গোলাম মাওলা রনি:: রাজনীতির মাঠের কুয়াশা ক্রমেই বেড়ে চলছে। সাথে শীতলতার প্রকোপও থামছে না। নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে রাজনীতি নিয়ে যে উত্তাল থাকে এবং চার দিকে উত্তালসংক্রান্ত ধূম্র যেভাবে ধূমায়িত হয়, তা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। রাজনীতির মাঠের সুনসান নীরবতা ও শীতলতা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ, শীতলতার সুযোগে দেশের রাজনীতিকে যেভাবে কুয়াশার চাদর রাহুর মতো গ্রাস করতে শুরু করেছে, তাতে এ পথের যাত্রীরা যে পথ হারাতে পারেন অথবা গন্তব্যে পৌঁছতে বিলম্ব ও বিড়ম্বনার শিকার হবেন, তা নিয়েও কম আলোচনা হচ্ছে না।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি দলের তৎপরতা, বিরোধী দলের দোটানা, যুক্তফ্রন্ট নামের নতুন একটি রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা সংশয়, ভয় ও ভীতি দেখা দিয়েছে। ফলে সরকার ও নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভাগ্য এখন কোন গ্রহে কিংবা নক্ষত্রে অবস্থান করছে, তা স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারছে না।

বাংলাদেশের রাজনীতির ময়দান বহু দিন ধরে অনুর্বর এবং কর্ষণ-অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। এই মাঠে যেমন ফসলের আবাদ হয় না তেমিন প্রকৃতিগতভাবেও গত সিকি শতাব্দীতে উল্লেখ করার মতো কোনো রাজনৈতিক ফসল ফলেনি। অধিকন্তু আর্দ্র-রসালো এবং নরম মাটির অনুর্বরতার সুযোগে সেখানে যেভাবে আগাছা-পরগাছা জন্ম নেয়, ঠিক একইভাবে দেশীয় রাজনীতির মাঠও আগাছার জঙ্গলে ভরে গেছে। জঙ্গলে যেরূপ সভ্যতা, নিয়মকানুন, ভব্যতা ইত্যাদি থাকে নাÑ তদ্রƒপ আমাদের রাজনীতিতে ওসবের দেখা মিলছে না। জঙ্গলের দঙ্গলপনা, অন্ধকার, রহস্যময়তা এবং পিলে চমকানো শব্দসমষ্টি যেরূপ পথ হারানো পথিককে বিপদগ্রস্ত করে তোলে; তেমনি আমাদের রাজনীতির মাঠে সৃষ্ট নানা অরাজকতা, ভয়, সন্ত্রাস, ইত্যাদি জনগণকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। তারা কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রের মৌলিক বিষয়াদির ওপর আস্থাশীল ও বিশ্বাসী হতে পারছে না।

একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা কিরূপ হওয়া উচিত, তা নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বহু মূল্যবান কথাবার্তা পৌরনীতির বইতে লিখে গেছেন। রাষ্ট্রটি যদি সামরিক বাহিনী শাসিত হয় এবং দেশে সামরিক আইন বহাল থাকে, তবে প্রাচীন দুনিয়ার বিস্ময়কর সামরিক প্রতিভা সানঝুর লিখিত বই পড়ে যুগ-যুগান্তরের সামরিক শাসকেরা নিজেদের কর্মপন্থা ঠিক করে নেন। কিন্তু যদি রাজা হিসেবে কোনো রাজ্যে আপন কর্তৃত্ব চালু রাখতে চান, তাহলেও তিনি নিজের ইচ্ছা বা মর্জিমাফিক অতীতের কোনো ভালো রাজা বা মন্দ রাজার ইতিহাস থেকে নিজের জন্য করণীয় ঠিক করে নেন। অন্য দিকে গণতন্ত্রÑ হোক সেটি প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির কিংবা প্রধানমন্ত্রী তথা সংসদীয় পদ্ধতির; তারও সফলতা-ব্যর্থতার বহু শত নজির রয়েছে।

