ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদ থেকে ১৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার খাড়াংকালি ও শাহপরীর দ্বীপ থেকে উদ্ধার হওয়া ওই মৃতদেহগুলো মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন।

তিনি বলেন, নাফ নদ হয়ে ভেসে আসা ১৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। যাদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ, তিনজন নারী ও দুটি শিশু রয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, মৃতদেহের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতেরর চিহ্ন রয়েছে। উদ্ধারের পর মৃতদেহগুলো স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ওইসব এলাকায় রাখা হয়েছে।

টেকনাফ থানার ওসি মো. মাইনউদ্দিন খান জানান, এ নিয়ে ৩ দিনে ৩৯ জন রোহিঙ্গার মৃতদেহ উদ্ধার হলো।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নুর অালম বলেন, এগুলো রাখাইন রাজ্যে সহিসংসতার ঘটনায় হত্যার শিকার হওয়া ব্যক্তিদেরই মৃতদেহ। সেখানে হত্যার পর তাদের নাফ নদে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পথে সাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় কক্সবাজারের টেকনাফে ১৯ রোহিঙ্গার মরদেহ পাওয়া যায়।

বুধবার রাতে ও ভোরে রোহিঙ্গা বোঝাই তিনটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এরপর শাহপরীর দ্বীপ এলাকার মাজারপাড়া তীর থেকে ওই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

গত সপ্তাহে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনাঘাঁটিতে সমন্বিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে অন্তত ৮৯ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বাকি ৫৯ জন ‘রোহিঙ্গা মুসলিম বিদ্রোহী’ বলে দেশটির সরকার ও সেনাবাহিনী নিশ্চিত করে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরে সীমান্তরক্ষীদের চৌকিতে হামলার পরেই রাখাইনের গ্রামে-গ্রামে অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। এ সময় নির্বিচারে রোহিঙ্গা হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মত মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয় বলে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠে।

সেনা অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে গত অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। গত কয়েক দশকে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে দাবি সরকারের। তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ। তবে এখনো প্রত্যাশিত সাড়া দেয়নি মিয়ানমার।