ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: দূরপাল্লা এবং নগর পরিবহন হঠাৎ বন্ধের জন্য সরকারকে দায়ী করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ বন্ধ করতেই এই কৌশল নেয়া হয়েছে।

আজ রবিবার সমাবেশের প্রস্তুতি চলাকালে বিএনপি নেতা গণমাধ্যমকর্মীদেরকে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সকাল থেকেই খবর পাচ্ছি বিভিন্ন দিকে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়েছে, বাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মহাসড়ক বন্ধ করেছে যেন নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দিতে না পারেন।’

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের স্মরণে বুধবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ডাকা জনসভার অনুমতি না মিললেও রবিবারের জনসভার অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। বিএনপি এই সমাবেশে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও আশেপাশের এলাকা থেকে নেতা-কর্মীদেরকে আনতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

সমাবেশের দিন সকালে হঠাৎ করে আশেপাশের জেলা থেকে ঢাকামুখি বাস বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। কেন, তারা বাস বন্ধ করে দিয়েছে সে বিষয়ে প্রশ্নের কোনো জবাব নেই। কোনো রকম ঘোষণা ছাড়াই এই ব্যবস্থায় বিশেষ করে রাজধানীতে যাদের জরুরি কাজ রয়েছে তারা পড়েছেন বিপাকে। ভেঙে ভেঙে ছোট ছোট যানবাহন বা দীর্ঘ পথ হেঁটে গন্তব্যে আসছে হাজারো মানুষ।

কেবল দূরপাল্লা বা স্বল্পপাল্লার বাস নয়, মহানগরে চলাচলকারী বাসের একটি বড় অংশও চলছে না সকাল থেকে। আবার সকালে ট্রিপ নিয়ে বের হলেও বেশ কিছু বাস গন্তব্যে যাওয়ার পর সেখানেই অবস্থান করছে।

মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, বিএনপির সমাবেশে বাধা দিতেই সরকার এই কাজ করেছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারের কোনো ভাষ্য এখন পর্যন্ত আসেনি। তবে এভাবে জনস্রোত থামানো যাবে না বলে মন্তব্য করেন ফখরুল। বলেন, হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নিয়ে এতে সফল করবে।

মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার বলেন, ‘সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে ঢাকায় আসা বাসগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ডেমরা এবং শ্যামপুর থেকে আসার পথে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এতে আমরা বিচলিত না। একজন বাধা পেলে তিনজন সমাবেশে আসবে।’

বিরোধী দলের সমাবেশে এর আগেও নানা সময় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। আর এটা কেবল বর্তমান সরকারের আমলে নয়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালেও নানা সময় আওয়ামী লীগের সমাবেশের দিন ঢাকামুখী যান চলাচল বন্ধ হয়েছে বিনা নোটিশে। কেবল বাস নয়, বিরোধী দলের বড় সমাবেশে নানা সময় ট্রেন এমনকি লঞ্চ চলাচলও বন্ধ থেকেছে নানা সময়ে।