ই-কণ্ঠ ডেস্ক :
ধূমপানের সঙ্গে হৃদরোগের সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ঠ। ধূমপানের ফলে শরীরের প্রায় সব অঙ্গই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে হার্ট বা হৃদযন্ত্রের ক্ষতি অনেক বেশি হয়। ধূমপানের ফলে হৃদযন্ত্রের প্রধান যে অসুখ হয়, তা হচ্ছে করোনারি হৃদরোগ। হঠাৎ মৃত্যুর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ করোনারি হৃদরোগ। সুতরাং সবার সচেতনতা প্রয়োজন।

যারা অতিরিক্ত ধূমপান করেন তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, যারা ৫টা আর যারা ১০টা সিগারেট খান তাদের মধ্যে ১০টা সিগারেট খাওয়া মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি। করোনারি হৃদরোগে একবার আক্রান্ত হয়ে গেলে ধূমপান ছাড়তেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

আমেরিকায় প্রতি পাঁচজনে একজন ধূমপানজনিত জটিলতায় মারা যায়। আমাদের দেশে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও, একথা জোর দিয়ে বলা যায়, ধূমপানজনিত সমস্যায় প্রতিদিন অনেকে মারা যায়। অথচ একটু সচেতনতাই এসব মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। কেউ কেউ ভাবেন, তারা কম ধূমপান করেন। সুতরাং তাদের ক্ষতি কম হয়। তবে গবেষণার ফলাফল বলছে অন্য কথা। কম ধূমপান করলে বা মাঝে মাঝে ধূমপান করলেও হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হয়। সুতরাং যারা অনিয়মিত ধূমপায়ী বা কম সিগারেট খান তাদের এখন থেকেই সাবধান হতে হবে।

এ বিষয়টিকে হালকাভাবে নিলে হবে না। সিগারেটের ধোঁয়ায় বিভিন্ন উপাদান থাকে। এসব উপাদান শুধু যে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে, তা নয়। ক্যান্সার হওয়ার জন্য এসব উপাদান সরাসরি দায়ী। সিগারেটের ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড থাকে, যা করোনারি ধমনীর ভেতর চর্বির স্তর জমতে সাহায্য করে। আবার সিগারেটের নিকোটিন রক্তচাপ বাড়ায়। আর রক্তচাপ বাড়লে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে দেখা দেয় হৃদরোগ।

অনেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পরেও ধূমপান ছাড়েন না। একবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর সাধারণত দীর্ঘদিন বিভিন্ন ওষুধ খেতে হয়। এদের দাম যেমন বেশি আবার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। এসব ওষুধ যারা খান তাদের মধ্যে যারা ধূমপায়ী তারা ভাবেন ওষুধই তাদের হৃদরোগ প্রতিরোধ করবে। কিন্তু ধূমপান ছাড়তে তারা ভুলে যান। ফলে ওষুধ খেলেও তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমে না।

যারা ধূমপান ছাড়তে চাচ্ছেন বা এরই মধ্যে ছেড়ে দিয়েছেন তাদের জন্য সুখবর। এদের হঠাৎ মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। ধূমপানজনিত হৃদরোগ এড়াতে সিগারেট একেবারে ছেড়ে দেয়া জরুরি। সিগারেট ছেড়ে দিলে হঠাৎ মৃত্যু বা ধূমপানজনিত হৃদরোগের সম্ভাবনা একেবারে কমে যাবে।

লেখক-
ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল
মেডিসিন বিভাগ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