নারায়ণগঞ্জ প্রতিদিন ডট কম::
আদর্শ, সততা ও নীতি দিয়ে দীর্ঘ ৪১ বছর চাকুরি জীবনে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন সুরুজ মিয়া। বাংলাদেশ রেলওয়ের পিম্যান হিসেবে কর্মরত থেকে আর ৭২ ঘন্টা পর আবসরে যাবেন তিনি। দীর্ঘ ৪১ বছরে তিনি ছুটি নিয়েছেন মাত্র ২০ দিন।  তিনি সপরিবারে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন পূর্ব শিহাচর এলাকায় বসবাস করছেন।

তিনি ১৯৫৯ সালে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দী উপজেলা উত্তর নরদী এলাকায় মো. হোসেনের ঘরে জন্মগ্রহন করেছিলেন।

জানা যায়, ১৯৭৭ সনের ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগে চাকুরিতে যোগদান করেন তিনি। চাকুরি জীবনে যোগদানের পর থেকে তিনি মাত্র ২০ দিন ছুটি কাটিয়েছেন। এটা ইতিহাসে বিরল। কেন না অনেক সরকারি চাকুরিজীবী তার নিজ কর্মস্থল কে ঘরের মত মনে করে ইচ্ছে মত ডিউটি করেন। কিন্তু তার বেলায় সম্পূন্ন ভিন্নরূপ। তিনি ডিউিটিতে সব সময় ১০-২০ মিনিট অগে যেতেন। এবং ডিউটি শেষের ১০-২০ মিনিট পরে চলে যেতেন। অনেক সময় তাঁর সহকর্মীদের কেউ অসুস্থ্য বা কোনরকম ঝামেলায় পরলে তখন তার ডিউটি তিনিই করতেন।

তার দীর্ঘ ৪১ বছরের চাকুরি জীবনে কোন লাল দাগ লাগেনি তার চরিত্রে। কোন রকম ঘুষ বা অনৈতিক লেনদেনের সাথে কখনও নিজেকে জড়াননি সুরুজ মিয়া। পাশাপাশি সহকর্মীদের সাথে সব সময় করেছেন ভাল আচরন।

এতে করে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। সকলের মনে গভীরে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। তার সহকর্মীরা জানায়, সুরুজ মিয়া ছিল সরকারি চাকুরি জীবীদের মধ্যে একটি উদাহরন।

তিনি দীর্ঘ ৪১ বছর চাকুরি কেরেছন রেলওয়েতে। কিš‘ কোন ধরনের বদনাম নেই তার। আছে সুনাম। কখনও দায়ীত্ব অবহেলা করেননি তিনি। যখন যে দায়ীত্ব দিয়েছেন উর্ধতন কর্মকর্তারা তিনি তা সঠিকভাবে পালন করেছেন।

সততা ও আদর্শ দিয়ে রেলওয়ে ও কমকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে তৈরি করেছেন এক সেতু বন্ধন। যা চীরদিন থাকবে। সকল কর্মচারীরা সুরুজ মিয়ার কথা কখনও ভুলব না। তাঁর উজ্জল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

বাংলাদেশ রেলওেয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, তিনি সরকারি চাকুরী করে নিজেকে প্রমান করেছেন যে সুরুজ মিয়া একজন সৎ,আদর্শবান ও দায়ীত্বশীল একজন কর্মচারী ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের।

তিনি এতো বছরের চাকুরী জীবনে কোন লোভ-লালসার ধার-ধারেননি। সৎ পথে থেকে তিনি তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের ভবিষ্যতে পথ চলতে শিখিয়েছেন। সকলেই তার ভালটা কামনা করেন।

এ বিষয়ে কর্মকার্তা সুরুজ মিয়া জানান, ছোট বেলা থেকে বাবা-মা শিখিয়েছেন সৎ পথে চলে আর্দশবান হতে। বাবা-মায়ের কথা মত নিজেকে সে ভাবেই গড়ে তুলেছি। চেষ্টা করেছি নিজের দায়ীত্ব সঠিকভাবে পালন করতে।

৪১ বছরের চাকুরী জীবনে আমার গায়ে কোন আচ লাগতে দেইনি। এজন্য আমি সর্ব প্রথমে শুক্রিয়া আদায় করি মহান আল্লাহর দরবারে। পরে কৃতজ্ঞতা জানাই আমার শাশিুড়িকে। যিনি আমার এ চাকুরীটি পাইয়ে দিয়েছেন।

সবশেষে কৃতজ্ঞতা জানাই আমার ডিপার্টম্যান্টের উর্ধতন কর্মকর্তাদের ও সহকর্মীদের। যাদের সহযোগীতা ছাড়া এতোটা সঠিকভাবে আমার দায়ীত্ব পালন করতে পারতাম না। সকলের জন্য দোয়া করি যাতে সবাই ভাল থাকেন। সেই সাথে ধন্যবাদ জানাতে চাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যিনি একাধীকবার সরকারি চাকুরী জীবীদের চাকুরীর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন। তা না হলে এতো বছর চাকুরী করা হয়ত সম্ভব হত না।