ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট::

দেশের মোট জ্বালানি খরচের মধ্যে ৪৭.৮ ভাগই ব্যবহৃত হয় শিল্প খাতে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে ব্যবহৃত হয় ৩০ ভাগ জ্বালনি। অবশিষ্ট ২২.২ ভাগ জ্বালানি বাকি সব সেক্টরে ব্যবহৃত হয়। দেশে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটের কারণে জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার পক্ষে মতামত দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে শিল্পখাতে জ্বালানির ব্যবহার ৩০ ভাগে নামিয়ে আনা সম্ভব।

এদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কাজ করছে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ স্রেডো। তাদের হিসাব মতে, শিল্পখাতে জ্বালানির ব্যবহার ১৭.৮ ভাগ কমিয়ে আনার জন্য ৮ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের শিল্প মালিকরা এই বিনিয়োগে আগ্রহী নয় বা অনেকেই অপারগ। এ কারণেই এখাতে বিদেশে বিনিয়োগ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সূত্র মতে, ইতিমধ্যেই এই কাজের জন্য জাইকা ১০০ মিলিয়ন ডলার ১৪টি শিল্প খারখানায় বিনিয়োগ করেছে।আরও ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পাইপলাইনে রয়েছে।

স্রেডোর সদস্য সিদ্দিক জুবায়ের এ প্রসঙ্গে বলেন, এই খাতে বিনিয়োগের জন্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথেও আলোচনা চলছে। তাদের সারা পাওয়া গেলে দেশীয় ব্যাংকগুলোও এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি ঢাকায় আনুষ্ঠিত জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণ সচেতনতা বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে ১০ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। তাতেও আমাদের ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার কমবে। তিনি সবাইকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সম্পদ ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খরচ ২০ ভাগ কমিয়ে আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের রেকর্ড পরিমান ৮.১ ভাগ জিডিপি’র গ্রোথ হয়েছে আর এর মূল কারণ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে যখন দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল মাত্র ৪ হাজার ৯১ মেগাওয়াট সেখানে আমরা ২০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছি।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট।এরমধ্যে আমদানি করা এলএনজি দিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বলা হচ্ছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে এলএনজি আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে পাঁচ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট করা হবে। দুটি ভাসমান টার্মিনালের সঙ্গে কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে প্রতিদিন এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানির জন্য একটি স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। এর প্রথম ইউনিট চালু হবে ২০২৩ সালে। এরপর ২০৩০ সালে উৎপাদনে আসবে দ্বিতীয় ইউনিটটি। এর মাধ্যমে আরও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ বাড়বে।