নিজস্ব প্রতিবেদক:: সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান ও খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৭ দফা দাবি আর ১১টি লক্ষ্য অর্জনে শিগগিরই একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে। এসব দাবি, লক্ষ্য ও কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফ্রন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করেছেন। গতকালও গুলশানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে সমন্বয় করে অভিন্ন কর্মসূচি দেবে বিএনপি। সব মিলিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে একটি নির্বাচনী মোর্চায় রূপ দিতে চায় বিএনপি হাইকমান্ড।

দীর্ঘদিন ধরে ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছিল বিএনপি। অবশেষে সরকারবিরোধী কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ ঘটে গত শনিবার। নতুন এই রাজনৈতিক জোট নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। অনেকেই এই নতুন জোটকে স্বাগতও জানিয়েছে। এই বৃহত্তর ঐক্যের আনুষ্ঠানিক সূচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ও অন্যান্য দাবি আদায়ের পথে বিরোধী পক্ষ আরো একধাপ এগিয়ে গেল বলে দলটির হাইকমান্ড মনে করে।

জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকার কী ধরনের হবে, কিভাবে তা গঠিত হবে এবং ঐক্যফ্রন্টের নতুন কর্মসূচি কী হবে তা নিয়ে নবগঠিত ঐক্যফ্রন্ট শিগগিরই একটা রূপরেখা তুলে ধরবে। আগামীকাল মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নতুন কর্মসূচি আসবে এবং অক্টোবরের মধ্যেই কর্মসূচি সম্পন্ন করা হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যেসব দাবি ও লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে তা পূরণে এবং নির্বাচনে আসন বণ্টন ও অন্যান্য বিষয়েও পর্যায়ক্রমে আলোচনায় বসবেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ঐক্যের কথা বলে আসছিলাম। অবশেষে তা চূড়ান্তরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। এ নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে নতুনভাবে উদ্দীপনা ও আশার আলো তৈরি হয়েছে। আমরা শিগগিরই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচির একটা রূপরেখা ঘোষণা দেবো। এটা নিয়ে এখন আমরা কাজ করছি, যথাসময়ে আমরা রূপরেখা দেবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই। এখন প্রেক্ষাপট বদলেছে। আমরা ঐক্যফ্রন্ট করেছি, এককভাবে কিছু করার তো প্রশ্ন এখন নেই। আমরা প্রথম খসড়া তৈরি করেছি, এটার ওপর আলাপ-আলোচনা করতে হবে। আমাদের আন্দোলনের কয়েকটা পর্যায় থাকবে এবং এই মাসের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে। দু-এক দিনের মধ্যেই আমরা কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করব। নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির আগে আসন বণ্টন নিয়ে কোনো আলোচনা আপাতত হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশের ঘোষণার পর এর ৭ দফা দাবি এবং ১১টি লক্ষ্য তুলে ধরেন ফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এখন কোন প্রক্রিয়ায় তারা এগোবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা দুর্গাপূজার পর দেশব্যাপী গণসংযোগে নামবো। যত বেশি সম্ভব আমাদের ঘোষিত দাবি ও লক্ষ্যগুলোকে জনগণের কাছে তুলে ধরে প্রচারণা চালাব। আমরা যে লক্ষ্য দিয়েছি আশা করি দেশের মানুষ আমাদের ডাকে সাড়া দেবেন। মাঠে নামলেই তার প্রমাণ দেখা যাবে। এভাবে একপর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে সরকার দাবি পূরণ অবশ্যই করবে। পর্যায়ক্রমে আরো কর্মসূচি আসবে বলে তিনি জানান।

নির্বাচনী বছরে নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতি আস্থা রেখে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, লক্ষ্য পূরণে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে ফ্রন্ট।

গত শনিবার বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বহুল প্রতীক্ষিত বৃহত্তর জোটের ঘোষণা দেয়া হয়। সরকারবিরোধী সুদৃঢ় অবস্থান নেয়া এ জোটে যুক্ত হয়েছে বিএনপি, ড. কামালের নেতৃত্বাধীন ঐক্যপ্রক্রিয়া, মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য এবং আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জেএসডি। ওই দিন সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ ঘোষণা দেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়। ঘোষিত ৭ দফার মধ্যে প্রথম দফায় বলা হয়েছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীর মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।