নিজস্ব প্রতিবেদক:: ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারের রায় ঘোষণা সামনে রেখে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ১৪ বছর আগে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীবিরোধী সমাবেশে নৃশংস ওই হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা দুই মামলায় বিচার শেষে রায় ঘোষণা হবে বুধবার।

খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপি ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু এবং সাবেক তিন আইজিপিসহ ৪৯ আসামি হিসেবে রয়েছেন।

এ রায় ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারের পাশের ভবনে ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা।

সকাল ৮টা থেকে নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে রয়েছে একস্তরের পুলিশ বেষ্টনি; সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন পুলিশ সদস্যরা।

কার্যালয়ের ডানদিকে কিছু দূরে রাখা আছে জলকামানের গাড়ি, সাঁজোয়া যান, প্রিজনভ্যান; কিছুক্ষণ পর পর পুলিশের প্রেট্রোল কারও আসা-যাওয়া করছে এই সড়কে।

পোশাধারী পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে কার্যালয়ের সামনে।

বিএনপি কার্যালয়ের প্রধান ফটক খোলা থাকলেও পুলিশের কড়া নজরদারির মধ্যে নেতা-কর্মীদের কাউকে প্রবেশ করতে দেখা যাচ্ছে না।

তবে রায় ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কার্যালয়ে আসেন; সঙ্গে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া।

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন ও বেলাল আহমেদসহ কয়েকজন অফিস কর্মী কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করছেন।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শোভাযাত্রায় গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন; আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী।

সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান আজকের প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়।

খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ মোট ৪৯ জন এ মামলার আসামি।

আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে আসছে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করে দলকে নেতৃত্বশূন্য করতেই এই হামলা হয়েছিল এবং তাতে প্রত্যক্ষ মদদ ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতাদের।

অন্যদিকে বিএনপি নেতারা দাবি করে আসছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেককে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।