সালাহউদ্দিন বাবর: রাজনৈতিক অঙ্গনে যাতে অনাচার অসততা প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য দলগুলোর সজাগ ও সতর্কতা অবলম্বনের জন্য একটি শুদ্ধাচার অভিযান চলমান রাখা জরুরি। ইতোমধ্যে লক্ষ করা গেছে রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে নারী নির্যাতনের অভিযোগ এবং মাদকের নীল দংশনের ছোঁয়া লাগার খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদকের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যারা জাতিকে নেতৃত্ব দেবে এবং যারা অপরাধ দমন করবে তারাই যদি অসৎ হয়ে ওঠে, তবে কার ওপর দেশ ভরসা করবে। সমাজের এই অবক্ষয়ের সূচনা হয় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় শিথিলতা এবং নৈতিকতার ঘাটতি হলে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় শিথিলতা এবং নৈতিকতার দৈন্য যে এখন চলছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এখন নাজুক পর্যায়ে। একটি জাতীয় দৈনিকে এক উদ্বেগজনক খবর প্রকাশিত হয়েছে, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১০ দিনে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন ঘটনা কেন্দ্র করে ৭২ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলাও হয়েছে। এই ৭২ জনের একটি বড় অংশ খোদ ক্ষমতাসীন দলের সদস্য। নিজেদের মধ্যে কোন্দলে তারা নিহত হয়েছেন। নিজ দলের লোক যখন নিজেদের হাতে নিহত হন, তখন বুঝতে হবে পরস্পরের সম্পর্ক কতটা সঙ্গিন, দলীয় সংহতি কতটা ভঙ্গুর।

সরকারি মহল থেকে উন্নয়নের ব্যাপারে নানা তথ্য-উপাত্ত দেয়া হচ্ছে। উন্নয়ন কতটা হয়েছে সে বিতর্কে না গিয়ে সাধারণভাবে বলা যায়, উন্নয়নের পরশ যেন সবার গা স্পর্শ করে। সবখানে তার ছোঁয়া লেগেছে এবং তা যেন দেখা যায়। আর এটাও ঠিক উন্নয়ন যেন কোনো শ্রেণী বা গোষ্ঠীর মধ্যে ঘুরপাক না খায়। উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক বিচারে হলে চলবে না। এর বহুমাত্রিক বিস্তার ঘটাতে হবে। এখন একটি বিষয় নিয়ে দেশে এন্তার আলোচনা হচ্ছে, তা হচ্ছে দুর্নীতি। যেখানে অর্থবিত্তের বিষয় থাকে সেখানেই দুর্নীতির কালো হাত সম্প্রসারিত হচ্ছে। নৈতিকতার ঘরে যে দেউলিয়াত্ব তা প্রকাশ পাচ্ছে। নৈতিকতার চর্চার উন্নয়ন নেই বলে উন্নয়নের অর্থ এসব ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি প্রতিরোধকারী সংস্থাগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবে তাদের কাজের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। অনিয়ম ও দুর্নীতি শুধু অর্থনীতির ক্ষেত্রে নয়, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে তা মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ করে বিভিন্ন পরীক্ষাব্যবস্থায় তার কালো হাত বিস্তার ঘটিয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিয়ে নৈতিকতার চরম অবক্ষয় ঘটিয়েছে। এই অবস্থা রোধ করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। অনৈতিকতার কাছে প্রশাসনের এমন পরাজয় থেকে এটাই সাব্যস্ত হয় যে, সার্বিক উন্নয়নে দেশ কতটা পিছিয়ে রয়েছে। নৈতিকতার শিক্ষায় কতটা দৈন্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন না হলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না।

রাষ্ট্রীয় প্রশাসন যে সুষ্ঠুভাবে চলছে না, জনকল্যাণের প্রশাসনব্যবস্থা যে অত্যন্ত দুর্বল ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে তার উদাহরণ ইদানীং লক্ষ করা যাচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের আন্দোলন থেকে। বিভিন্ন দাবিতে, চাকরি স্থায়ীকরণ, বেতন নিয়মিতকরণসহ বঞ্চিত মানুষ আন্দোলন করছে। এর মধ্যে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকেরা দীর্ঘ দিন পর্যন্ত তাদের দাবি পূরণের লক্ষে অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা পৌরসভাগুলো বিভিন্ন সঙ্কটে রয়েছে। এর মধ্যে আর্থিক সঙ্কটই প্রধান। দেশের ৭৬ শতাংশ পৌরসভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাকি পড়ে আছে দুই মাস থেকে ৫৮ মাসের। বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন তারা। দেশের ৩২৭টি পৌরসভার মধ্যে ২২৬টিতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাকি রয়েছে। পৌরসভাগুলোতে ৩২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করতে বছরে প্রয়োজন ৯৪৭ কোটি টাকা। এ জন্য সরকারি বরাদ্দ মাত্র ০.৪৫ শতাংশ। বহু সরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানে হাজারো সমস্যা রয়েছে। কিন্তু তার কোনো সুরাহা নেই। আর তাতে ভুগছে লাখ লাখ মানুষ। এসব সমস্যা দেশে সুশাসনের অভাব প্রমাণ করে। সরকার দেশে উন্নয়নের কথা বলছে, অপর দিকে বেসুমার মানুষ কষ্টে দিন যাপন করছে।

