সালাহউদ্দিন বাবর:
বাংলাদেশের রাজনীতির হাল কেমন, এ প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। চলতি বছরটি নির্বাচনের বছর, আর খুব বেশি সময়ও নেই নির্বাচনের। কিন্তু সে অনুযায়ী জাতীয় রাজনীতি তেমন চাঙ্গা নয়। দেশের রাজনীতির অঙ্গনে প্রধানত দুটি শক্তি রয়েছে। এই দুই পক্ষ যদি সক্রিয় না থাকে, তবে রাজনীতি প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে না। এমনকি, একটি শক্তিও যদি সক্রিয় হতে না পারে তাতেও রাজনীতির অঙ্গন সচল হবে না। পাখি যেমন এক ডানা নিয়ে উড়তে পারে না এখানকার রাজনীতিও তেমনি। রাজনীতির অঙ্গন হতে হবে গঠনমূলক আলোচনা সমালোচনায় মুখর। ক্ষমতায় যারা থাকবেন তারা জনগণের জন্য কাজ করবেন, সে কাজের ভুলত্রুটি ধরবে সরকারের প্রতিপক্ষ। তাতেই রাজনীতি হয়ে উঠবে মুখর। এতে প্রশাসনও গতি পাবে। কিন্তু সব কিছুই এখন যেন গতি হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে, প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে হাজারো সমস্যায় ফেলে রাখা হয়েছে। দলনেত্রী বেগম জিয়াকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য নেতাদের শত শত মামলার জালে জড়িয়ে রাখা হয়েছে দীর্ঘ দিন। এর মাঝেও তারা বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থী দিয়ে কাজ করছেন সাধ্যমতো।

আওয়ামী লীগের মহাজোটের শরিক ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের সহযোগী, জাতীয় পার্টির প্রধান এবং মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত, সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ সম্প্রতি রংপুরে জেলা জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে বক্তব্যদানকালে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে দেশের মানুষ অস্থির হয়ে গেছে। মানুষের শ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা শূন্য। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তারা নির্বাচিত হবে না।’ এতদিনে জাতীয় পার্টির বোধোদয় হলো, নাকি মেকি সরকারবিরোধী হওয়ার চেষ্টা করছে? জাপার প্রধান এরশাদ ইদানীং বিভিন্ন জনসমাবেশে আওয়ামী লীগ সরকারের বেফাঁস ও উপভোগ্য সমালোচনা করছেন। তবে কখনো কখনো কড়া কথা বলে তা বলেননি বলে আপত্তিও করছেন। অবশ্য তার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়া নতুন কিছু নয়। অতীতে বহুবার তিনি এমনটা করেছেন। আবার বক্তব্য দেয়ার পর তা বেকায়দা হয়ে যায় কি না, ভেবে উল্টো কথা বলেন। তবে জাতীয় পার্টি রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে স্বতন্ত্র অবস্থান নেবে, এমন অবস্থা তাদের নেই। মূলত রংপুর জেলাভিত্তিক দলটির দেশের অন্যত্র তেমন কোনো ভিত্তি আর নেই। বিগত বহু বছর আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভর করে দলটি বস্তুত এখন একা চলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।

সম্প্রতি বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো অশুভ শক্তি যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে। দেশবাসীর মতে, ‘অশুভ শক্তি’র পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের এ ব্যাপারে বেশি সতর্ক থাকা দরকার। এ দেশের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, জনগণ নয়, রাজনৈতিক নেতাদের অনাকাক্সিক্ষত ভূমিকার কারণেই অসাংবিধানিক সরকার বারবার ক্ষমতায় এসেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির নেতা এরশাদ ’৮২ সালে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে প্রায় এক দশক রাষ্ট্রক্ষমতা কব্জায় রেখে ছিলেন। একটি সদ্য নির্বাচিত সরকারকে তদানীন্তন সেনাপ্রধান হিসেবে জাতীয় পার্টি নেতা জেনারেল এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন। এ কারণে তার রাজনীতিতে পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের স্বার্থেই সবার উচিত ছিল প্রবল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। কিন্তু সেই ঐক্য সে সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা যায়নি। এই বিভেদ দেশের রাজনীতিতে একটা ক্ষত সৃষ্টি করে রেখেছে। আওয়ামী লীগের জন্য সঠিক হবে, তাদের সাথে অতীতে ক্ষত সৃষ্টিকারীদের সম্পর্ক ছিন্ন করা।

নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও জনমনে সন্দেহ-সংশয় এবং বিতর্ক শেষ হচ্ছে না। একটি অবাধ নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকাটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। নির্বাচন হচ্ছে দেশের প্রকৃত মালিক, জনগণের মত প্রকাশের তথা প্রতিনিধি বাছাইয়ের একটি প্রক্রিয়া। তাই সেই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ প্রশ্নহীন করা সব মহলের একান্ত কর্তব্য। এখানে দ্বিমত করার কোনো অবকাশ থাকতে পারে না। মানসম্পন্ন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব একটি নিরপেক্ষ সরকারের এবং নির্বাচন কমিশনের। অথচ এই দু’টি নিয়েই যত মতপার্থক্য। এখনকার ক্ষমতাসীন সরকারের স্পষ্ট অভিমত হচ্ছে, তাদের অধীনেই সংসদ নির্বাচন হবে। অথচ তাদের বিরোধী পক্ষের অভিযোগ হচ্ছে, তারা নিরপেক্ষ নন। তাই নিজেদের বিজয়ী করতে তারা কারসাজি করবেন। তাতে নির্বাচনে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে না।’ আর কমিশনের ব্যাপারে বক্তব্য হচ্ছে, অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দেশের সংবিধান যে বিপুল ক্ষমতা তাদের দিয়েছে তা প্রয়োগ না করে তারা বর্তমান প্রশাসনের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে তাদের ভূমিকা প্রশ্নবোধক করে তোলেন। বহু বিষয়ে আমরা ভারতের উদাহরণ দিয়ে থাকি, আর সে দেশের ভালো উদাহরণ অবশ্যই অনুসরণ করা যেতে পারে। ভারত বিশ্বে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। গণতন্ত্রের প্রাণ নির্বাচন, সে দেশে অত্যন্ত অবাধ নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন হয়ে থাকে। ফলে নির্বাচন নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন থাকে না। আমাদের নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে, ভারতের কমিশনের মতো সাহসী ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে নিজেদের ভাবমর্যাদা বৃদ্ধি করা।

দেশের যে সার্বিক অবস্থা তাতে রাজনৈতিক অঙ্গনে অবিলম্বে পর্যাপ্ত সমঝোতা খুবই জরুরি। এই সমঝোতার জন্য একটি জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠান করা খুবই প্রয়োজন। বিশেষ করে এ বছরে যে নির্বাচন হবে সে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য যে অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি হওয়া দরকার, তার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্যে সংলাপ দরকার। নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যে সঙ্কট চলছে সে অবস্থার অবসান হওয়া দরকার। এ সঙ্কট দেশের রাজনীতিতে প্রায় অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে। এমন পরিবেশ দেশের জন্য মোটেও কল্যাণকর নয়। সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলের রাজনীতির জন্য অবশ্যই রাজনীতিতে সমঝোতার পরিবেশ থাকা দরকার। সবাইকে বুঝতে হবে, দেশ সরকার একা চালায় না এবং কেবল সরকারের স্বার্থ রক্ষাই যথেষ্ট নয়। তাদের ত্রুটিবিচ্যুতি চিহ্নিত করে সংশোধনের জন্য প্রতিপক্ষ থাকা দরকার, যা এখন নেই। আর তাই সংলাপ খুব প্রয়োজনীয়। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তা ফলপ্রসূ হবে- এমন ভরসা করা যায় না। কারণ বিএনপি সংলাপের ব্যাপারে আগ্রহী এবং দাবিও করেছে এ জন্য, কিন্তু ক্ষমতাসীনেরা সংলাপের ব্যাপারে উৎসাহী নন। তা ছাড়া এ দেশে অতীতে সংলাপের ফল ভালো হয়নি। এসবের পরও আশা করা উচিত যেন সবার শুভবুদ্ধির উদয় ঘটে। আগামী নির্বাচনে দেশে যারা ক্ষমতায় আসবেন অর্থাৎ, জনগণ যাদের ক্ষমতাসীন করবে, তারা যাতে একটি সুস্থ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা এখনই হওয়া দরকার। আর এ জন্য শর্ত হলো প্রশ্নহীন নির্বাচন। বাংলাদেশ উন্নয়নের মোটামুটি একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে। তা যাতে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে, এ জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া দরকার। সে পরিবেশ অর্জিত হবে প্রশ্নহীন নির্বাচনের মাধ্যমে।

