নিজস্ব প্রতিবেদক:: সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ (বিএসএমএমইউ)।

অতিরিক্ত পরিচালক নাজমুল করিম মানিক বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, চিকিৎসকেরা ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে দেখে এসেছেন। তারা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলে এসেছেন। এখন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা শুরু হয়ে গেছে বলা যায়।

বিএসএমএমইউ গত শনিবার বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। গত রোববার চিকিৎসকেরা কেবল প্রেসক্রিপশন ও আগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে চলে আসেন। মেডিক্যাল বোর্ড বলতে গেলে সোমবার পূর্ণাঙ্গভাবে তাদের কাজ শুরু করেছে।

এর আগে বলা হয়েছিল, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাতজনিত ব্যথাটা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে তিনি উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। এককথায় বলতে গেলে তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয় বলে জানিয়েছেন তার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা: আব্দুল জলিল চৌধুরী। তিনি গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করছিলেন। তিনি জানান, তার গিরায় গিরায় ব্যথা। বাম হাতটা বাঁকা হয়ে গেছে। হাত ঝিম ঝিম করে। বাম হাত ওপরে তুলতে পারছেন না (যাকে ফ্রোজেন শোল্ডার বলা হয়। তার ঘাড়ে ও কোমরে অনেক ব্যথা। বাম হিপ জয়েন্টে আর্থ্রাইটিস ডেভেলপ করেছে)। বেগম জিয়ার শরীরের ব্যথা কমানোর জন্য ডা: জলিল চৌধুরী শিগগিরই ফিজিওথেরাপি দেয়ার কথা জানান। তিনি জানান, রিপ্লেস করা দুই হাঁটু কয়েক দিন আগে ফুলে গিয়েছিল। অবশ্য ওষুধ দেয়ার কারণে হাঁটু ফোলা কমে গিয়েছিল।

উল্লেখ্য, বিএসএমএমইউ গত শনিবার বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। গত রোববার চিকিৎসকেরা কেবল প্রেসক্রিপশন ও আগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে চলে আসেন। মেডিক্যাল বোর্ড বলতে গেলে গতকাল সোমবারই পূর্ণাঙ্গভাবে তাদের কাজ শুরু করেছে। বিএসএমএমইউর ইন্টারনাল মেডিসিনের অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী আরো জানান, বেগম জিয়ার উচ্চ মাত্রার ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ কোনোটাই নিয়ন্ত্রণে নেই। এক সময় তার সুগার কমে হাইপো-ডায়াবেটিস হয়ে গিয়েছিল। তার সুষ্ঠু চিকিৎসায় যে উচ্চ মাত্রার ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে তা করার আগে হার্ট, লাংসহ (হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস) বেশ কিছু অঙ্গ-প্রতঙ্গের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে আগে। কোনো ইনফেকশন আছে কি না তাও জানতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। অধ্যাপক জলিল জানান, সব ধরনের পরীক্ষা করার পর নিশ্চিত হয়েই প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করতে চাই আমরা।

আব্দুল জলিল চৌধুরী বলেন, বেগম জিয়া দীর্ঘদিন থেকে বাতজনিত ব্যথায় ভুগছেন। এ সমস্যার জন্য ডাক্তার যেসব ওষুধ সেবন করতে বলেছিলেন সেগুলো কোনো কারণে সঠিকভাবে সেবন না করায় তার বাতের ব্যথা আগের চেয়ে বেড়েছে। তাকে বিভিন্ন সময় চিকিৎসকেরা চিকিৎসা নিতে বলেছিলেন এর আগে, কিন্তু তা বিলম্ব করায় তার ব্যথা আরো বেড়েছে।

প্রশ্নের জবাবে ডা. জলিল চৌধুরী বলেন, মেডিক্যাল বোর্ডের সবাই এক সাথে না দেখলেও কয়েকজন সদস্য বেগম জিয়ার সাথে পৃথকভাবে দেখা করেছেন। গত রোববার রাতে অধ্যাপক সৈয়দ আতিকুল হক তার সাথে দেখা করেন। বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দের চিকিৎসক ডা: মামুনও ছিলেন তখন। এর আগে বিএসএমএমইউর দুইজন চিকিৎসক বেগম জিয়ার রোগের ইদিহাস ও চিকিৎসা পর্যালোচনা করেছেন। অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী আবারো বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার চিকিৎসা শুরু হবে। কত দিন লাগবে তা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।