প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্রম খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ বছর আগে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল একসাথে সারা দেশে ২৬ হাজার প্রাথমিক স্কুলকে জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে, কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলোর হাল অত্যন্ত নাজুক। কোথাও স্কুলঘর নেই, শিক্ষকের স্বল্পতা, শিক্ষকদের বেতনভাতার কোনো নিশ্চয়তা নেই। শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের এমন দীনহীন অবস্থায় রেখে যদি উন্নয়নের কথা বলা হয় সেটা তো সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না।

দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যম জনকল্যাণমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার জন্য কতগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেমন বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ। কিছু দিন আগে বিচার বিভাগের সাথে নির্বাহী বিভাগের টানাপড়েন চলছিল, সেটা এখন নেই বটে কিন্তু নিম্ন আদালতে স্বাধীনতার বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। অপর দিকে, আইন বিভাগের এমন সক্ষমতা নেই যে, তারা নির্বাহী বিভাগকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারে। সাংগঠনিকভাবে আইন বিভাগ এখন অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এটা শুধু সাম্প্রতিককালের বিষয় নয়, দীর্ঘ দিন থেকে এমন ধারায় চলে এসেছে। আইনসভার সদস্যদের সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিকব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিরোধী দলের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হয়। কিন্তু সংসদে তথা আইন সভায় যে বিরোধী দল রয়েছে, তাদের অবস্থান খোদ সরকারে না অন্যত্র, তাই তারা জানেন না।

সম্প্রতি আইনসভার কথিত বিরোধী দলের নেত্রী তাদের অবস্থান কোথায় তা জানতে চেয়েছেন সরকারের কাছে। এ এক হাস্যকর ব্যাপার। এ থেকেই বোঝা যায়, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার অবস্থান কোথায়। নির্বাহী বিভাগের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে তাকে শোধরানোর পথ দেখানোর দায়িত্ব সংসদে বিরোধী দলের। কিন্তু সে অবস্থা এখন আর নেই। ফলে সরকার যাই করে সেটাই চলছে।
একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে ক্ষমতাসীনদের অনেক কিছু অনুশীলন করতে হয়। এর মধ্যে মৌলিক অনেক বিষয় রয়েছে। তার একটা হলো সরকারকে ন্যায়ের পক্ষে অবস্থা নিতে হবে, আর অন্যায়কে প্রতিরোধ করতে হবে। সুবিচারকে সমুন্নত করতে সব দুর্বলতার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। কিন্তু এখন প্রশাসন পরিচালনাকারীরা সুবিচারকে সমুন্নত করতে পারেননি। এখানে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের বহু নজির রয়েছে। ফলে আইনের কাছে সবাই সমান আনুকূল্য পায় না। এই দুঃখ ক্ষোভ সমাজে বিরাজ করছে। বিশেষ করে সরকারের প্রতিপক্ষের এ ব্যাপারে বহু অভিযোগ রয়েছে। রাজনীতির অঙ্গনে সরকারের প্রতিপক্ষ শক্তি তাদের সাথে সবসময় বৈষম্যমূলক আচরণ করার কথা বলে আসছে। অথচ কথায় বলে সমালোচকেরা সরকারের বন্ধু। কিন্তু এখানে সমালোচনাকারীরা তাদের প্রতিপক্ষের কাছে বন্ধু নয় বরং শত্রুতুল্য। ভুল ধরাকে যদি শত্রুজ্ঞান করা হয় তবে শুদ্ধাচারের সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তাতে ভুলভ্রান্তিতে চলমান সমাজ কলুষিত হবে। তার দায়ভাগ প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।
একটি রাষ্ট্রে তার সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের নির্যাতন থেকে মুক্ত রাখা তার দায়িত্ব। কিন্তু সে দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালিত হচ্ছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দেয়া এক তথ্যে জানা যায়, গত বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১৭৩৭ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সরকারি সংস্থা পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, দশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশের ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ মেয়ে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বিবাহিত জীবনে কোনো না কোনো সময়ে আর্থিক শারীরিক কিংবা যৌন নির্যাতনের শিকার ৮০ দশমিক ২ শতাংশ নারী। যৌন নিপীড়ন ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা : ‘নারী পুরুষের সমতাভিত্তিক মানবিক সমাজ, রাষ্ট্র গঠন করো’ এই স্লোগান সামনে রেখে কাজ করার অনুরোধ মহিলা পরিষদের। বাংলাদেশে নারীস্বাধীনতা রয়েছে, নারীরা পুরুষের সাথে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ পাচ্ছে। দেশের রাজনীতিতে নারীদের অবদান রয়েছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের স্পিকার সংসদে বিরোধীদলের নেতা সবাই নারী। কিন্তু পাশাপাশি এখানে নারী নির্যাতন রয়েছে। কারণ নৈতিক শিক্ষার অভাব। দেশে নারীরা বহু ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে এটা ঠিক। যে সমাজে নারীদের অবাধ স্বাধীনতা ও ক্ষমতা সেখানে নারীদের যৌন পল্লীতে দেহ বিকিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে। এসব দুর্ভাগা নারীকে সমাজে পুনর্বাসন করার মানবিক উদ্যোগ কবে নেয়া হবে।

