ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: পাঁচ দফা দাবি ও ৯ দফা লক্ষ্য সামনে রেখে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন ড. কামাল হোসেন ও প্রফেসর ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে নেতারা এ ঐক্যের আহবান জানান। স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন ও ব্যক্তি ছাড়া সব রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক ও নাগরিক শক্তিকে এ ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত করার কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন তারা। সংসদ ভেঙে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনের আগে পরে সেনা মোতায়েন ও ইভিএম বাতিল ও গ্রেপ্তার ছাত্র এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি রয়েছে ঐক্যের ঘোষণায়। আগামীতে বৃহৎ ঐক্যের সরকার গঠন হলে রাষ্ট্র পরিচালনার ৯ দফা লক্ষ্যও ঘোষণা করেছেন নেতারা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ঐক্যের ঘোষণা দেয়ার কথা থাকলেও অনুমতি না থাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণাপত্রটি পাঠ করা হয়। শহীদ মিনারে যাওয়ার অনুমতি না দেয়া প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানী জানিয়েছেন ভর্তি পরীক্ষার কারণে কর্মসূচির অনুমতি দেয়া হয়নি। বিকালে কেন অনুমতি দেয়া হয়নি- জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরীক্ষার দিন কোনো কর্মসূচি করতে দেয়া হয় না।
সংবাদ সম্মেলনে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদসহ যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী জাতীয় প্রেস ক্লাবে আসার পথে অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে পারেননি। তবে বিকল্পধারার প্রতিনিধি হিসেবে সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত ঘোষণাটি পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে সংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের জনাকীর্ণ উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন জেএসডি সভাপতি আ স ম রব। সংবাদ সম্মেলন শেষে হাতে হাত ধরে নেতারা জাতীয় ঐক্যের শপথ নেন।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, বর্তমানে একটি জনসমর্থনহীন, অনির্বাচিত সরকার দেশ শাসন করছে। সন্ত্রাস, গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা ও পুলিশ প্রশাসন ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে আছে। জনসমর্থন নিয়ে কেউ যাতে ক্ষমতায় না আসতে পারে সেজন্য তারা জনগণের অবাধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অধিকারসহ গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। আগামী নির্বাচনে যে কোনোভাবে জয়লাভের জন্য ইভিএম পদ্ধতি প্রবর্তন, ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ একের পর এক কূটকৌশল অবলম্বন করছে। সন্ত্রাস, গুম, খুন, বিচারবর্হিভূত হত্যা এবং নির্বিচারে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকারসহ, মৌলিক, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারসমূহ কেড়ে নেয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিতে ‘কোটা সংস্কার’ এবং ‘নিরাপদ সড়ক’-এর দাবিতে ছাত্র সমাজের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পুলিশ ও সরকারি নামধারী ছাত্র সংগঠন অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে দমনে লিপ্ত। এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই, ভিন্নমতের কাউকে নির্বিঘ্নে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। রাষ্ট্রের আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগসহ সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বেচ্ছাচারী নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ হরণ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে দেশ, জাতি ও জনগণকে মুক্ত করে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বত্র কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের কোনো বিকল্প নেই। তাই, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সব স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি ও নাগরিক সমাজসহ জনগণকে সুসংগঠিত করে আমরা অভিন্ন দাবি আদায় এবং লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে শান্তিপূর্ণ ও অহিংস গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গিকার ব্যক্ত করে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা প্রদান করছি। ঘোষিত ৫ দফা দাবি তুলে ধরে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা অর্থাৎ লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।
‘কোটা সংস্কার’ এবং ‘নিরাপদ সড়ক’ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রছাত্রীসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা মামলাসমূহ প্রত্যাহার করতে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা যাবে না।
নির্বাচনের এক মাস পূর্ব থেকে নির্বাচনের পর ১০ দিন পর্যন্ত মোট ৪০ দিন প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।
নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা ও পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর যুগোপযোগী সংশোধনের মাধ্যমে গণমুখী করতে হবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।
৯ দফা লক্ষ্যে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দুর্নীতিকে কঠোর হাতে দমন এবং ইতিপূর্বে দুর্নীতির দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি, বেকারত্বের অবসান ও শিক্ষিত যুবসমাজের সৃজনশীলতাসহ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়োগ দানের ক্ষেত্রে মেধাকে একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা।
কৃষক-শ্রমিক ও দরিদ্র জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নে সুনিশ্চিত করা।
জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কালো থাবা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন করা।
রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, জনগণের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রে সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের শৃঙ্খলা নিশ্চিত, জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বণ্টন ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন এবং প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক সৃজনশীল এবং কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা।
‘সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব-কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়’- এই নীতির আলোকে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা এবং প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে পারস্পারিক সৎ প্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে ফেরত ও পুনর্বাসনের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমর-সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা।
এসব দাবি ও লক্ষ্য তুলে ধরে বলা হয়, অভিন্ন দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে জোটবদ্ধ নির্বাচন ও সৎ, যোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও শাসনকার্য পরিচালনা স্পষ্ট অঙ্গীকারসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত লক্ষ্য ও কর্মসূচি প্রণয়ন করে জনসম্মুখে প্রকাশ, প্রচার ও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে বৃহত্তর ঐক্যের ঘোষণার আগে গতকাল শনিবার তাদের কর্মসূচিতে কয়েকবার পরিবর্তন আসে। প্রথমে সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওই ঘোষণা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় তা হয়নি। পরে দ্বিতীয় পর্বে বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন শেষ করে বিকাল ৪টায় নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য যাওয়ার কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন না করে বিকাল ৪টার পর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিছুটা এগিয়ে কদম ফোয়ারার কাছে গিয়ে তারা থেমে যান। এসময় জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমাদেরকে শহীদ মিনারে যেতে দেয়া হবে না। নিষেধ করা হয়েছে। ভিসি প্রক্টরকে দিয়ে অনুরোধ ও নির্দেশ দিয়েছেন। যেতে দেবে না। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে শহীদদের স্মৃতির কাছে যেতে দেবে না। পুলিশ দিয়ে শহীদ মিনার বেরিকেড করে রেখেছে। আসুন আমরা প্রেস ক্লাবে ফিরে যাই। এই বলে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তিনি উপস্থিত সবাইকে নিয়ে আবার প্রেস ক্লাবের দিকে রওনা দেন।

ঘোষণাপত্র পাঠের পর সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, আসুন- যে জনগণ দেশের মালিক, ক্ষমতার মালিক তাদেরকে আমরা বৃহত্তর ঐক্যে সংঘবদ্ধ করি। মালিক হিসেবে জনগণকে সমবেত করি। দেশের মালিককে ঐক্যবদ্ধ করলে খুন, রাহাজানি থেকে সমাজকে মুক্ত করা যাবে। গত প্রায় ৪৭ বছরের যে ঐক্য গড়ে উঠছে। তাকে সুসংগঠিত করি। দেশ শাসন করবে সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে আপনারা দেশের মালিকানা থেকে বঞ্চিত হবেন। মালিক দেশের জনগণ। তা কার্যকরের জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন ও কার্যকর গণতন্ত্র অপরিহার্য। কালো টাকা, সন্ত্রাসের প্রভাব মুক্ত নির্বাচন হতে হবে। যখনই নির্বাচন আসে, তখন আন্দোলনে নামতে হয় একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। জনগণ যাকে বিশ্বাসী ও আস্থাভাজন মনে করবে তারাই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে। সবার সঙ্গে আমরা এখানে আলোচনা করব। কীভাবে সবাইকে সুসংগঠিত করা যাবে। সম্মিলিতভাবে সবাই অবদান রাখতে পারবে। এ সময় এই প্রবীণ আইনজ্ঞ আরো বলেন, দেশের ১৬/১৭ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ আছে। সুষ্ঠু প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য তারা কালো টাকা ও সন্ত্রাসের ভূমিকা চায় না। প্রত্যেক এলাকায় নির্বাচন পাহারা দিতে হবে। যাতে জনগণ নির্ভয়ে যাচাই-বাছাই করে ভোট দিতে পারে। জনগণের স্বপ্ন, স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হবে। শাসন ব্যবস্থায় থাকতে হবে কার্যকর গণতন্ত্র। জনগণের আকাঙক্ষা, স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই নির্বাচিতরা দেশ পরিচালনা করবে।

মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সম্পর্কে তিনি বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংবিধানে ভেঙে ভেঙে লেখা আছে। তা দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে উল্টোটা হচ্ছে। অবশ্য তারা এখনও কিছু লিখতে পারে। এখনও আসল কথা মানুষের কানে পৌঁছে যায়। সভা-সমাবেশের অধিকার দিতে হবে। রাষ্ট্রের ৫০ বছর সামনে রেখে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই দেশ চালাবে। তরুণদের জন্য উন্নত শিক্ষা থাকতে হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রসঙ্গ তোলে ড. কামাল বলেন, কোটা সংস্কার চাই। যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিতে নিতে হবে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্ররা মাঠে নেমেছিল। তরুণদের মধ্যে দেশকে ভালোবেসে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার বোধ ও আগ্রহ আছে। দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য ন্যায্য দাবির পক্ষে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এরপর আগামী ১৮ই সেপ্টেম্বর খুলনায় কর্মসূচির ঘোষণা দেন আ স ম আবদুর রব। পর্যায়ক্রমে বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার কর্মসূচি আসবে বলে জানান রব। আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে নাগরিক সমাবেশ সফল করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান নেতারা।