ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছে, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা একজন দুনীর্তিবাজ। স্বাধীন দুনীর্তি দমন কমিশন তার দুনীর্তির বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। দুনীর্তি দমন কমিশন যখন মামলা করবে তখনই তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় নারায়ণগঞ্জের চাদঁমারী এলাকায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবি সমিতির কার্যকরি কমিটির অভিষেক ও ডিজিটাল বার ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সাথে আপিল বিভাগের তার সহযোগি বিচারকরা তার সাথে বসে বিচারকাজ পরিচালনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। কেন অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন? কারণ তিনি একজন দুনীর্তিবাজ। সেই কারণে ওরা যখন বার বার বলেছেন আমারা তার সাথে আর বসবো না। তখন তিনি অন্য কোন উপায় না পেয়ে তিনি পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের প্রায় এক বছর পর এসে তিনি এই নতুন গল্প সৃষ্টি করেছেন। আমি এটা আগে বলেছি এখনও বলছে এটা হচ্ছে একজন পরাজিত ব্যক্তির হা হুতাস।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার দুনীর্তি বিষয়ে আরেকটি প্রশ্ন আসতে পারে? একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুনীর্তির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন এখন পর্যন্ত মামলা হয় নাই। আমরা সব সময়ে বলে এসেছি আইন সকলের উর্ধ্বে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্বাধীন দুনীর্তি দমন কমিশন সেটা খতিয়ে দেখছে। তারা যখন তার বিরুদ্ধে মামলা করবেন তখনই মামলা হবে। সেখানে সরকার কোন হস্তক্ষেপ করবেনা। তিসি আরো বলেন, এসকে সিনহা আজকে যা বলছেন তা সবই মিথ্যা ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবি সিমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- নারায়ণগঞ্জ-৫ সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতিক, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সংরক্ষিত নারী সাংসদ হোসনে আরা বাবলী, আইন, বিচার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মো: জহিরুল হক, আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন-১) বিকাশ কুমার সাহা, নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া ও জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুর রহমান প্রমুখ।

মন্ত্রী বলেন, জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে, সেটা ডিসেম্বর মাসে প্রমাণ দিয়ে দিবো ইনশাল্লাহ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৭ জনকে হত্যা করা হয়। আমরা আইনজীবি, আমরা বুঝি একটি হত্যা হলে একটি মামলা হবে। আমরা আইনের শাসনের বিশ্বাস করি। আমরা কখনই শিখি না একটি হত্যা হলে আইন হবে এই হত্যার বিচার হবে না। এ রকম জিনিস আইনজীবিরা চিন্তা করে নাই। দুঃখ জনক হলেও সত্য বাংলাদেশে সেটা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, একুশ বছর পরে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে সেই মামলা করতে হয়েছে, আর সেই সাথে শুরু হয়েছে বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

আইনমন্ত্রী বলেন বলেন, সংবিধানের বাইরের প্রধানমন্ত্রী কোন কিছুই করবেন না, সেটা আমি পরিস্কার করে বলে দিতে চাই। যারা আজকে সংবিধানের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, যারা সংবিধান পরিপন্থি ব্যবস্থা করার জন্য পায়তারা করছেন তাদেরকে আমি শুধু বলে দিতে চাই, আপনারা ডিসেম্বরের নির্বাচনে আসেন, জনগণ যদি আপনাদের গ্রহণ করে তাহলে আমাদের কোন আপত্তি নেই, আর জনগণ যদি আমাদেরকে গ্রহণ করে তবে আপনারা কোন আপত্তি করতে পারবেন না, কোন কথা বলতে পারবেন না। আসেন আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করব, ইনশাল্লাহ সেই সুষ্ঠু নির্বাচনে আমরা জয়ী হবো। সেই নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবে নির্বাচন কমিশন। তারা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করবেন। আমরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করব।

মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিজস্ব টাকায় পদ্মা সেতু নির্মিত হচ্ছে। দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণিত হয়েছে। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ পরিনিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা পেছন দিকে হাটাতে শিখি নাই। যার বলেন, সংবিধানে নাই তত্তাবধায়ক সরকার দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। আমরা পিছন দিকে আর হাটবোনা। আমরা হাটলে সামনের দিকে হাটবো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।

বিশেষ অতিথিরি বক্তব্যে সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেন, সাবেক রাস্ট্র্রপতি ড: বদরুদ্দোজা চৌধুরি বিএনপি দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়ায় বিএনপি আশার আলো দেখছেন। আপনাদের শোকরানা নামাজ পড়া উচিত। কিছু ডক্টররা এক হয়ে দেশের বিরুৃদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। অনেকে স্বপ্ন দেখছেন দেশে কিছু একটা ঘটবে। তিনি হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, যদি ২০১৪ সালের মতো আবার মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করেন তবে শেখ হাসিনার কর্মীরা প্রস্তুত আছে তা মোকাবেলা করার জন্য।