লালমনিরহাট প্রতিনিধি::

লালমনিরহটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নে ৬৫ বছর বয়সের বৃৃদ্ধা মাকে মারধর করে ঘরের ব্যবহৃত সকল জিনিসপত্র বাইরে ফেলে বের করে দিয়েছেন দুলাল হাসান (৪৫) নামের এক পাষণ্ড ছেলে।

গত তিন দিন থেকে ঘরের জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দিলে অসহায় অবস্থায় ওই বৃদ্ধা মা একদিন একরাত সেখানে পড়ে ছিল। এ ঘটনায় ছেলের বিচার চেয়ে সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ওই বদ্ধা মা।

বুধবার (১৯ ফব্রুয়ারি) বিকেলেে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ওই বৃৃদ্ধা মায়ের ব্যবহৃত সকল জিনিসপত্র বাইরে ফেলে রেখেছে ছেলে দুলাল হাসান। এসময় সাংবাদিকরা ওই বৃদ্ধার ছবি তুলতে গেলেে দুলাল হাসান ছবি তুলতে বাঁধা দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

জানা গেছে, উপজলার বড়খাতা ইউনিয়নের বড়খাতা গ্রামের বাহানত উল্লাহর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জাবেদা বেওয়া দুই ছেলেকে নিয়ে একই বাড়িত বসবাস করেন। গত রােববার সামান্য কথা কাটাকাটি করে রাতের আধাঁরে মায়ের সব জিনিসপত্র ও মাকে মারধর করে বের করে দেন বড় ছেলে দুলাল হাসান। এর পর ছােট ছেলে জাবেদ আলীকে সাথে নিয়ে স্থানীয় বড়খাতা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দেন তিনি।

বৃদ্ধা জাবেদা বেওয়া (৬৫) বলেন, জায়গা-জমি সব লিখে নিয়ে আমাকে মারধর করে ঘরের জিনিসপত্র ঘর থেকে বাহিরে ফেলে দিয়েছে ছেলে। আমার স্বামীর রেখে যাওয়া ঘর থেকে বের করে দিল। এই দুঃখ কার কাছে বলি। পেটের ছেলে এভাবে মারবে এবং বের করে দিবে তা মেনে নেয়া যায় না।

বৃদ্ধার বড় ছেলে ও বড়খাতা বাজারের দর্জি দুলাল হাসান সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার মায়ের মুখের ভাষা খুবই খারাপ তাই আমি মায়ের জিনিসপত্র বাহিরে রেখে দিয়েছি। তবে আমার মাকে আমি মারধর করিনি।

বড়খাতা ইউনিয়নের মহিলা ওয়ার্ড চেয়ারম্যান আমিজন নেছা বলেন, বিষয়টি আমরা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তার ছেলে এ কাজটি ঠিক করেননি।

এ বিষয়ে বড়খাতা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা মােস্তফা জামাল সােহেল বলেন, আমি ঘটনা শুনে সেখানে গিয়ে দেখেছি। ছেলে হয়ে নিজের মাকে মারধর করা ঠিক হয়নি। তবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।