স্পোর্টস ডেস্ক::

ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টির এক হাজারতম ম্যাচে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের টাইগাররা দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে আনলেন। ইনিংসের ১৯তম ওভারে বোলার খলিল আহমেদকে শেষ চার বলে চারটি বাউন্ডারি হাঁকালেন মুশফিকুর রহিম, ওই ওভার থেকে আসে ১৮ রান। জয় সেই ওভারেই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ ওভারের জন্য থাকলো ৪ রান।

শেষ ওভারে বল হাতে আসেন শিভম দুবে। অভিষেক ম্যাচে ব্যাট এবং বল দু’হাতেই ব্যর্থ এই ভারতীয় ক্রিকেটার। প্রথম বলে কোনো রান দেননি। দ্বিতীয় বলে ডাবল নেন মাহমুদুল্লাহ। পরের বল ওয়াইড। ম্যাচ লেভেল হয়ে যায় তখনই। তৃতীয় বলে মাহমুদুল্লাহ ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

এর আগে দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশকে ১৪৯ রানের লক্ষ্য দেয় স্বাগতিক ভারত। টস জিতে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৪৮ রান করতে সক্ষম হয় ভারত। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন শিখর ধাওয়ান।

ভারতের দেয়া লক্ষ্য ১৯.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। দলের হয়ে মুশফিকুর রহিম অপরাজিত (৬০) ও সৌম্য সরকারের ব্যাট থেকে আসে (৩৯) রান।

দিল্লির অরুন জেটলী স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শার্মাকে আগে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলে শফিউল ইসলামকে চার হাঁকিয়ে রানের খাতা খুলেন রোহিত শার্মা। কিন্তু প্রথম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১০ ও ব্যক্তিগত ৯ রানের মাথায় রোহিত শার্মাকে ফিরিয়ে ভারতীয় শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন সেই শফিউলই । দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে রোহিতকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশকে প্রথম সাফৈল্য এনে দেন তিনি।

এর পর লোকেশ রাহুলকে ফিরিয়ে ভারতীয় দুর্গে দ্বিতীয় আঘাত হানেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। দলীয় ৩৬ রানের মাথায় নিজের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে লোকেশ রাহুলকে ব্যক্তিগত ১৫ রানে ফেরান বিপ্লব।

নিজের তৃতীয় ওভারে ব্যাটের উত্তাপ বাড়াতে থাকা শ্রেয়াস আয়ারকে ২২ রানে সাজঘরে ফিরিয়ে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় শিকার তুলে নিলেন বিপ্লব। ছয়ে ব্যাট করতে নেমে অভিষেক ম্যাচ ব্যক্তিগত ১ রান করে ফেরেন শিভাম দুবে। আফিফ হোসেনের তৃতীয় ওভারে বোলার আফিফকেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন দুবে।

দেখে শুনে খেলতে থাকা ওপেনার শিখর ধাওয়ান ৪২ বলে ৪১ রান করে মাহমুদুল্লাহর থ্রো’তে মুশফিকুর রহিমের দুর্দান্ত স্ট্যাম্পিংয়ে ফিরলে অনেকটা চাপের মুখে পড়ে ভারত। কিন্তু শেষ দিকে ক্রুণাল পাণ্ডিয়ার ৮ বলে ১৫ ও ওয়ামিংটন সুন্দরের ৫ বলে ১৪ রানের ওপর ভর করে ২০ ওভারে ১৪৮ রানের সম্মনসূচক স্কোর দাঁড় করায় ভারত। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে শফিউল ও বিপ্লব ২টি এবং আফিফ একটি উইকেট শিকার করেন।

১৪৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই লিটন দাসের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে দীপাক চাহারের বলে লোকেশ রাহুলকে ক্যাচ দিয়ে ৪ বলে ৭ রান করে ফেরেন লিটন দাস। দ্বিতীয় উইকেটে মোহাম্মদ নাঈম ও সৌম্য সরকার সেই ধাক্কা বুঝতেই দেননি। দুজনের জুটিতে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। জুটিতে তোলেন ৪৬ রান। দলীয় ৫৪ রানের মাথায় শিখর ধাওয়ানকে ক্যাচ দিয়ে বুজবেন্দ্র চাহালের শিকার হয়ে নাইম ফেরেন ২৮ বলে ২৬ রান করে।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। মুশফিক-সৌম্যর এ জুটিত আসে ৬০ রান। ৩৫ বলে ৩৯ রান করে সৌম্য ফিরে গেলেও মুশফিক মাঠ ছাড়েন জয় নিয়ে।

শেষ পর্যন্ত মুশফিক ৪৩ বলে ৬০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। ৮ চার ও এক ছয়ে ইনিংসটি সাজান তিনি। মাহমুদুল্লাহ থাকেন ৭ বলে ১৫ রানে অপরাজিত। ৩ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে শেষ এক রানের জন্য ছক্কা হাঁকিয়ে ১৫৪ রান করে ফেলে বাংলাদেশ।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে দীপাক চাহার, যুজবেন্দ্র চাহাল ও খলিল আহমেদ একটি করে উইকেট শিকার করেন। ৬০ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন মুশফিক।