ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় নিহত শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া আক্তার মিম ও আব্দুল করিম রাজীবের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে দেবেন জাবালে নূর কর্তৃপক্ষ।

বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রোববার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দাখিল করা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পরে আদালত এ বিষয়ে জারি করা রুলের শুনানির জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। আদালতে রোববার জাবালে নূর কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু। দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পক্ষে শুনানি করেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

পরে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, বিআরটিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস কোম্পানি জাবালে নূর দুই পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে দেবে। এ জন্য তারা সময় চেয়েছিল। আদালত সময় দেননি। তাদের এই টাকা দ্রুত পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের কাছে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী মিম ও আব্দুল করিম নিহত হয়। পরদিন নিহতের পরিবারকে দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটের শুনানি নিয়ে ওইদিন হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি দিয়া আক্তার মিম ও আব্দুল করিমের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এক সপ্তাহের মধ্যে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাসের মালিককে এই টাকা দিতে বলা হয়। এ ছাড়া বাসচাপায় আহতদের চিকিৎসার সব ব্যয় বহন করতেও আদালত বাস মালিক ও বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। সেইসঙ্গে এই আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনায় গত ১ আগস্ট জাবালে নূর পরিবহনের দায় নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। কমিটির সদস্যরা হলেন- বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান, অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। এই কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দুর্ঘটনার জন্য অভিযুক্তদের দায় নিরূপণ করে আগামী ৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এতে সহায়তা করবে পুলিশ কমিশনার ও বিআরটিএ।