এমনকি স্বৈরাচার, গুণ্ডা-বদমাস, চরিত্রহীন, লুটেরা ও লম্পট শাসকদের ইতিহাস থেকেও পরবর্তী শাসকেরা শিক্ষা নিয়ে থাকেন, যারা এমনটি করতে চান অথবা চান না। যারা হিটলারের মতো তাণ্ডব ঘটিয়ে, চেঙ্গিসের মতো কম্পন ধরিয়ে এবং তৈমুরের মতো রক্তগঙ্গা বইয়ে পৃথিবী ওলটপালট করতে চান, তারাও একান্তে তাদের মানসপিতার কর্মকাণ্ড নিয়ে গবেষণা করে নিজেদের কর্মপন্থা ঠিক করেন। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত ৩০ বছরে চিরাচরিত কোনো রীতিনীতি অনুসৃত হতে দেখা যায়নি। আমরা কবি প্রবরের সেই অমর কথামালা ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি’র অনুসরণে সব সময় অদ্ভুত, কিম্ভূতকিমাকার ও হতবাক করা রাজনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি করেছে এবং তার চেয়েও কঠিন, অবাস্তব ও নীতিবিরুদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতিকে মহা ফাঁপরের মধ্যে ফেলে দিয়েছি।

আমাদের সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধান সংবিধান প্রণয়ন কমিটি, সংবিধান গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ, তাদের প্রত্যাবর্তন, তাদের অস্ত্র-গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামাদির হিসাব-নিকাশ, স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ের বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থের হিস্যা, অবিভক্ত পাকিস্তানের জাতীয় সম্পত্তির হিস্যা, মুক্তিযোদ্ধাদের বঞ্চনা, তাদের মধ্যে বিভক্তি ইত্যাদি নিয়ে যেসব প্রশ্ন পথেঘাটে লুটোপুটি খায়; তা মুখে উচ্চারণ করা বা তা নিয়ে স্পষ্টত কিছু লেখা রীতিমতো বিবাহিত রমণীর ভাসুরের নাম মুখে নেয়ার মতো ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭৫-পূর্ববর্তী সময়কার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি, অর্থনীতি, নির্বাচনব্যবস্থা, ন্যায়বিচার; সুশাসন ও সামাজিক সাম্যতার ইতিহাস; যা আমরা এখনো সঠিকভাবে লিখতে আরম্ভ করিনি তা পর্যালোচনা করলে এ জাতির রাজনৈতিক চরিত্রের যে রূপ পাওয়া যাবে, তা কতজনের জন্য সুখকর এবং কতজনের জন্য অসুখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

পঁচাত্তর-পরবর্তী সরকারগুলোর নানান কর্মকাণ্ডের দায় থেকে এ দেশের রাজনীতি আজো মুক্তি পায়নি। জিয়া সরকার, সাত্তার সরকার এবং এরশাদ সরকারের আমলে এ দেশের নির্বাচন, ভোট, এমপি, মন্ত্রী হওয়া বা বিতাড়িত হওয়ার কাহিনী, রাজনীতিকে কলুষিত করার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা, সামরিক শাসন, সামরিক আদালত, সামরিক ফরমান এবং সামরিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অধ্যায়গুলো আমাদের জাতীয় জীবনের সুদীর্ঘ ১৫টি বছর কলঙ্কিত করে রেখেছে। পরবর্তী সময়ে আমরা সেই কলঙ্কের দায় মোচনের চেষ্টা করিনি। যার ফলে প্রকৃতি আমাদের ২০০৭ সালে কুখ্যাত ১/১১ নামের একটি নির্মম শিক্ষার মাধ্যমে যে ছবক দিয়েছে, তা থেকে আমরা কতজন শিক্ষিত হয়েছি, সেই হিসাব কারো জানা নেই। ফলে অনাগত দিনে আরো নির্মম কোনো ১/১১-এর ঘটনা আমাদেরকে নিরন্তর তাড়া করে ফিরছে।