এমন অব্যবস্থা নিয়ে দেশ চলছে। ১৬ কোটি মানুষের দেশ, হাজারো সমস্যা এখানে। এ থেকে বেরিয়ে আসার লড়াইয়ে পথ দেখাবে কোন সে সৎ ও সাহসী মানুষ। জনগণ এমন এক নেতৃত্বের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে। আর এ কথা সত্য, এমন সৎ সাহসী মানুষ আকাশ থেকে নামবে না। আমাদের মধ্য থেকেই তারা আসবে যারা ভালো কাজ করতে চায়, তারা কদাচিৎ যেচে এগিয়ে আসে, তাদের খুঁজে বের করতে হয়। সভ্যসমাজে এই খোঁজার প্রক্রিয়া হচ্ছে নির্বাচন। দেশ এখন সেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার দ্বারপ্রান্তে। নেতৃত্ব বাছাইয়ের এই কাজে দেশের যারা প্রকৃত মালিক তারা যাতে স্বাধীনভাবে সে কাজ করতে পারেন তথা নির্বাচনে অবাধে নিজেদের পছন্দের নেতাদের বেছে নেয়ার সুযোগ পান সে ব্যবস্থা করতে হবে। এই বাছাইপর্ব সুষ্ঠু করার দায়িত্ব যাদের সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের এ ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তা না হলে মানুষের মধ্যে আক্ষেপ থাকবে বাছাইপর্বটি ভালো হলো না। এ পর্যন্ত যারা দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন, সততা নিষ্ঠা এবং যোগ্যতার বিপুল ঘাটতি ছিল তাদের। তারা ক্ষমতার চর্চা করেছেন। যারা তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতাসীন করেছে তাদের কল্যাণে তারা মনোযোগী ছিলেন না। আগামীতে এমন উদাহরণের অবসান করা অপরিহার্য। বাছাইপর্বের পর যারা ক্ষমতাসীন হবেন, আর যারা বাছাই করবেন তাদের কাজ শেষ হয়ে যাওয়া উচিত নয়। যারা ক্ষমতায় যাবেন, তারা কল্যাণের পথে অগ্রসর হবেন। যারা ভোট দিয়ে নেতা বানিয়েছে তাদের সজাগ থাকতে হবে।

বিএনপি নেত্রীর এখন ৩৭টি মামলার বিচার হচ্ছে। এর মধ্যে এক মামলায় তার সাজা চলছে। যে আইনে মানুষের দণ্ড হয় বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের, সেই আইন প্রণয়ন করেন রাজনীতিকরাই। আর এ আইনে বিচার হয় সবার। তাই প্রশ্ন, প্রণীত সে আইন কতটা নির্মোহ, কতটা সমাজিক সুবিচার ও কল্যাণের জন্য। শুধু তাই নয়, নির্বাহী বিভাগের দৃষ্টিটা কোন ধরনের, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন পরিচালনায় মূল কাজটা কিন্তু আমলা শ্রেণীর। নীতিনির্ধারণ করেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।

রাজনীতিকরা নানা চাপে থাকেন আর প্রশাসন পরিচালনায় অভিজ্ঞতাও কম। তাই এ ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ভুলত্রুটি হলে আমলাদের পথ দেখানোর জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখা উচিত। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে আমলারা তাদের বিবেচনা অনুসারে সঠিকভাবে রাজনীতিকদের পথ দেখাতে এগিয়ে যান না। সে যাই হোক, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিচারের বিষয়টির সাথে দলটির ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপ্রবাহ অনেকখানি নির্ভর করবে। বড় দলের রাজনীতি অবশ্যই গোটা দেশের রাজনীতির ওপর প্রভাব ফেলবে। নেত্রীর মামলা মাথায় নিয়ে বিশেষ করে আটক হওয়ায় তাদের নির্বাচনে অংশ নেয়া কতটা সম্ভব হবে সেটা বিবেচনার বিষয়। তারা যদি নির্বাচনে আসতে না পারে তবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের যে জাতীয় প্রত্যাশা সেটা সফল হবে না। সে ক্ষেত্রে গোটা রাজনীতির অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীনেরা দেশের গোটা অবস্থাটাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছে।

লেখক-সালাহউদ্দিন বাবর
সুত্র-নয়া দিগন্ত