রাবি প্রতিনিধি::

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) বর্তমান প্রশাসনের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জনসমক্ষে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষকরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয় রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে তারা রাবির বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়মের ডজনখানের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের দুর্নীতির বর্নণা করে ভুতত্ব ও খনি বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সুলতান উল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে রাবি উপচার্য এম আব্দুস সোবহান দায়িত্ব গ্রহনের পর ৪৭৫ তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ^ বিদ্যালয় নিয়োগ নীতিমালার ব্যপক পরিবর্তন করে নিজের মেয়ে এবং মেয়ে জামাইকে ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং আইবিএতে নিয়োগ দিয়েছেন।

বিভাগে তার কন্যা এবং জামাতার মেধাক্রম ছিল যথাক্রমে ২১ ও ৬৭ তম। আইবিএতে আবেদনকারী ৬৬ জনের সিজিপিএ ৩.৫ এর উপরে। পূর্বের নীতিমালা অনুযায়ী তার মেয়ে-জামাইয়ের যোগ্যতা ছিলনা এজন্য বানিজ্য অনুষদের যোগ্যতা ৩.৫ থেকে ৩.২৫ এ নামিয়ে আনেন। শুধুমাত্র নিজের পরিবারের স্বার্থে নিয়োগ নীতিমালা নিম্নমানের করা বিশ্বিবদ্যালয়ের সম্মান ভুলন্ঠিত করেছে এবং এটি একাচি বড় ধরনের দুর্নীতি।

তাছাড়া ৮ টি বিভাগে ২৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন যাদের অনেকের আগের নীতিমালায় আবেদন করার যোগ্যতা ছিলনা।

৪৮১ তম সিন্ডিকেট সভায় সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারি নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তন করে আবেদনের বয়সসীমা ৩০-৩৫ বছর করেছেন।

অন্যদিকে উপাচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য্যের অনুমতি ছাড়াই ২০১৭ সালের ২২ জুন ১০০% পেনশ সুবিধা উঠিয়ে নেবার জন্য বিজ্ঞান অনুষদেও ডীনকে এক বেলার জন্য ভিসি পদে রেখে অবসরে যান এবং নিজ বিভাগে যোগদান করে শিক্ষকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহন করেন। কিন্তু ২৪ জুন ২০১৭ তারিখে রাষ্ট্রপতির কােেছ আবেদন করেন যে তিনি ২৯ জুলাই অবসরে যেতে চান। অসত্য তথ্যের উপর ভিত্তি করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই থেকে তার পুন: দায়িত্ব পালনের অনুমোদন করেন। অর্থ্যাৎ ২০১৭ সালের ২১ -২৮ জুলাই সময়ে তিনি নিয়মানুযায়ী উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেননা। তাহলে এসময়ে নেয়া সকল সব সিদ্ধান্ত অবৈধ ? বলে প্রশ্ন ছুড়ে দেন এই শিক্ষক।

লালমনির হাটের আদিতমারী উপজেলার বিএনপির ২৩ বছর ধরে দায়িত্ব পালনকারী সহ-সভাপতি ও সভাপতি সাজু চৌধুরির পুত্র প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়াকে সরকার ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে সত্য লুকিয়ে উপ-উপাচার্য পদ পাইয়ে দিয়েছেন। সাম্প্রতিককালে উপ-উপাচার্য জাকারিয়া আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে এক প্রার্থীর নিকট থেকে নিয়োগ বানিজ্যের অনৈতিক দও কষাকষির অডিও মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন না করে তার মেয়ে জামাইকে আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ দেন।

উপাচার্যের অনুমোদনে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিফলকে কাজ বাদ রেখে বিশ্ববিদ্যালয়র সৌন্দর্যবর্ধনের নামে প্যারিস রোডসহ বিভিন্ন রাস্তায় ঘাস লাগাচ্ছে। আবার সেই ঘাস উঠিয়ে সেখানেই ফুটপাত তৈরী করে সরকারী অর্থের অপচয় এবং লোপাট করছে।

স্বজনপ্রীতি করে রাবি স্কুলের শিক্ষক, হলের আবাসিক শিক্ষক, ও অযোগ্য ভায়রাকে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার অভিযোগসহ শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাহীন সরকারী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের পরিচালক নিয়োগ দেন উপাচার্য। অযোগ্যদের নিয়োগ, ১৯৭৩সালের আইন ভঙ্গকরে রেজিস্ট্রার নিয়োগ এবং ছাত্র উপদেষ্টার স্বামীর যোগ্যতা শিথিল করে প্রিন্সিপাল নিয়োগ দিয়ে পড়ালেখার মান ধ্বংস করা হচ্ছে বলে অভিয়োগ করেন উপস্থিত বক্তারা।

এছাড়াও, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় পুরস্কার থাকা সত্ত্বেও উপাচার্য দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে কোনো কারণ ছাড়াই তায়কোয়ান্দ বন্ধ করে দেয়া হয়। এসময় তারা অভিযোগ করে বলেন, অনিয়ম, অন্যায়, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ধামাচাপা দেবার জন্য তিনি প্রতিবাদকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারির বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত কমিটি, এনওসি না দেয়া, পদোন্নতির ও বিভিন্ন ফাইল আটকে রাখাসহ নানা নির্যাতন – নিপীড়ন করে চলেছেন।

তাছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ বানিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থের অপচয়, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থের লুটপাট, উপাচার্য সেমিনারে ‘জয় হিন্দ’ বলে দেশের সার্বভৌমত্বের বিশ্বাসঘাকতা ও অযোগ্যর্দে এডহক নিয়োগ ইত্যাদির প্রতিবাদ ও অপসারনের দাবি জানিয়ে দুদককে এসব বিষয় খতিয়ে দেখে জনসমুক্ষে তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের অনুরোধ করেন। তাদের এসব অভিযোগের প্রমাণ চাইলে দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষকরা সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের কাছে এসব ঘটনার যথেষ্ট প্রমাণ আছে। এবং সামনে জনসমক্ষে এসব দুর্নীতির প্রমানাদি ডিসপ্লের মাধ্যমে দেখানো হবে।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলা বিভাগের প্রফেসর সফিকুন্নবী সামাদী, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সাইফুল ইসলাম, প্রফেসর জিন্নাত আরা, প্রফেসর আলী রেজা অপু, মো. সোলায়মান চৌধুুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এক্রাম উল্লাহ, সঙ্গীত বিভাগের প্রফেসর অসিত রায় ও প্রফেসর পদ্মীনি দে, আইন বিভাগের প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রফেসর দুুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, ক্রীড়া উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান চঞ্চল প্রমুখসহ প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।