আমাদের রাজনৈতিক জীবনের এলোমেলো পথচলার ধরন ও প্রকৃতি সর্পিল গতিকেও হার মানিয়েছে। আমরা খেয়ালখুশি মতো নিজেদের রাজনীতির স্বার্থে এমন সব ভয়ঙ্কর বাঁকা ও দুর্গম এবং দুর্বিষহ পথ ও মত তৈরি করেছি, যা কেবল রাজনৈতিক শত্রুকে শায়েস্তা করার চিন্তা থেকেই করা হয়েছিল। কিন্তু নিয়তির বিধান মতে, আমরা কেউই নিজেদের খোঁড়া গর্তের মধ্যে পতিত না হয়ে ভবলীলা সাঙ্গ করতে পারিনি। আমাদের অতীতের বহু নির্মম অভিজ্ঞতা থেকে আমরা কোনো শিক্ষা না নিয়ে নিত্যনতুন প্রযুক্তি, কলাকৌশল ও ছলাকলা প্রয়োগ করে ২০১৮ সালের রাজনীতির জন্য এমন একটি কুয়াশাচ্ছন্ন অবস্থার সৃষ্টি করছি, যেখান থেকে মাত্র দুই মাস পরে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভূত-ভবিষ্যৎ দেখা তো দূরের কথাÑ মাত্র এক দিন পর কী ঘটতে যাচ্ছে তা-ও স্পষ্ট করে বলতে পারছি না। অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। কারণ, রাজনীতি চলে অঙ্কের সূত্রের মতো। অর্থাৎ আমরা যখন অঙ্কটি সঠিকভাবে করি তখন সবার উত্তর হয় একই রকম। অথচ আমরা যখন ভুল করি তখন প্রত্যেক উত্তরদাতা একেক রকম উত্তর করে থাকেন।

আমাদের রাজনীতির মাঠটি ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকার কারণে আমরা আমাদের গন্তব্য নিয়ে উৎকণ্ঠিত ও বিচলিত। আমরা পরিস্থিতির কারণে প্রায়ই মরুভূমির মধ্যে মরীচিকা এবং শস্য-শ্যামল ভূমিতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত দেখতে পাই। বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া ছাত্রছাত্রীদের কোটাবিরোধী আন্দোলন কিংবা স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েদের নিরাপদ সড়কের জন্য রাস্তায় নেমে আসার মধ্যে রাজনীতির পরস্পর বিরোধী পক্ষগুলোর বিপরীতধর্মী হেতু খুঁজে বেড়ানো সে কত বড় রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। একইভাবে জঙ্গি দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম ইত্যাদির মধ্যে রাজনীতি ঢুকিয়ে শ্রেণিশত্রু খতম করার যে অপচেষ্টা আমরা স্বাধীনতার পর থেকে আজ অবধি অব্যাহত চালিয়ে আসছি, তার পরিণতির ভার বহন করা আমাদের জন্য সত্যিই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। আমাদের অনাচার, অপসংস্কৃতি ও অপকর্ম একত্র হয়ে আমাদের মনের মধ্যে এমন ঘৃণা-বিদ্বেষ ও ক্রোধ পুঞ্জীভূত করেছে; যার কারণে আমরা ক্ষমা, মানবতা ও মহানুভবতার কথা ভুলে গিয়ে চোখেমুখে ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ গ্রহণের বিজলি জ্বালিয়ে অন্ধকার পথে ঘুরে বেড়াচ্ছি।

আমাদের রাজনীতির উল্লিখিত বাস্তবতা সামনে রেখেই আমাদেরকে হয়তো একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ মুহূর্তে ক্ষমতাসীন শিবির এবং বিরোধী শিবিরে যে রাজনৈতিক মেরুকরণ হচ্ছে তা উদ্ভূত পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ১৫ বছর ধরে যে রাজনৈতিক সমীকরণ ও রসায়ন সৃষ্টি করেছিল, তাও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভেঙে পড়ে কি না, তা দেখার জন্য দেশবাসীকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সরকার ১০টি বছর ধরে প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক বন্ধনে ফাটল ধরানোর জন্য। অন্য দিকে, একই সময়ে বিএনপিও চাচ্ছিল দেশের প্রগতিবাদী ও সুশীল বলে বিবেচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিরা তাদের জোটে অংশগ্রহণ করুক। তারা বিভিন্ন সময় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, সিপিবি, বাসদ, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, বিভিন্ন ইসলামিক দল, গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের সঙ্গে গোপনে ও প্রকাশ্যে যোগাযোগ করেছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অতীত চেষ্টাগুলো সম্ভবত খণ্ডিত আকারে বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে। যার ফলে উভয় রাজনৈতিক জোটের জন্য হিতে বিপরীত ফল ডেকে আনতে পারে।

