ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি চায় বাদী-বিবাদী উভয়পক্ষ। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন-আপিলের রায়ে খালেদা জিয়া খালাস পাবেন। আপিলটির শুনানি শুরু করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) প্রস্তুত রয়েছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত। পরে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন তিনি। এরপর আপিল বিভাগের এক আদেশে খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টকে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়।

মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে দণ্ড দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে রায়ের সার্টিফায়েড কপি (অনুলিপি) হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল দায়ের করা হয়। গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেওয়া ওই জামিন স্থগিত চেয়ে পরদিন ১৩ মার্চ আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক।

হাইকোর্টের দেওয়া ওই জামিন স্থগিত চেয়ে ১৪ মার্চ আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের শুনানি হয়। শুনানি শেষে খালেদা জিয়াকে হাইকার্টের দেওয়া জামিনাদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে) দায়ের করতে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল আদালত। এ আদেশ অনুসারে পরের দিন ১৫ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক লিভ টু আপিল দায়ের করেন।

এ লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি হয় ১৮ মার্চ। শুনানি শেষে আবেদনের ওপর আদেশের জন্য ১৯ মার্চ দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। পরে ১৯ মার্চ আদালত লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে আপিল শুনানির জন্য ৮ মে দিন ধার্য করেন। তারপর আপিল শুনানি শেষে ১৬ মে রায় দেন আপিল বিভাগ। রায়ে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বাতিল চেয়ে করা রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে নিম্ন আদালতের দেওয়া ৫ বছরের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া যে আপিল করেছেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে তা আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। পরে এই রায়ের অনুলিপি বিচারপতিদের স্বাক্ষর শেষে গত ১১ জুন প্রকাশিত হয়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার আপিল হাইকোর্টে নিষ্পত্তি করতে সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে মামলার পেপারবকুও ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। ফলে ঈদের পরই এ আপিল আবেদনের শুনানি হবে। আমরা দ্রুত এর নিষ্পত্তি চাই। কারণ, আপিলে তিনি খালাস পাবেন।’

৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে দুদকের প্রস্তুতি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, উচ্চতর আদালতের নির্দেশ। এটা অবশ্যই দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য পদক্ষেপ নেবো। হাইকোর্টের কাছে আমরা এটা নিবেদন করব যে- আমরা আপিলটির শুনানি শুরু করার জন্য প্রস্তুত আছি।

খালেদা জিয়ার আবেদনটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় আনতে আবেদন করা হবে কিনা জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘না। কোনও আবেদন করা হবে না। স্বাভাবিক নিয়মেই মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় আসবে। কেননা আপিলটির নিষ্পত্তিতে সর্বোচ্চ আদালতেরও একটি রায় রয়েছে।’