লাইফস্টাইল ডেস্ক:: কথায় বলে জীবন নাকি জাস্ট লাইক এ জার্নি। লেখাপড়া শেষ করে চলে চাকরির জন্য যুদ্ধ। কতই না প্রচেষ্টা একটা চাকরির জন্য। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন অংশ হচ্ছে চাকরি খোঁজা। অনেকের কাছে মূলত চাকরির ইন্টারভিউ একটা ত্রাসের নামে, একে বলা হয় ইন্টারভিউ ফোবিয়া। চাকরি পেতে হলে সাধারণত বেশকিছু ধাপ অতিক্রম করতে হয়। তার মধ্যে ইন্টারভিউ অন্যতম।
একটি কোম্পানি অজস্র সিভি থেকে বাছাই করে প্রাথমিক ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকে, ইন্টারভিউয়ের পর থাকে শুধু অপেক্ষার পালা, আর সব মিলিয়ে চাকরিটা আপনি পাচ্ছেন তো এই ভাবনা কাজ করে, যা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এই চিন্তা থেকে আপনাকে মুক্তি দেবে ৭ প্রশ্ন।

আসুন জেনে নেই চাকরি ইন্টারভিউয়ের সময় ৭ প্রশ্নে বুঝে নেবেন চাকরি নিশ্চিত।

সহজ প্রশ্নে ইন্টারভিউ

চাকরিদাতা যদি আপনাকে সাধারণ প্রশ্ন যেমন- আপনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বা আপনার নিজের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে ইন্টারভিউ শেষ করে ভেবে নেবেন না চাকরিটা আপনার। ইন্টারভিউয়ার যদি শুধুমাত্র আপনার সিভিভিত্তিক আলোচনায় আটকে থাকে বুঝতে পারবেন আপনার ফার্স্ট ইম্প্রেশন ঠিক ছিল না বা অন্য কারণ আছে।

সীমিত সময়ের ইন্টারভিউ

সাক্ষাৎকার যদি বেশি সময় ধরে চলে ধরে নেবেন ইন্টারভিউয়ার আপনার সম্পর্কে আগ্রহী। প্রশ্নকর্তা যদি আপনার সম্পর্কে আগ্রহী হয় তবে তারা আপনাকে বিভিন্নভাবে যাচাইয়ের চেষ্টা করবে, আপনার বক্তব্যের প্রতি আগ্রহী হবে। আর এই আগ্রহ হয়তো দিতে পারে আপনার পরবর্তী চাকরির নিশ্চয়তা। কিন্তু প্রশ্নকর্তা আগ্রহী না হলে দ্রুত শেষ হবে আপনার ইন্টারভিউ ।

অমনোযোগী ইন্টারভিউয়ার

ইন্টারভিউয়ের শুরুতেই সাক্ষাৎকর্তা যদি আপনার কথায় অমনোযোগী হয় বুঝে নেবেন আপনার উচিত পরবর্তী ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুত হওয়া। তবে এসব ক্ষেত্রে আপনার বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর -আচরণ আপনাকে দিতে পারে সাক্ষাৎকর্তার মনোযোগ। তাই ইন্টারভিউতে অবশ্যই ভেবেচিন্তে আপনার পরবর্তী কথাটি বলবেন।

কোম্পানি বা জব বিক্রি করছেন?

চাকরিটা যেমন আপনার দরকার ঠিক তেমনি চাকরিদাতার দরকার যোগ্য ব্যক্তি। তারা যদি আপনাকে যোগ্য মনে করে তবে ইন্টারভিউতেই তারা আপনাকে কোম্পানির বর্তমান -ভবিষ্যৎ, কি রকম সুযোগ সুবিধা তারা দেবে তার সম্যক ধারণা দিয়ে দেবে। আর যদি এসব সম্পর্কে আলোচনা না হয় বুঝতে হবে আপনি তাদের পছন্দের তালিকায় নেই।

কবে থেকে যোগদান করতে পারবেন ?

যারা দক্ষ এবং যোগ্য ব্যক্তি এবং যারা নিয়মিত চাকরি বদল করেন তারা সব সময় এই প্রশ্ন শুনে থাকেন। কোম্পানি নতুন লোক নিয়োগ দেয় তখনি যখন তাদের পদ খালি হয় কিংবা অতিরিক্ত কর্মী দরকার পড়ে। কোম্পানি যদি আপনাকে সত্যি নিয়োগপত্র দেয় তবে অবশ্যই এই প্রশ্ন করবে। কেননা, নতুন একজনকে নিয়োগ দেয়া মানে নতুন পেপারওয়ার্ক, ট্রেনিংসহ অনেক কাজ যা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই এই আলোচনা টেবিলে না এলে পরবর্তী ইন্টারভিউ এর প্রস্তুতি নিন।

বেতনের ব্যাপারে কথা না হওয়া

ইন্টারভিউ যদি ভালো হয় তবে ইন্টারভিউ এর মাঝে কিংবা শেষ অংশে বেতন নিয়ে কথা হবেই। কেননা, ইন্টারভিউয়ার যদি মনে করে আপনি তাদের কোম্পানি বা টিমের জন্য যোগ্য তবে তারা আপনার সঙ্গে বেতন বিষয়ে সমঝোতায় আসতে চাইবে। যোগ্য লোক পেলেই হয় না, তাকে রাখার যোগ্যতাও দরকার। তাই যখন আপনার যোগ্যতা এবং চাহিদার সঙ্গে চাকরিদাতার ইচ্ছা মিলে যাবে, তখন বুঝতে পারবেন চাকরিটা আপনি পেয়ে গেছেন সত্যি।

অমীমাংসিতভাবে ইন্টারভিউ

যে কোনো কোম্পানি নতুন সদস্য নেয়ার ব্যাপারে যাচাই-বাছাই করে সতর্কতার সঙ্গে। তাই যে কোনো চাকরি প্রক্রিয়া কয়েক ধাপে চলে যেমন- প্রথম ধাপে ইন্টারভিউ, ট্রেনিং, যাচাইকরণ। প্রাথমিক ইন্টারভিউ যদি ঠিকমতো হয় তবে চাকরিদাতা নিজেই আপনাকে পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে জানাবেন। আপনি যদি পছন্দের তালিকার প্রথম ব্যক্তিটি হন তবে আপনাকে হয়তো পরবর্তী ধাপ যেমন ট্রেনিং, যাচাইকরণ পরীক্ষার সময় জানানো হবে। কিন্তু সাক্ষাৎকার শেষে যদি আপনাকে এই সব পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে ব্যাখ্যা না করা হয় তবে ধরে নিতেই পারেন আপনার ডাক পড়বে না ।

তাই চাকরির ইন্টারভিউ দিয়ে আসার পর যদি ওপরের সাইনগুলো মিলিয়ে দেখেন আপনার ডাক পড়ার সম্ভাবনা নেই ,তবে মন খারাপ না করে, সময় অপচয় না করে লেগে পড়ুন নতুন উদ্যমে।