছ ভেসে যাচ্ছে তখন উৎসবমুখর হয়ে জেলে এবং স্থানীয়রা মাছ ধরছে। এতে ক্যান্সার জাতীয় বিভিন্ন রকম অসুখ বিসুখের সৃষ্টি করতে পারে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল হক বলেন, পানি উন্নায়ন বোর্ড এ বিষয়ে আমাদের কোনো তথ্য দেয়নি। তবে মঙ্গলবার শিলংয়ে দুই দেশের ১৩ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনে আমাদের প্রতিনিধি থাকছেন। সেখানে গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।