আওয়ামী লীগ তাদের মহাজোটের পরিধি বাড়ানোর জন্য হঠাৎ করে ভীষণ তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে, যা কিনা তাদের এত দিনের কথা ও কাজের সঙ্গে সরাসরি সঙ্ঘাত সৃষ্টি করবে।

মহাজোটের অংশীদার শরিক দলগুলোর বাড়তি চাহিদা, দাবি-দাওয়া এবং অভাব-অভিযোগের সঙ্গে যদি নতুন করে অখ্যাত দল ও ব্যক্তিদের দাপটে মূল দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা মনোনয়ন-বঞ্চিত হন, তবে নির্বাচনী মাঠের বিশৃঙ্খলা কেউ ঠেকাতে পারবে না। বিএনপি জোটেও প্রায় একই পরিণতি ঘটতে যাচ্ছে। নবগঠিত যুক্তফ্রন্ট অথবা বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যে বলে দিয়েছেন, তারা জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি বা নির্বাচন কোনোটি করতেই আগ্রহী নয়। তাদের কথার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি স্পষ্ট করে কিছু না বললেও এ কথা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, বিএনপি যেকোনো মূল্যে যুক্তফ্রন্টের সাথে ঐক্য করতে ইচ্ছুক। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ হয়তো কৌশলগতভাবে জামায়াতকে দূরে রাখবে, কিন্তু নীতিগতভাবে পর্দার আড়াল থেকে জামায়াতের সঙ্গে মিত্রতা অটুট রাখবে।

জামায়াতকে কেন্দ্র করে যুক্তফ্রন্ট ও বিএনপির নয়া উদ্যোগ নিশ্চিতভাবে ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না। কারণ, বিএনপি থেকে জামায়াত বিযুক্ত হলে তা শেষ অবধি সরকারের পক্ষে চলে যাবে এবং রাজনীতিতে একটি শূন্যতা সৃষ্টি করবে। এ দেশে জামায়াত-বিএনপির যুগপৎ রাজনীতির ইতিহাস বনাম আওয়ামী লীগ ও বাম ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক ঐক্য এ যাবৎকালে যে বোধ ও বিশ্বাস সৃষ্টি করেছে, তার সাধারণ কতগুলো সমীকরণ ইতোমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সব সময় বলে বেড়ান, দেশের রাজনীতি আজ দুই ভাগে বিভক্ত। এক দিকে আওয়ামী লীগ এবং অন্য দিকে আওয়ামীবিরোধী শিবির। তারা কোনো নীতি ও আদর্শের কথা না বলে কেবল আওয়ামী লীগকে সমর্থন অথবা আওয়ামী লীগের বিরোধিতার ভিত্তিতে দেশের রাজনীতির মধ্যে সম্ভবত বিভক্তির দেয়াল তুলে দিয়েছেন। কাজেই আওয়ামীবিরোধী শিবির যদি আবার নিজেদের মধ্যে আরো কয়েকটি বিভক্তির দেয়াল তুলে দেয়, তবে পরিণতি কী হবে তা সহজেই অনুমেয়।

দেশের সার্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপি এবং নবগঠিত যুক্তফ্রন্ট বর্তমান সরকারের মেজাজ-মর্জি এবং সরকারি প্রচারযন্ত্রের প্রপাগান্ডার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস পাচ্ছে না। জামায়াতের ব্যাপারে যুক্তফ্রন্টের অস্পষ্ট ও এলোমোলো বক্তব্য, এককভাবে তাদেরকে দুই বছর ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ দান এবং সংসদে ১৫০টি আসন বরাদ্দ প্রদানের দাবিনামা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেসব রসঘন আলোচনা হচ্ছে, তা যদি যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ পাত্তা না দেন, তবে আগামী দিনে এই জোটের সফলতা নিয়ে সংশয় থেকে যাবে।
লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য
সুত্র-নয়াদিগন্ত