খুলনা ও গাজীপুরের মতো দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব নির্বাচনের গুরুত্ব বেড়ে যায়। বিশেষ করে এসব নির্বাচন কিভাবে হবে, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ এবং নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণভাবে হয়, সেটা সবাই পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধান দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠুভাবে হতে পারে সেটা আগামী জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এসব বিবেচনায় সিটি করপোরেশন নির্বাচন দু’টি তাৎপর্যপূর্ণ। তবে জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কিনা সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। অবশ্য সিটি করপোরেশন দু’টির নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে। সেখানে বিএনপির মেয়র প্রার্থী রয়েছেন।

বিএনপির আপত্তি হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হতে পারবে না। কারণ সে নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হলে সেখানে প্রভাব বিস্তারসহ ক্ষমতাসীনেরা প্রশাসনকে ব্যবহার করে থাকেন। অতীতে এমন নজির রয়েছে অনেক। পক্ষান্তরে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যতগুলো জাতীয় নির্বাচন হয়েছে, তাতে কোনো অনিয়ম হয়নি। দেশের মানুষ এই পদ্ধতিতে নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহ ও উৎসাহ দেখিয়েছিল। কিন্তু শেষে সর্বোচ্চ আদালত এই পদ্ধতি বাতিল করে দেন। সেই থেকে বিএনপি নির্বাচন সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। আর এ ব্যবস্থা ভিন্ন তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। এখন এটা রাজনীতিতে আলোচনার বড় একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, আমাদের দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর দেশের বাইরেও আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য যারা উৎসাহী তারা এখানে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ কামনা করেন। মোট কথা, আগামী জাতীয় নির্বাচন সব দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও, সাধারণ নির্বাচনে তারা কী করবে তা স্পষ্ট নয়। নির্বাচনসহায়ক সরকার এবং দলনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অংশ নেয়া ছাড়া বিএনপি অংশ নেবে বলে মনে হয় না। এমনটি তারা বলে আসছেন। এদিকে সরকার বেগম জিয়ার জামিন না পাওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি করতে একের পর এক মামলা এবং হুলিয়া জারি করে যাচ্ছে। অথচ এটা প্রতিহিংসার পরিচায়ক। এমন মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার এবং তার দলের জনপ্রিয়তা নিয়ে সরকার ভীত হয়ে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। বেগম জিয়া দেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিন দফা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন। তার নেতৃত্বে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বেগম জিয়ার আমলেই দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে সন্নিবেশিত করা হয়। আর এই ব্যবস্থার অধীনে অতীতের সব অনিয়ম ঘুচিয়ে দিয়ে দেশে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অথচ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ কখনোই বিএনপির এসব বিরাট কৃতিত্বকে স্বীকার করে না।

আগামীতে যদি বিএনপির সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তবে তাদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে তাদের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে হবে। মহাজোট অবশ্যই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে আটঘাট বেঁধে নামতে হবে। শুধু বিশ দলীয় জোটই নয়, এর বাইরে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নেতৃত্বে কয়েকটি দল রয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে এসব দলের ও তাদের নেতাদের বিশেষ অবস্থান রয়েছে। এই দলগুলো নিয়ে যদি আগামী নির্বাচনী জোট গড়া হয়, তবে সেটা জনগণের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে। আওয়ামী লীগ যেমন তার মিত্রদের নিয়ে সরকার চালাচ্ছে, এমনটি বিএনপির বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন বলে ধারণা করা যায়। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্য রচনার প্রয়াস চালালে জনগণ এটাকে অবশ্যই স্বাগত জানাবে।

আগামী নির্বাচনে সব দলের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, ২০০৮ থেকে ২০১৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত গত প্রায় দশ বছরের মতো সময় যত নতুন ভোটার হয়েছে, তাদের মনমানসকে বিবেচনায় নিতে হবে। এই বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটার আগামী নির্বাচনে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটকে এ ব্যাপারে ভাবতে হবে। এই নবীনদের ভোট তারা কিভাবে পেতে পারে এটা অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক বলয়েও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট রয়েছে। আওয়ামী লীগের সেখানে শক্ত অবস্থান। বিষয়টি উপলব্ধি করে বিএনপির অগ্রসর হওয়া উচিত। সুত্র-নয়াদিগন্ত