ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সহায়তা করতে কক্সবাজারে বিএনপির ২২টি ত্রাণবাহী ট্রাক যেতে বাধা দেওয়ায় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে বাধা দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে ধিক্কার জানাই, ঘৃণা জানাই। এর মাধ্যমেই সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে।’

বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা চলার সময় কক্সবাজারে দলের ত্রাণবাহী ট্রাক যেতে বাধা দেওয়ার খবর এলে তিনি তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে গিয়ে আমাদের দল সরকারের বাধার মুখে পড়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, গতকাল (মঙ্গলবার) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়া ও ত্রাণ বিতরণ ছিল লোক দেখানো। কারণ মিয়ানমার থেকে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন সরকার যদি আন্তরিক হতো, তাহলে অন্তত বিএনপির পক্ষ থেকে যাওয়া উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের ত্রাণ বিতরণে বাধা দেওয়া হতো না।’

দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দশম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। আলোচনায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কক্সবাজারে আমাদের কেন্দ্রীয় রিলিফ টিম ২২টি ট্রাক নিয়ে গিয়েছে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে। এইমাত্র খবর এসেছে, তাদের উখিয়াতে যেতে দিচ্ছে না প্রশাসন। পুলিশ ট্রাক আটকে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কক্সবাজারে আমাদের বিএনপি অফিস পুলিশ ঘিরে রেখেছে। আমাদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অফিস ঘরে আটকা পড়ে আছেন। অসহায় রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ টিমকে কক্সবাজারের উখিয়া যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে।’ তিনি অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিএনপির ত্রাণ বিতরণে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরাও নির্বাচন চাই। তবে সেই নির্বাচনের আগে নির্বাচনি পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। সবার আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করে তবেই জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। বিচার বিভাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আজকে তারা বিচার বিভাগকে প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। সংসদকে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রধান বিচারপতিসহ অন্য বিচারকদের হেয় করে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিকে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। আমরা (বিএনপি) এর নিন্দা জানাই।’ সংসদে ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে প্রধান বিচারপতির দেওয়া রায়ের পর্যবেক্ষণ বাতিল বলে গণ্য করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন সরকার আবারও গায়ের জোরে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে ষড়যন্ত্র করছে। তারা (আওয়ামী লীগ) জনগণ ও বাংলাদেশের বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে ফের প্রতারণা করে নির্বাচন দিতে চায়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছিলেন চীন ও ভারতের সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সর্ম্পক সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। অথচ এখন দেখতে পাচ্ছি, রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন ও ভারত মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়েছে। তাহলে কি প্রধানমন্ত্রীর চীন ও ভারত নিয়ে কথার কোনও ভিত্তি নেই? রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন ও ভারতের বাংলাদেশের পাশে না থাকাটাই প্রধানমন্ত্রীর ব্যর্থ পররাষ্ট্রনীতির প্রমাণ।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর বিএনপি (উত্তর) সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সী বজলুল বাসিত আঞ্জু, মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরীন খান প্রমুখ।