নিজস্ব প্রতিবেদক:: আগামী ২৩ অক্টোবর পুলিশ অনুমতি না দেয়ায় পরদিন ২৪ অক্টোবর সিলেটে সমাবেশ করতে চায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের নেতা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, ২৩ তারিখে আমাদের যে জনসভা ছিল সিলেটে আজকে (গতকাল) সকাল পর্যন্ত তার অনুমতি ছিল। আমরা জানতে পেরেছি পুলিশ তা বাতিল করেছে। আমরা হলের মধ্যে করতে চেয়েছি সেটিও বাতিল করেছে। আমরা আশা করি ২৩ অক্টোবর না হলেও ২৪ অক্টোবর সরকার অনুমতি দেবে।

রব বলেন, সরকারি দলের নেতারা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে জনসভা করছেন। আমাদের জনসভা করার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের পূর্বে একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, গণতান্ত্রিক আচরণ হিসেবে সবার জন্য সমান সুযোগ, সরকার এ বিষয়টা বজায় রাখার চেষ্টা করবে। সরকার যদি আমাদের জনসভা করার অনুমতি না দেয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। প্রধানমন্ত্রী বিদেশে থাকলেও তার প্রতি অনুরোধ থাকবে ২৩ অক্টোবর না হোক ২৪ অক্টোবর আমাদের সিলেটে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়ার ব্যবস্থা নিন। গতকাল গুলশানে লেকশোর হোটেলে কূটনীতিকদের সাথে মতবিনিময় শেষে আ স ম রব এসব কথা বলেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ২৩ অক্টোবর সিলেটে হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহ পরানের মাজার জিয়ারত ও পরে সমাবেশ করার কর্মসূচি ঘোষণা করে গত ১৬ অক্টোবর। ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম ও ৩০ অক্টোবর রাজশাহীতে সমাবেশ করার কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা। আজ শুক্রবার ফের বৈঠকে বসবে ঐক্যফ্রন্ট।

৭ দফা দাবি

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ৭ দফা দাবি ও ১১ লক্ষ্য বাংলাদেশে নিযুক্ত কূটনীতিকদের জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল বিকেলে গুলশানে লেকশোর হোটেলে কূটনীতিকদের সাথে বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে কী কী করণীয় তা বৈঠকে ব্যাখ্যা করেন। কূটনীতিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন তিনি।

বেলা ৩টা থেকে এক ঘণ্টা এই বৈঠক হয়। বৈঠকের শুরুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কূটনীতিকদের স্বাগত জানিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দকে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন বক্তব্য রাখেন। একাদশ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পূর্ব-শর্তাবলি, ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব, বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সাথে নির্বাচনে যাওয়া-না-যাওয়ার বিষয় সম্পর্কিত নানা বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন ড. কামাল হোসেন। এ সময় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি ও ১১ ল্য কূটনীতিকদের সরবরাহ করা হয়।

বৈঠকের পর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব সাংবাদিকদের বলেন, আজকে আমরা শুধু বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত-হাইকমিশনার-কূটনীতিকদের সাথে মতবিনিময় করেছি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা ল্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের প্রশ্নের জবাবও তিনি দিয়েছেন। অত্যন্ত সফলভাবে এই মতবিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে প্রশ্ন ছিল আপনারা কী আলোচনা করেছেন। জবাবে তিনি বলেন, আমরা কূটনীতিকদের সাথে মতবিনিময় করেছি। এর বেশি কিছু বলা যাবে না।

জানা গেছে, কূটনীতিকরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের কাছে জানতে চান, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট জয়ী হলে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? এ প্রশ্নের উত্তরে ড. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, কাতার, মরক্কোসহ ৩০টি দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, এস এস আকবর, শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ নেতা ছিলেন।

গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনও বৈঠকে অংশ নেন।

এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, আবদুল মান্নান, শাহজাহান ওমর, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদীন, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, মীর মো: নাসির উদ্দিন, শাহিদা রফিক, শামা ওবায়েদ, তাবিথ আউয়াল ও মীর হেলাল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।