ই-কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: খালেদা জিয়ার মুক্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন শুধু আইনী লড়াইয়ে তাকে মুক্ত করা যাবে না। এজন্য রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকাস্থ লক্ষীপুর জেলা জাতীয়তাবাদী যুব ফোরাম আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মুক্তির দাবি’ শীর্ষক এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার।

মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন সরকারের হাতে চলে গেছে। বেগম জিয়ার মুক্তি হবে কি হবে না, এটা এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। কারণ বিচাররকদের সরকার যা বলবে, তারা তাই করবেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনী লড়াইয়ে এককভাবে বেগম জিয়াকে মুক্ত করে আনতে সুবিধাজনক হবে না। সেই জন্য, রাজপথের কোনো বিকল্প নাই। আর আমাদের ধীরে-ধীরে কঠোর কর্মসূচির কথা চিন্তা করতে হবে। কারণ বেগম জিয়ার মুক্তি ও আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না- সেটা নির্ভর করবে রাজপথের আন্দোলনে। তাই ঈদের পরে আমাদের নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।

তাই দেশের সকল গণতন্ত্র শক্তিদের ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপি ও বেগম জিয়ার নেতৃত্বে এ আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে। এবং শেষ পর্যন্ত রাজপথের এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে- বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মওদুদ আহমদ আরো বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংকটের উত্তর রাজপথের মাধ্যমে অর্জন করতে হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাইকোর্ট জামিন দিয়েছে এবং আপিল বিভাগ সেটা বহাল রেখেছে। এখন মুক্তি দিতে অসুবিধাটা কোথায়? কেনো বেগম জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন না? এটা দেশবাসীকে (সরকার) জানতে হবে। নিম্ন আদালতের কারণে! আর নিম্ন আদালত কার অধীনে কাজ করে? নিম্ন আদালত প্রশাসনের অধীনে কাজ করে। অথ্যাৎ সরকারের অধীনে কাজ করে। সুতরাং নিম্ন আদালত স্বাধীন না।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, উচ্চতর আদালত তাকে জামিন দিয়েছে, তাকে আমরা মুক্ত করতে পারছি না। কেনো? কারণ সরকারের অপকৌশল, ষড়যন্ত্র ও দুরভিসন্ধি পরিকল্পনা রয়েছে, বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচন করা, তাকে নির্মূল করা এবং যত পারো মামলা দাও। আগে ছিল ৬ টা মামলা, গতকাল আরো ২ মামলা দেয়া হয়েছে। এ মামলাগুলোতে জামিন বহাল রেখে তাকে আমরা মুক্ত করতে পারবো না। কারণ তারা চেষ্টা করবে, এ মামলাগুলোতে আরো লম্বা-লম্বা তারিখ দেয়া।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে মওদুদ বলেন, খুলনা নির্বাচনে নীরব কারচুপি হয়েছে। সুতরাং এখন আমাদের দুটি বিষয় চিন্তা করতে হবে, প্রথমত, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে বিএনপির আর অংশগ্রহণ করবে কি না? বিষয়টি আমাদের নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, খুলনা সিটি নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে যে, বর্তমান ইসি, অদক্ষ, অযোগ্য, পক্ষপাতদুষ্টু, দলবাজ একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে বলে, আমরা মনে করি না। সুতরাং বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। এছাড়া এই ইসির অধীনে আমরা আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো কি করবো না, এটাও চিন্তা করতে হবে।